স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির পদত্যাগে কি বার্তা পেলাম?

প্রকাশিতঃ ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ, বুধ, ২২ জুলাই ২০

ডাঃ জোবায়ের আহমেদ :

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি প্রফেসর আবুল কালাম আজাদের পদত্যাগের খবর আসলো।
আমরা অনেকেই উনার পদত্যাগ চেয়েছিলাম যদিও উনি অনেক দেরী করে ফেলেছেন।
অনেক দায় ও অপবাদ মাথায় নিয়ে এমন প্রস্থান আমরা প্রত্যাশা করিনি।

প্রফেসর আজাদ স্যারের হারানোর কিছু ছিলো না।
তিনি কেন কাজ করতে পারছিলেন না, কারা পালের গোদা তাদের নগ্ন চেহারা প্রকাশ করে দিয়ে তিনি সরে গেলে আমাদের শ্রদ্ধা তাঁর প্রতি অটুট থাকতো।।

একটা জিনিস মাথায় ঘুরছে।

রিজেন্ট হাসপাতাল কান্ডে উনি কিন্ত নগ্ন সত্য প্রকাশ করে দিয়েছিলেন।
উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশে চুক্তি হয়েছিলো।

এই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষরাই হেলথ সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করে।
এরা উনাকে শোকজ করেছিলো।

ক্ষমতার উলঙ্গ প্রকাশ আবারো প্রকাশিত হলো উনার পদত্যাগের মাধ্যমে।।
এদের বিরুদ্ধে কিছু বললে, আঙ্গুল তুললে আপনি চেয়ার হারাবেন এমন বার্তাই প্রকাশিত হলো।।
এই বার্তা নেক্সট ডিজির জন্যও।

আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংসে এই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত।
এদের আপনি মাফিয়া ডন বললেও কম বলা হবে।।

একজন প্রফেসর আজাদ চলে গেলেন।
অন্য কেউ আসবেন।
কিন্ত দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চুরি চামারি লুটপাট বন্ধ হবে- এমন প্রত্যাশা কিন্ত পাগলেও করেনা।

সব দোষ কি শুধুই প্রফেসর আবুল কালাম আজাদের?

যেই সিন্ডিকেট হেলথ সেক্টরে, তা ভাঙা এত সহজ নয় বলেই আমি মনে করি।।
এই সেক্টরের কমিশন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পকেটে যায়।
সব কিছুর দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে।

প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগন যেদিন প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের জবাব চাইতে পারবে, মালিক যখন তার সেবা করার জন্য রাখা কর্মচারীকে ভয় পাবেনা, তোষামোদ ও জ্বি হুজুর করবেনা, সেদিন সত্যিকার পরিবর্তন আসবে, তার আগে নিশ্চয়ই নয়।

বাংলাদেশের জনগন এমন সাহসী হতে পারবে এমন আশা কি বাতুলতা নয়??

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।