স্বপ্ন যাবেনা বাড়ি!

প্রকাশিতঃ ২:০৭ অপরাহ্ণ, শনি, ২৩ মে ২০

মাইদুল মুশফিক :

বাবা তোর ওইখানের পরিস্থিতি কি? বাড়ি আসবি না? না মা এবছরের ঈদটা তোমার সাথে করা হবেনা! একাই ঈদ উদযাপন করতে হবে।

নারায়ণগঞ্জ থাকা ছেলের সাথে মায়ের কথোপকথন। ঠিক এ চিত্রটাই বর্তমান পরিস্থিতিতে মায়ের থেকে দূরে থাকা ছেলের সাথের মুঠোফোনে বেদনাময় কথন।বছর ঘুরে ইদ এলোও নেই প্রতিবছরের ন্যায় আড়ম্বর। ঈদ উদযাপন হবে ঠিকই তবে কেউ কেউ একাই পরিবারহীন ঘর বন্দী ঈদ কাটাবে। ফলে দূরে থাকা পরিবারের সদস্যর সাথে পরিবারের ঈদ আনন্দেও পড়বে ভাটা।

গ্রামীনফোনের সেই বিজ্ঞাপন ‘এইত সময় ফিরে আসার, স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার’ স্বপ্ন টানে আপন মুখগুলো দেখতে পাড়ি দেওয়া হবেনা এ বছর। নতুন পোশাক নিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে প্রিয় মানুষের হাসি মুখখানা দেখা হবেনা। ঈদ মানেই খুশি, পরিবারের সাথে একসাথে উদযাপন করা আনন্দ ভাগাভাগি করা। প্রতিবছর স্বপ্ন বাড়িতে পৌছালেও এবছর যাওয়া হচ্ছে না বাড়িতে মা ও পরিবারের কাছে।

টিউশনির টাকায় অথবা চাকরির ইদ বোনাসে মা এবং পরিবারের অন্যান্যদের জন্য ইদের উপহার দেয়ার আনন্দের অনুভূতিটা হচ্ছেনা এ বছরে।

ঈদের আগে প্রতিবছর এ সময়ে বাড়ি ফেরার হিড়িক পরলেও, করোনা রুখতে এ বছর বর্তমান অবস্থানে থাকাটাই মূখ্য। দেশের স্বার্থে আপন নীড়ে ফেরা হচ্ছে না প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। রমজানের শেষের দিনগুলোতে ঢাকা থেকে শিক্ষার্থীরা সহ পোশাকশিল্পের শ্রমিক থেকে শুরু করে সরকারি চাকুরিজীবী সকল পেশার মানুষ আসতো নাড়ীর টানে আপন নীড়ে।

রেলের টিকিট সংগ্রহের জন্য লম্বালাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট হাতে পাওয়ার পর হাসি মুখখানা ক্যামেরা বন্দী হতে দেখা যায়নি!
ঈদের আগে লোকারণ্য সদরঘাটটা জনশূন্য, লঞ্চের ছাদে করে কিংবা ট্রেনের ছাঁদে বসে নানা কষ্ট সহ্য করে এবং ঝুঁকি নিয়ে একরাশ হাসি নিয়ে মুখে হাজির হত মায়ের কাছে।

ঈদের দিন সকালে মায়ের হাতে রান্না মুখরোচক খাবারের বদলে তৃপ্তি মেটাতে হবে নিজের তৈরি করা খাবার খেয়ে। অনেকের হয়তো খাওয়াটাই হবে না সকালের। নামাজ পড়ে পুরো গ্রামটা ঘুরে দেখা, প্রিয়জনদের সাথে দেখা করার বদলে ঘরে বসে মোবাইলে কথা বলে বা অনলাইনে ভিডিও কলে দেখেই মনের আকাঙ্কা মেটাতে হবে। কাটাতে হবে মুসলমানদের বছরে প্রধান দুটো উৎসবের একটি ঈদুল ফিতরের দিনটি।

ঈদ মানেই নতুন পোশাক পড়া কিন্তু চলতি বছরে তা আর হয়ে উঠছেনা। ঈদ উপলক্ষ্যে রমজানের শুরু থেকে শুরু হয় আমেজ এবং নানা প্রস্তুতি। কিন্তু এবছরের ঈদের প্রেক্ষাপটটা ভিন্ন। করোনা স্থবির করে দিয়েছে তামাম আনন্দ।

দুইমাসের অধিক সময়ে লকডাউনের ফলে যেখানে নিত্যপ্রয়জনীয় জিনিসের যোগান দেয়াটাই দায় সেখানে ঘটা করে ঈদে নতুন পোশাক কেনা বিলাসিতা। আবার কেউ কেউ কেনার সামর্থ্য থাকলেও সকলের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে, শপিংয়ের টাকায় উপহার দিয়েছেন দরিদ্রদের মাঝে।

তবে দেশের কল্যানে করোনা রুখতে এ ভিন্ন ঈদকে মেনে নিয়েছেন সকলে।

সবার একটাই আশা শিগগিরই করোনার আঁধার কেটে যাক, দেখা হবে করোনা মুক্ত বাংলাদেশে।

লেখকঃ শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।