২য় আন্তর্জাতিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী সম্মেলন ২২ নভেম্বর

প্রকাশিতঃ ৪:২২ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ১২ নভেম্বর ১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ২২ থেকে ২৪ নভেম্বর, ২০১৯ ‘২য় আন্তর্জাতিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী সম্মেলন’ প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে। আইসিডিডিআর,বি’র আয়োজনে সম্মেলনটির কার্যকরী সহযোগিতায় রয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; ব্র্যাক জেমস পি. গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ (জেপিজিএসপিএইচ) এবং সেভ দ্য চিলড্রেন, বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনের পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য এবং প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করে আজ মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) মহাখালীতে অবস্থিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস সম্মেলন কক্ষে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এ বছর সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের প্রেক্ষিতে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি ভিত্তিক স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্ভাবনা’। মূল বিষয়ের আওতায় আরো যে বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করা হবে সেগুলো হলো ১) অল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মসূচি, ২) কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী ও সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ৩) অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী-সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি এবং ৪) ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের অবস্থান।

সম্মেলনটি ইতোমধ্যে ব্যপক সাড়া ফেলেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রাপ্ত ২৩২টি গবেষণা সারসংক্ষেপের (অ্যাবস্ট্র্যাক্ট) মধ্যে থেকে ১৪১টি মৌখিক ও পোস্টার উপস্থাপনার জন্য নির্বাচিত হয়েছে। ১১টি অল্প ও মধ্যম আয়ের দেশ থেকে ২০ জন নবীন গবেষক বৃত্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন।

এই সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগ্রহীরা ব্যক্তিরা http://chwsymposium2019.icddrb.org ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন, পোস্টার ও সারসংক্ষেপ জমা দেওয়াসহ আর্থিক সহযোগিতার আবেদন করতে পারবে।

ওয়েবসাইটটি ইতিমধ্যে সবার জন্য উমুক্ত করা হয়েছে। এই ওয়েবসাইটে কমিউনিটি ভিত্তিক স্বাস্থ্যকর্মীদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের বিষয়বস্তুসমূহ, সম্মেলনের অনুষ্ঠানসূচী এবং সম্মেলন বিষয়ক বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ১৮ থেকে ২০ বছরের কমিউনিটি স্বাস্থকর্মীরা নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যদিয়ে পরিবার পরিকল্পনা সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ৬ সপ্তাহ থেকে ৬ মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে এইচ আইভিসহ নানা স্বচেতনতার লক্ষে প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে আমাদের কর্মীরা।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নাসিমা সুলতানা সম্মেলনের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “সারা বিশ্বেই কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরা সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে দ্বারে দ্বারে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পেছনে একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করছেন। ১৯২০ সালের দিকে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বপ্রথম চীনে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন কর্মসূচি, টিকাদান কর্মসূচি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবাদান কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত হন। বর্তমানে কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ‘বিকল্প স্বাস্থ্যসেবা কর্মী’ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের মতো অল্প ও মধ্যম আয়ের দেশে আজ সময়ের সাথে সাথে স্বাস্থ্যসেবা খাতে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী অনিবার্য গুরুত্ব লাভ করেছে।”

তিনি আরো বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে অল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, যা এখনই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অন্য সব দরিদ্র ও স্বল্পোন্নত দেশের মতোই বাংলাদেশের প্রশিক্ষিত কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরা অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নির্মূলে স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোকে শক্তিশালী করে তুলতে সহায়ক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করছেন। অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে কার্যকর কৌশলপত্র তৈরির প্রচেষ্টা থাকবে সম্মেলনে।

এসময় প্রফেসর ড. মো. আবুল মোমিন খান বলেন, ১৯৭০ সাল থেকে চীন, ইন্দোনেশীয়, ইথপিয়া, আমেরিকার মত রাষ্ট্র গুলোতে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করে যাচ্চে। আমাদের দেশ অনেক পরে শুরু করলেও বর্তমানে আমরা বিশ্বমানের সেবা নিয়ে আমাদের কর্মীরা নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমাদের দেশে প্রাথমিক সেবার মান অনেক উন্নতি লাভ করেছে। সাথে সাথে দেশের মানুষ বহুগুণে স্বচেতন হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্মার্ট কার্ডের ন্যায় দেশের সকল জনগণের চিকিৎসার খবরাধি অনলাইন ভিত্তিক কার্ডের মাধ্যমে জানানো হবে যাতে দেশের যেকোন স্থান থেকে তাদের সঠিক সেবার মান পেতে সুবিধা হয়।

আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম খান, লাইন ডিরেক্টর ও কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা (সিবিএইচসি), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মো: ড. ইকবাল আনোয়ার, বিজ্ঞানী ও প্রকল্প পরিচালক, শেয়ার প্রকল্প, হেলথ সিস্টেমস ও পপুলেশন স্টাডিজ বিভাগ, আইসিডিডিআর,বি, অধ্যাপক ড. সাবিনা ফয়েজ রশীদ, ডিন, ব্র্যাক জেমস পি. গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ (জেপিজিএসপিএইচ), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ড. ফারজানা ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক, সেভ দ্য চিলড্রেন, বাংলাদেশ এবং ড. সমীর কান্তি সরকার, সাবেক লাইন ডিরেক্টর, এমআইএস, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ