সুস্থ থাকতে পানি খাবেন যেসব নিয়ম মেনে

প্রকাশিতঃ ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ, শনি, ১৪ নভেম্বর ২০

লাইফস্টাইল ডেস্ক : এমনকি ৫–৬ লিটার পর্যন্ত পানি খেতে পারেন। তবে ঠান্ডা ঘরে এসির মধ্যে শুয়ে–বসে থাকা মানুষ যদি লিটার লিটার পানি খেতে শুরু করেন, সমস্যা আছে। কম লবণ খেলে তো বিশেষ করে। দিনে ৩–৪ গ্রামের মতো লবণ ও ৫–৬ লিটার পানি খাওয়া মোটেও ভাল নয়। বেশি বয়সে ও কিডনি কম কাজ করলে বিপদ আরও বেশি।

সমতা চাই লবণ ও পানিতে

কিডনি বিশেষজ্ঞ সুব্রত ভৌমিক বলেন, ‘দিনে যত গ্রাম লবণ খাবেন, পানি খেতে হবে মোটামুটি তত লিটার। সুস্থ–সবল কমবয়সী মানুষ ৫–৭ গ্রামের মতো লবণ খেলে ৫–৭ লিটার পর্যন্ত পানি খেতে পারেন। কোনও কারণে কম লবণ খেতে হলে সেই হিসেবে পানি খাওয়া না কমালে রক্তে সোডিয়াম কমে বিপদ হতে পারে। বাড়াবাড়ি হলে সোডিয়াম বিপদসীমার নীচে নেমে গিয়ে হাইপোন্যাট্রিমিয়ার মতো সমস্যা হওয়াও বিচিত্র নয়।’

বিপদের নাম হাইপোন্যাট্রিমিয়া

প্রথমে বমি হয়, ক্লান্ত লাগে, বারবার মূত্রত্যাগ করতে হয়, মাথা ব্যথা করে।

আচমকা আচ্ছন্ন বা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়তে পারেন।

বয়স্ক মানুষদের সমস্যা বেশি হয়। সঙ্গে ভুলে যাওয়ার অসুখ থাকলে বিপদ বাড়ে।

সময়মতো চিকিৎসা না হলে সামান্য কিছু ক্ষেত্রে রোগী মারা যান।

খুব কম সময়ে প্রচুর পানি খেয়ে নিলে সামান্য কিছু ক্ষেত্রে চরম বিপদ হতে পারে।

কিডনির অসুখে মেপে পানি খেতে হবে।

অতিরিক্ত পানি মানে বিষ

কিছু মানুষ ছোট থেকে জেনে এসেছেন, বেশি পানি খেলে শরীরে জমা বিষ বেরিয়ে যায়। স্বাস্থ্য ভাল থাকলে কম বয়সে তাতে তেমন সমস্যা হয় না। কিন্তু কোনও কারণে পানি কম খাওয়ার প্রশ্ন এলে, তারা তা করে উঠতে পারেন না। বিপদ বাড়ে। অনেক বেশি পানি খেলে তা রক্তকে পাতলা করে পরিমাণে বাড়িয়ে এক দিকে যেমন ইলেক্ট্রোলাইট ইমব্যালেন্সের সূত্রপাত করে, সঙ্গে চাপ বাড়ে শিরা–ধমনী ও হৃদযন্ত্রে। খাটনি বাড়ে কিডনির। ১–২ ঘণ্টার মধ্যে ৭–৮ লিটার পানি খেয়ে নিলে সমস্যার জের মস্তিষ্কে পৌঁছে যায় কখনও। হালকা মাথা ব্যথা থেকে শুরু করে শ্বাসকষ্ট বা মৃত্যুও হতে পারে। কাজেই পানি খান মেপে।

পানির পরিমাণ

আগেও আমাদের দেশে ৬৫–৭০ কেজি ওজনের কর্মক্ষম সুস্থ মানুষের শরীরে পানির চাহিদা ছিল ৩–৪ লিটার। শীতকালে তা কমে ২–৩ লিটার। এখন গরমে তা দাঁড়িয়েছে ৪–৫ লিটার ও শীতে ৩–৪ লিটার। আগামী ২০ বছরে তা আরও এক লিটারের মতো বাড়বে বলে বিজ্ঞানীদের অনুমান। এর একটা কারণ যদি হয় পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া, দ্বিতীয় কারণ অবশ্যই মেদবাহুল্য। পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার কারণে মানুষের গড় উচ্চতা বাড়ছে, সেও আরেক কারণ। কাজেই ৫০ কেজি ওজনের একজন মানুষ যদি ঠান্ডা ঘরে শুয়ে–বসে থাকেন, তাকে যতটা পানি খেতে হবে ৭৫ কেজি ওজনের, রোদে–পানি ঘোরা মানুষকে তার চেয়ে বেশি খেতে হবে। প্রচণ্ড তাপের মধ্যে কাজ করলে বা দূরপাল্লার দৌড়বাজদের খেতে হবে আরও বেশি।

কী ধরনের খাবার খাচ্ছেন তার উপরও নির্ভর করে পানির চাহিদা। ঘরে কম তেল–লবণ–মশলায় রান্না করা সুষম খাবার খেলে, কম পানি খেলেই হয়। আর ফাস্ট ফুড বা প্রসেসড ফুডে প্রচুর লবণ থাকে বলে এ সব নিয়মিত খেলে পানি খাওয়া বাড়াতে হয়।

কতটা পানি, কখন খাবেন

কেউ বলছেন তেষ্টা পেলে খান। কেউ মনে করেন পানি খেতে হবে ঘণ্টায় ঘণ্টায়। কারও মতে প্রস্রাবের রং দেখে বুঝতে হবে পানি ঠিক খাওয়া হচ্ছে কি না। ওজন বেশি হলে আবার দিনের প্রতিটি খাবার খাওয়ার ঠিক আগে পানি খেতে বলেন কিছু ফিটনেসগুরু, যাতে কম খাবারে পেট ভরে।

সুব্রতর মত, ‘শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে পানি খাওয়া উচিত তেষ্টা পেলে। ডায়াবিটিস থাকলে অনেক সময় শরীরে পানির চাহিদা না থাকলেও তেষ্টা পায়। কিডনি ঠিক থাকলে তাতে ক্ষতি নেই। কারণ যত বার প্রস্রাব হয় তার সঙ্গে কিছুটা করে সুগার বেরিয়ে গিয়ে উন্নতিই হয় রোগের। তবে হার্ট ফেলিওর, ক্রনিক কিডনির অসুখ, অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ ইত্যাদির কারণে যাদের লবণ কম খেতে হয়, তাদের পানির ব্যাপারে সতর্ক থাকা দরকার। ঠান্ডা ঘরে সময় কাটালে হুটহাট পানি খাওয়ার বদলে এক–আধবার চা খেয়ে তেষ্টা মেটালে কোনও ক্ষতি নেই। আবার অত পানি খেতে ভাল লাগে না বলে মাঝেমধ্যে যে স্যুপ, ঘোল, ফলের রস, চা–কফি খাওয়া হয়, তার হিসেবও পানির মধ্যে ধরতে হবে। কারণ দিনে ৩–৪ লিটার তরলের চাহিদা যে স্রেফ পানি দিয়েই মেটাতে হবে, এমন কিন্তু নয়।’

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।