হিমেল বাতাসে কাতর ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষ

প্রকাশিতঃ ১২:৩৯ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ৩১ ডিসেম্বর ১৯

হিমেল তালুকদার, ঠাকুরগাঁও : হিমালয়ের হিমেল ঠান্ডা বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা বেড়ে গিয়েছে হিমালয়ের পাদদেশের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে। পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলা উত্তরের সর্বশেষ জেলা ও হিমালয়ের অনেক কাছে হওয়ায় এখানে শীতের তীব্রতা প্রতি বছরই বেশি হয়। কিন্তু এবার যেন একটু বেশি দাপুটে আচরণ করছে। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শীতের দাপট শুরু হলেও ডিসেম্বরের শেষে অসহনিয় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এবার ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৪ ডিগ্রি সেঃ রেকর্ড করা হয়েছে। কখনোও সারাদিন ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকছে আবার কখনো হালকা রোদের আশা যাওয়া ভেলকিবাজি। গত ২ দিন ধরে এখানে দিনের বেলায় কিছু সময় সূর্য দেখা গেলেও বাতাস অনেক ঠান্ডা। এ কারণে শীতের তীব্রতা অনেক বেড়ে হাত, পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে মানুষের।

প্রচন্ড শীতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গৃহপালিত পশু পাখিও ঠান্ডায় কষ্ট পাচ্ছে। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত চারদিক কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে। রাতে বৃষ্টির ন্যায় ঝিরঝির করে কুয়াশা ঝরছে। প্রচন্ড শীতে সাধারণ মানুষ কাজে যেতে পারছে না। শ্রমিক শ্রেণীর এসব মানুষ সন্তান পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছে। অতিরিক্ত শীতের কারণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ।

সদর হাসপাতল সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রতিবছর শীত জনিত রোগে দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। আর শীত আসলেই শিশুসহ নানা বয়সের মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতলে ভর্তি হয়।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল বলেন, এ জেলায় শীতের তীব্রতা অনেক বেশি। তাই শিশু ও বিভিন্ন বয়সের মানুষ তাড়াতাড়ি শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষার জন্য গরম কাপড় পরিধান করতে হবে। শিশুদেরকে ঠান্ডা না লাগানোর জন্য মায়েদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শীতের হাত থেকে শীতার্তদের বাঁচাতে সরকারি ভাবে ইতোমধ্যে ৪০ হাজার কম্বল পেয়েছে জেলা প্রশাসন। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হতে পেয়েছে প্রায় ২ হাজার। প্রাপ্ত কম্বল জেলার ৫ উপজেলা ও ৩ পৌর এলাকার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অপরদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখনো অনেক ইউনিয়নের গ্রাম পর্যায়ে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়নি। সাধারণ মানুষ অভিযোগ করে বলেন, শীত পালাইলে (চলে গেলে) কি হামাক (আমাদের) কম্বল দিবে সরকার।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া গ্রামের আমজাদ হক নামে ৭৫ বছরের এক বৃদ্ধা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‍‍‍’হামার (আমার) গ্রামত (গ্রামে) অনেক শীত বাহে (ভাই)। সূর্য পরিলেই (অস্ত গেলেই) শীত আরও বেশি লাগেছে (লাগে)। কম্বলত শীত মানিবার চায়না। কিন্তু হামার (আমার) কপালত (ভাগ্যে) কনোদিন একটাও শীতের কাপড় জুটেনি।’

এছাড়াও ঠাকুরগাঁও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে শীত বস্ত্র তেমন পায়না দরিদ্র মানুষ এমন অভিযোগ করে সীমান্তবর্তী এলাকার দরিদ্ররা। তারা বলেন জেলা শহর হতে আমাদের এখানের দুরত্ব বেশি হওয়ায় শীত বস্ত্র আমাদের এখানে আসার আগেই শেষ হয়ে যায়।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ডঃ কে এম কামরুজ্জামান সেলিম জানান, এবার জেলায় শীতের প্রকোপটা একটু বেশি। তাই জেলার শীতার্ত মানুষের শীত নিবারণের জন্য ইতোমধ্যে আরও ৫০ হাজার পিস কম্বল চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩৫ হাজার পিস কম্বল ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ি কম্বল পাওয়া গেলে হয়তো কিছু মানুষকে শীতের কবল থেকে রক্ষা করতে পারবো। বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আরও কম্বল বিতরণ করা হবে।

এসময় তিনি জেলার বিত্তবান ব্যক্তিদের শীতার্তদের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সময় জার্নাল/আরইউটি

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ