৫৪তম বর্ষে পদার্পণ করলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিতঃ ১:৫৭ অপরাহ্ণ, সোম, ১৮ নভেম্বর ১৯

University of Chittagong

এম. শামছুল আলম: ১৯৬৬ সালে মাত্র ৪টি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান বয়স ৫৪ বছর। যা চট্টগ্রাম শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে হাটহাজারী উপজেলায় অবস্থিত। এটি দেশেের তৃৃৃতীয় এবং আয়তনের দিক থেকে দেশের সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়। দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ এটি।

দেশের অন্যতম সেরা এই বিদ্যাপীঠ সমৃদ্ধ হয়েছে উপমহাদেশের খ্যাতিমান ভৌত বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. জামাল নজরুল ইসলাম, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন, জাতীয় অধপক ড. আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক আবুল ফজল, আলাউদ্দিন আল আজাদ, সৈয়দ আলী আহসান, মুর্তজা বশীর, ঢালী আল মামুন, ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মান্নানসহ দেশবরেণ্য বহু কীর্তিমান মনীষীর জ্ঞানের আলোয়।

University of Chittagong

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মো. শাহাদাত হোসেন দুটি নতুন মাছের প্রজাতি আবিষ্কার ও শনাক্ত করেছেন। প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী রক্ষা ও গবেষণায় অবদানের জন্য আরেক শিক্ষক মনজুরুল কিবরিয়া পেয়েছেন দেশি-বিদেশি নানা সম্মাননা। ড. শেখ আফতাব উদ্দিন কম খরচে সমুদ্র পানি সুপেয় করার পদ্ধতি আবিষ্কার, ড. আল আমিনের লেখা বই যুক্তরাষ্ট্রের ৬টি বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের রেফারেন্স বুক হিসেবে নির্বাচন, অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান চৌধুরী বঙ্গোপসাগর নিয়ে মানচিত্র তৈরি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষক স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছেন প্রতিনিয়তই। শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।

ব্যাঙের নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করে সর্বকনিষ্ঠ বিজ্ঞানী হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক ছাত্র সাজিদ আলী হাওলাদার, দেশের সীমানা ছাড়িয়ে চবির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র শাখাওয়াত হোসেন ও তার দলের নাম ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বে, সাফ গেমসে স্বর্ণপদকজয়ী মাহফুজা খাতুন শিলা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছিলেন। এছাড়া সম্প্রতি গুগলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন সুমিত সাহা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংক গর্ভনর, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক, সদ্য সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ১১জন সচিব ও ৩০ জন অতিরিক্ত সচিব পদসহ বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রে চাকুরিরত রয়েছেন চবি শিক্ষার্থীরা।

বর্তমানে প্রায় ২৭,৮৩৯ শিক্ষার্থী এবং ৮৭২ জন শিক্ষক নিয়ে ৪৮টি বিভাগ ও ৭টি ইনস্টিটিউটে শিক্ষা কার্যক্রম চলে নিয়মতি। সম্প্রীতি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ ও ‘বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ’। বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপে যেকোনো বিষয়ে গবেষণার ওপর এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করা হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগার। এখানে রয়েছে দেশি-বিদেশি, দুষ্প্রাপ্য ও দুর্লভ বই, সাময়িকী, পত্র-পত্রিকা, জার্নাল ও পাণ্ডুলিপিসহ তিন লক্ষাধিক বইয়ের একটি বিশাল সংগ্রহশালা।

কেবল গবেষণা আর পড়াশুনা নয়, দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। ৬৯’র গণঅভুত্থান, ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০’র স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন যার সাক্ষী। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চবির কমপক্ষে ১৫ জন মহানায়ক তাদের নিজের জীবন বিলিয়ে দেন। মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীর সন্তানদের স্মৃতিকে অমিলন করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে নির্মিত হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ ‘স্মরণ’।

মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মো. হোসন পেয়েছেন বীর প্রতীক খেতাব। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন নজরকাড়া সব স্থাপত্যকর্ম। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধানিবেদনের জন্য রয়েছে স্বাধীনতা স্মারক ভাস্কর্য, দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভ, শহীদ মিনার। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নির্মিত হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সম্বলিত ‘বঙ্গবন্ধু চত্বর’।

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধকে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে নির্মিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্য ‘জয় বাংলা’। দৃষ্টিনন্দন ঝুলন্ত সেতু, পাহাড়, ঝরণা, লেক, পাখি, হরিণসহ বিভিন্ন জীববৈচিত্র্য এ ক্যাম্পাসকে করেছে অতুলনীয় ও মনোমুগ্ধকর। এছাড়াও এখানে রয়েছে দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর ও সমুদ্র বিজ্ঞান জাদুঘর।

সাহিত্য ও সাংস্কৃতিতেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অবদান কম নয়। অঙ্গণ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি মঞ্চ, উত্তরা, সিইউডিএস, সিইউ এসডি, বন্ধুসভার মতো সংগঠনগুলো সাহিত্য ও সাংস্কৃতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়কে। ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে সময়ের চাকা ঘুরে আজ সোমবার ৫৩ বছর পূর্ণ করতে চলেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। এই উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সেজেছে বর্ণিল সাজে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে নেওয়া হয়েছে নানা ধরণের কর্মসূচি।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার। তিনি বলেন, ‘সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ৫৩ বছর পার করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে আমি আমার সাধ্য মত চেষ্টা চালিয়ে যাব। আমার সুদক্ষ সহকর্মীদের সাথে নিয়ে আগামীতে পথ চলতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে গুরু দায়িত্ব আমার কাঁধে রাষ্ট্রপতি দিয়েছেন তা সৎ ও নিষ্ঠার সাথে পালন করবো। আর এই পথ চলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে একটি পরিবারের মত বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

সময় জার্নাল/ এম.শামছুল আলম

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ