স্বপ্নের ক্যাম্পাস

প্রকাশিতঃ ১১:১১ অপরাহ্ণ, সোম, ২০ জুলাই ২০

সাদিয়া আফরোজ   

ঘুম থেকে উঠে দেখি শির শির বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়াটা অনেক সুন্দর। পুরান ঢাকায় ভেজা মাটির সেই মিষ্টি গন্ধটা পাওয়া যায় না। তবে মাঝে মাঝে বুড়িগঙ্গার অতি সুমধুর একটা গন্ধ পাওয়া যায় যেটাই মনে হয় আমি আমার ফুসফুসটাকে একটু বিশ্রাম দেই।

সকাল সাড়ে আটটায় ক্লাস শুরু হবে। আর আমি ঘুম থেকে উঠেছি সকাল আটটায়। সকালের নাস্তা নিজে বানিয়ে খেতে হবে, এত সময় হাতে নাই। তাই বের হয়ে গেলাম না খেয়েই। ছাতা নিতে ভুলি নাই, বরং ইচ্ছে করেই নেই নাই। জানি ছাতা নিয়ে গেলেই ভুল করে বাইরে রেখে চলে আসব। হালকা বৃষ্টি হচ্ছে তাই ভালোই লাগছে হাঁটতে। সকাল বেলায় পুরান ঢাকায় যানবাহন কম চলে। বিকেল বেলা হলে মনে হয় যানবাহনগুলো মানুষ চলাচলের জন্য একটুও রাস্তা ছাড়তে চায় না।

পেট খালি, প্রচণ্ড খিদে লেগেছে। তাই ক্যাম্পাসে ঢোকার আগে মামার দোকানে ঢুকে পড়লাম চা ও পাউরুটি খাব বলে। মামা আমার জন্য চা টা খুব যত্ন করে বানায়। কিন্তু আমি আবার একা বসে চা খেতে পারি না, তাই ফোন দিয়ে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড আলেমা ইসলাম লিজাকে ডাকলাম। দুজনে চা খেয়ে ক্লাস করতে চলে গেলাম। ক্লাসে ঢুকে দেখলাম জনসংখ্যা খুব কম‌, হালকা বৃষ্টির জন্য অনেকেই আসেনি। অনুভব করলাম মাটির ভেজা গন্ধ, ক্লাসে গিয়ে দেখি ম্যাম চলে এসেছে। আজকে দুটো ক্লাস আছে মাত্র, টানা দুটো ক্লাস করে বের হলাম। এখন বৃষ্টি থেমে গেছে ক্যাম্পাসটা এবার জনমুখর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমি আর আলেমা বসে ভাবলাম এখন কি করবো? রুমে চলে যাব কিনা, হঠাৎ মনে পড়ল আমার আরেক বন্ধু ফজলের কথা। ফজল ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

তার আরো অনেক বন্ধু ছিল, তাই ভাবলাম কাঠাল তলায় যায়। অনেকদিন আড্ডা দেওয়া হয়নি, তাই অনেকে মিলে আড্ডা দিলাম, চা খেলাম। আড্ডা দিতে বসলে বুঝতে পারি আমি কতটা কথা বলতে পারি, আমার কত ধৈর্য আছে কথা বলার জন্য।

অনেক রোদ উঠেছে, ঝলমল করছে আকাশটা, শান্ত চত্বরে সবাই বসে আছে। আমরাও একটু বসলাম, শান্ত চত্বরে বসে সবাইকে দেখা যায়। এরই মধ্যে বন্ধু আল-আমিন এসে বলল, সাদিয়া লাহারি খাইছিস? লাহারি মানে সকালের নাস্তা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বেশিরভাগ মানুষ সকালের নাস্তাকে লাহারি বলে। তবে আস্তে আস্তে এটা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

বন্ধুটা আমার বরিশালের আমিও সেটা নিয়ে একটু মজা করলাম। তারপর মেসে ফিরে গেলাম। দুপুরের খাবার খেলাম ভাবলাম ঘুমাবো, কিন্তু টিউশনি আছে। হঠাৎ আবার বৃষ্টি এলো, ভাবলাম যাব না। এই বৃষ্টির দিনে ঘুমাতে অনেক মজা। তারপর ভাবলাম যে বৃষ্টির জন্য টিউশনি বাদ দেওয়া যাবে না। তাই চললাম কিন্তু বাড়ির সামনেই অনেক পানি ভর্তি, ছোটখাটো একটা নৌকা চলবে। তবুও ভিজেই পড়াতে চলে গেলাম।

আন্টি আমায় দেখে বলল, তোমার তো অনেক ঠান্ডা লেগে আছে। আমি চা বানিয়ে দিচ্ছি। আন্টির মুখের সামনে চা দিল। বরাবরই আন্টির হাতের চা বেশ ভালো লাগে, আর আজকে বৃষ্টির দিন তাই একটু বেশি ভালো লাগছিল।

তারপর চলে এলাম কম্পিউটার ক্লাস করতে আমি, আলেমা ও ফজল। মজার ব্যাপার হলো কম্পিউটার ক্লাসের অর্ধেকটা ঘুমিয়ে কাটায় আলেমা এটা সবাই বুঝতে পারে। আর ফজল ও ঘুমাই কিন্তু, কেউ সেটা টের পায় না।

মাঝে মাঝেই বৃষ্টি থেমে যায় আবার আসে। বৃষ্টিতে ভিজতে অনেক ভালো লাগে কিন্তু, ঠান্ডা লাগার ভয় কাজ করে। আরেকজনকে পড়াতে যাব সেই সময়ে আমার মা আমায় ডেকে তুললো। দেখি সকাল আটটা বাজে, ভাবতে খুব কষ্ট লাগছিল এই ভেবে যে সবটা স্বপ্ন ছিল। শুনেছি সকালের স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়। আবারো ফিরে পেতে চাই ক্যাম্পাসের সেই সুন্দর দিনগুলো

লেখিকা : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।