১২ ডিসেম্বর: আজ নরসিংদী হানাদার মুক্ত দিবস

প্রকাশিতঃ ১২:০২ পূর্বাহ্ণ, বৃহঃ, ১২ ডিসেম্বর ১৯

নরসিংদী প্রতিনিধি: ১২ ডিসেম্বর নরসিংদী হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকবাহিনীর পরাজয় ও আত্মসমর্পনের মধ্যে দিয়ে সমগ্র নরসিংদী পাক হানাদার মুক্ত হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাসে এ দিনটি নরসিংদীবাসীর কাছে অত্যন্ত গৌরবোজ্জল ও স্মরণীয় দিন। ৭১’সালে ৯ মাস নরসিংদী জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক খন্ড যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। ওই খন্ড যুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনীর নির্মমতার শিকার হয়ে শহীদ হয়েছেন ১১৬ জন বীর সন্তান। এর মধ্যে নরসিংদী সদরে ২৭,পলাশে ১১, শিবপুরে ১৩, রায়পুরায় ৩৭, মনোহরদী ১২ ও বেলাব উপজেলায় ১৬ জন। এ ছাড়া বহু মা-বোনের নিরব আত্মত্যাগের বিনিময়ে নরসিংদী হানাদার মুক্ত হয়।

স্বাধীনতা যুদ্ধে ঢাকার সন্নিকটে অবস্থিত নরসিংদীতে ও মুক্তিযোদ্ধারা পিছিয়ে থাকেনি। দেশ মাতৃকার ডাকে সারা দিয়ে ৭১’এর সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েছিল জেলার আপামর জন সাধারণ। অস্ত্র হাতে রুখে দাঁড়িয়ে ছিল তারা পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। স্বাধীন মাতৃভূমি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা মার্চ মাস থেকেই যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে পাকহানাদার বাহিনীর অন্তরাত্মা কাপিয়ে দেয় । মুক্তিবাহিনীর প্রবল আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে ৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর পাক বাহিনীর পরাজয় ও আত্মসমপর্ণের মধ্যে দিয়ে নরসিংদী পাক হানাদার মুক্ত হয়। নরসিংদী মুক্তি পাগল মানুষের মনে এই দিনটি আজও স্মরণীয় দিন।

৭১’ এর মার্চে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি কোম্পানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে নরসিংদীতে ইপিআর, আনসার ও পুলিশ বাহিনীর সাথে মিলিত হয়। এতে হাজার হাজার ছাত্র জনতা তাদেরকে স্বাগত জানায়। নরসিংদী জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলে শত শত যুবকের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তারপরই শুরু হয় প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও চোরাগুপ্তা হামলা। স্থল পথে মুক্তিবাহিনীর প্রবল প্রতিরোধে টিকতে না পেরে ৪ এপ্রিল পাক বাহিনীর বোমারু বিমান নরসিংদী শহরে বোমাবর্ষণ শুরু করে। তখন গোটা শহরে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এরপরই পাকবাহিনী নরসিংদী টেলিফোন ভবনে ঘাটি স্থাপন করে।

স্থানীয় দালাল ও রাজাকারদের যোগসাজসে হানাদার বাহিনী প্রতিদিনই চালায় ধর্ষণ, নরহত্যা ও লুটতরাজ। অপরদিকে বাংলার মুক্তি পাগল দামাল ছেলেরা প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেয় ও আঘাত হানে শুক্র শিবিরে। নরসিংদী মুক্ত করতে পাক বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধারা যে সব স্থানে যুদ্ধে অবর্তীণ হয়েছিলেন সে স্থানগুলো হলো, নরসিংদী সদর উপজেলার বাঘবাড়ী, পালবাড়ী, আলগী, পাঁচদোনা, পুটিয়া, পলাশ উপজেলার খানেপুর, পলাশ বিআরডিসি, পলাশ উপজেলা পারুলিয়া, মেথিকান্দা, হাটুভাঙ্গা, বেলাব উপজেলার বেলাব বাজার ও বড়িবাড়ী নামক স্থানে।

তাছাড়া পাকবাহিনী নরসিংদী জেলার প্রায় ২০টি বধ্যভূমিকে বিভক্ত করে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়ে ছিল। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল নরসিংদী শহরের টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিস, শ্মশান ঘাট, রায়পুরা উপজেলার পরিষদ ভবন, মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশন, রামনগর, বেলাব বড়িবাড়ী, পলাশ উপজেলার জিনারদী রেলওয়ে স্টেশন, শিবপুর পুটিয়া।

এ জেলায় মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতিকে সমুন্নত রাখতে ২০০৫ সালে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতিফলক নির্মিত হয়। তবে নরসিংদী শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে শহীদের নামে নামকরণ করার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। নরসিংদীবাসী অবিলম্বে মুক্তিযুদ্ধের বধ্যভূমিগুলো চিহ্নিত করে স্মৃতি ফলক নির্মাণ ও নামকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ