সেশনজট তো আর আকাশ থেকে নেমে আসেনি : বিভাগীয় প্রধান

প্রকাশিতঃ ৭:২১ অপরাহ্ণ, সোম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০

জবি প্রতিনিধি : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন’র তীব্র সেশনজটের বিষয়ে বিভাগীয় প্রধান জুনায়েদ হালিম বলেছেন, সেশনজট তো আর আকাশ থেকে নেমে আসেনি। আমাদের ক্লাস ও শিক্ষক সংকট থাকায় এ সেশনজটের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে সেশনজট কমিয়ে নিয়ে আসব।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগে তীব্র সেশনজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিভাগগুলোতে জটের কারণে শিক্ষার্থীদের ছয় মাস সময়ের এক সেমিস্টার শেষ করেতে সময় লাগছে আট থেকে দশ মাস। ফলে শিক্ষার্থীদের চার বছর মেয়াদি স্নাতক শেষ করতে পাঁচ বছর এবং স্নাতকোত্তর শেষ করতে সাত বছরের বেশি সময় লাগছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মূল্যবান সময়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ একাডেমিক রুটিন অনুযায়ী ক্লাস-পরীক্ষা নিতে শিক্ষকদের অনীহা ও স্বেচ্ছাচারিতায় সেশনজট আরও তীব্র হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে চালুকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন নামে নতুন বিভাগটির অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক। বিভাগটির প্রথম ব্যাচ ২০১৫-১৬ ও দ্বিতীয় ব্যাচ ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এক বছর পিছিয়ে ক্লাস করছেন। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এক সেমিস্টার পিছিয়ে থেকে ৪র্থ সেমিস্টারে ক্লাস করছেন। এদিকে পূর্ববর্তী সেমিস্টারের ভাইবা পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭ ও ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থীদের নতুন সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হয়েেেছ। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ক্যাম্পাসে অনিয়মিত। বেশিরভাগ সময়ই তুচ্ছ অজুহাতে ক্লাস-পরীক্ষা নেন না বিভাগের শিক্ষকরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলায় সেশন জটের অবস্থাও ভয়াবহ। এ নতুন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তা সংকটের কারণে শিক্ষার্থী সেশন জটে ভুগছেন। নবীন শিক্ষকরা পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যাবলী ও প্রশাসনিক কাজে দক্ষ না হওয়ায় বিভাগটির একাডেমিক কার্যক্রম ধীর গতিতে চলছে। নাট্যকলা বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা দুই বছর পিছিয়ে থেকে স্নাতক পরীক্ষা দিয়েছে। এখনো তাদের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ১৯ মাস পিছিয়ে ৭ম সেমিস্টার ও ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ১৫ মাস পিছিয়ে ৬ষ্ঠ সেমিস্টারে ক্লাস করছেন। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাও ইতোমধ্যে ৯ মাস পিছিয়ে পড়েছে। ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থীরা ৭ মাস পিছিয়ে মাত্র ৪র্থ সেমিস্টার শেষ করেছে। এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের ছয় মাস মেয়াদী সেমিস্টার শেষ করতে ৯ মাস সময় লাগছে। ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থীরা ১১ মাসে শেষ করেছে মাত্র এক সেমিস্টার।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সেমিস্টারের নির্ধারিত ক্রেডিট ক্লাস শেষ হলেও পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হচ্ছে না। এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বরাবর কয়েকবার লিখিতভাবে জানাতে গেলেও বিভাগ থেকে বাঁধা দেয়া হয়। এছাড়া বিভাগটিতে ক্লাসরুম সঙ্কটের কারণে এক ব্যাচের পরীক্ষা হলে অন্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এজন্যও শিক্ষার্থীরা বিভাগটির সেশনজটের ভোগান্তিতে পড়ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ ২০১৪ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করলেও সাত বছরে মাত্র ২০১৩-১৪ সেশনের একটি ব্যাচ স্নাতক শেষ করেছে। এর পরবর্তী ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থীরা ৮ম সেমিস্টার ও ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থীরা ৭ম ব্যাচে ক্লাস করছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের এই দুই সেশনের শিক্ষার্থীরা স্নাতক শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় নিয়েছে। এই বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থীরা ৭ মাস পিছিয়ে ৬ষ্ঠ সেমিস্টারে, ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থীরা দুই মাস পিছিয়ে আছে। এই সেশনের শিক্ষার্থীরা এখনো ৩য় ও ৪র্থ সেমিস্টারের ফলাফল পায়নি। ২০১৮-১৯ সেশনের বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা ৩য় সেমিস্টারের ক্লাস শুরু করলেও এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা এখনো ২য় সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা দিতে পারেনি।

নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান মো. কামালউদ্দিন তার বিভাগের বিষয়ে বলেন, দুই-তিন দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল ফাইনাল করা হবে। আমাকে একটু সময় দিন।

এ বিষয়ে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করার জন্য ব্যাক্তিগত নাম্বারে ফোন দেয়া হলে তিনি কলটি ধরেননি।

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ