২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ১১:০৭ অপরাহ্ণ, বুধ, ২৬ জুন ১৯

নিউজ ডেস্ক: আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে ১৬ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি মাথাপিছু আয় নিয়ে একটি উন্নত দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। সোনার বাংলায় তখন ‘দারিদ্র্য’ হবে সুদূর অতীতের কোনো ঘটনা। বুধবার একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

তার সরকারের টানা ১০ বছরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে উন্নয়ন, অগ্রগতি আর সমৃদ্ধিও পথে হাঁটছে বাংলাদেশ। ৪২ বছর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় থাকার পর বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হওয়ার স্বীকৃতি পেয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে আজকের এই উত্তরণ, যেখানে রয়েছে এক বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়ার ইতিহাস।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। এতে সরকারি ও বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্যের লিখিত প্রশ্নের জবাব দেন সংসদ নেতা।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমানের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৯ সালে শুরু হওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের অগ্রযাত্রা গত ১০ বছরে অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি, পল্লী উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন এবং শিল্পে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগের লক্ষে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ নানামুখী কর্মকাণ্ডের ফসল আজকের এই উন্নয়ন। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের ঈর্ষণীয় সাফল্য দক্ষিণ এশিয়াসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে সমাদৃত হয়েছে।

তিনি বলেন, সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। টেকসই অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সরকারের উন্নয়ন ভাবনা ও তার যথাযথ বাস্তবায়নের ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের জনকল্যাণমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের কারণে বাংলাদেশের এই উন্নয়ন এবং অগ্রযাত্রা সম্ভব হয়েছে। আশির দশকের তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ কাটিয়ে বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন বিস্ময় হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত উন্মোচিত হচ্ছে নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সমৃদ্ধ ও উন্নত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় দুঃখী ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আওয়ামী লীগ সরকারের মূল লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্য পূরণে তিনি ও তার সরকার অঙ্গিকারাবদ্ধ।

বিএনপি-জামায়াত জোটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীর শুরুতেই আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের করা অগ্রযাত্রা থমকে দাঁড়ায়। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসে। আবারও দুর্নীতির চক্রে নিপতিত হয় দেশ। হাওয়া ভবনের নামে তারেক জিয়া চালাতে থাকেন লুটপাট।

শেখ হাসিনা বলেন, সেসময় অর্থনৈতিক উন্নয়ন সূচকের প্রায় সবগুলোতেই বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়তে থাকে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদে দুই তৃতীয়াংশের অধিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে। আমরা আবার দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার জন্য মনোনিবেশ করি। দেশ সবক্ষেত্রে এগিয়ে যায়।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ