সেশনজট রোধে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জোড়ালো দাবী

প্রকাশিতঃ ৩:২১ অপরাহ্ণ, রবি, ১১ অক্টোবর ২০

সময় জার্নাল রিপোর্ট : করোনাকালীন দীর্ঘ ছুটিতে পরীক্ষা আটকে থাকায় সেশনজটের শঙ্কায় ভুগছেন মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। এ কারণে সম্ভাব্য সেশনজট থেকে বাঁচতে অটোপ্রামোশনসহ কয়েকটি দাবিতে অনলাইনে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন তারা।

মহামারী কোভিড-১৯ এর কারণে এমবিএস কোর্সের মে-২০২০ এর নিয়মিত পেশাগত পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। যার কারণে মেডিকেল শিক্ষার্থীরা পরবর্তী ফেজের ক্লাস করতে পারছে না। বিভিন্ন মেডিকেলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশিরভাগ মেডিকেলে আগের ফেজের বিষয়গুলোই বার বার অনলাইনের মাধ্যমে পড়ানো হচ্ছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। তারা পরীক্ষার ব্যাপারে একটা সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা জানতে চান। তাদের মূল যুক্তি হল, এমবিবিএস ডিগ্রি একটি ৫ বছর মেয়াদী কোর্স। বাংলাদেশের কারিকুলামে শুধুমাত্র মেডিকেলে স্নাতক শেষ করতেই কমপক্ষে ৬টি বছর (গ্রাজুয়েশন এবং এক বছর ইন্টার্নশিপ) লেগে যায়। এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৪টি পেশাগত পরীক্ষা হয়।

মেডিকেল শিক্ষার্থীরা বলছেন, সামনে করোনার প্রকোপ আরো বাড়তে পারে। এ অবস্থায় আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার মত উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়নি। যেহেতু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এরিয়ার সাথে সম্পর্কিত সেহেতু করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আরও বেশি। তারা বলেন, পাবলিক পরীক্ষা জেএসএসি ও এইচএসসি অটো প্রমোশন দেওয়া হয়েছে। বাকি স্কুল, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক লেভেলেও অটো প্রমোশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা সারাবছর আমরা পরীক্ষা দিয়েই এসেছি, তাই আমাদের দাবি আমাদের সারা বছরের পরীক্ষা, আইটেম, টার্ম, কার্ডের উপর ভিত্তি করেই যেন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আর ইতিমধ্যে আমরা করোনা আক্রান্ত হয়ে অনেকেই আমাদের কাছের মানুষদের হারিয়েছি, শারীরিক ও মানসিকভাবে কিছুতেই এখন পরীক্ষা দেওয়ার মত অবস্থাই নেই কেউ, ডাক্তার রা সবসময় ” Mental Health ” নিয়ে কথা বলেন। তাই অনতিবিলম্বে সারাবছরের পারফর্মেন্স এর উপর ভিত্তি করে অটোপ্রমোশন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন মেডিকেল শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য মে-২০২০ এর সাপ্লিমেন্টারী পরীক্ষার্থীরা কিছুদিন পূর্বে আন্দোলন করে। যার কারণে তাদের দাবী মেনে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এই মাসেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া প্রতিবেশী দেশ ভারতে পরীক্ষা ছাড়াই পরবর্তী ক্লাসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এসএসসি ও জেএসসি এর যোগফলের ভিত্তিতে হবে। তাই নিয়মিত মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পেশাগত পরীক্ষার ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত না আসায় তাদের শিক্ষাজীবন সেশনজটের কবলে পড়বে বলে ধারণা করছে এবং তারা কিছু দাবী উপস্থাপন করেছে। “প্রফ মে-২০২০ অটো প্রমোশন চাই” ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে তারা কিছু দাবী তুলে ধরেছে।

কেন অটোপ্রমোশন চায়- সে ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা নিম্নোক্ত যুক্তি তুলে ধরেন..

১. আমাদের ৭ মাস নষ্ট হয়েছে। আর না। আমাদেরকে আইটেম ক্লিয়ারেন্স এর উপর ভিত্তি করে অটো প্রমোশন দেয়া হোক।

২. অতিদ্রুত পরের ফেজ এর ক্লাস শুরু করতে হবে, যেন সেশনজট মুক্ত থাকতে পারি।

৩. আমাদের দাবি যেন একটাই থাকে। তা হল- এইচএসসি পরীক্ষায় যদি পূর্বের ফলাফলের ভিত্তিতে আটোপাশ দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের ও আইটেম এর ভিত্তিতে অটোপ্রমোশন দেওয়া হোক। এছাড়া বেসরকারি মেডিকেলগুলোতে বেতন নিচ্ছে। তাই অতিদ্রুত নেক্সট ফেইজের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

৪. আমাদের একটাই উদ্দেশ্য সব মেডিকেলের এমবিবিএস ১ম, ২য়, ৩য় প্রফ পরীক্ষার্থী এবং বিডিএস প্রফ পরীক্ষার্থীদের এক হয়ে এক দাবিতে আন্দোলন করা, এক্ষেত্রে সকল মেডিকেলের অংশগ্রহণ জরুরী।

৫. এখন যদি প্রফ হয়ও এক্ষেত্রে এতগুলো পরীক্ষার্থীরা হলে থাকলে যদি তারা করোনা আক্রান্ত হয় তাহলে এর দায় কে নিবে? আর যদি প্রফ হয় তাহলে প্রফের প্রস্তুতির জন্য ২ মাস দেওয়া হবে, প্রফ হতে ৩ মাস, পরবর্তী ইয়ারের ক্লাস শুরু হতে ২০২১ এর মার্চ এপ্রিল মাস চলে আসবে, আর ও বেশি সময় চলে যাবে, শিক্ষার্থীরা সেশনজটেই পড়বে এবং সেক্ষেত্রে বেসরকারি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের
কোর্সের সময়সীমার বর্ধিত সময়ের বেতন দিতে হবে। তাই অতিদ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ চাই!

চলতি মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর দাবি জানিয়েছেন মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। অন্যথায় আন্দোলনে যাওয়ার হুমকী দিয়েছেন কেউ কেউ। তারা জানান, ইতোমধ্যে সম্মানিত শিক্ষকদের সাথে এই বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। দাবি আদায়ের অংশ হিসেবে শিগগিরই স্বাস্হ্যমন্ত্রনালয়ে স্মারকলিপি দেয়া হবে বলে জানান তারা।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।