মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২

মিরসরাইয়ে ট্রেন দুর্ঘটনা

কানাডা যাওয়া হলো না,লাশ হয়ে ফিরল মোসহাব

শনিবার, জুলাই ৩০, ২০২২
কানাডা যাওয়া হলো না,লাশ হয়ে ফিরল মোসহাব


সময় র্জানাল ডেস্ক: মোসহাব আহমেদ হিশাম। তার মা, ভাই, বোন সবাই কানাডায় থাকেন। আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে তার কানাডা চলে যাওয়ার কথা ছিল। এর আগেই শুক্রবার লাশ হয়ে ফিরল মোসহাব।

 

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের মিরসরাই বড়তাকিয়া এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসে থাকা নিহত ১১ জনের মধ্যে মোসহাবও ছিল।মোসহাবের বাড়ি খন্দকিয়া গ্রামে। ওই গ্রামের কে এস নজু মিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল সে।

 

শুক্রবার সন্ধ্যায় কে এস নজু মিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে মোসহাবের বাড়ি কোন দিকে জিজ্ঞেস করতেই পথচারী নাছির উদ্দিন সময়  র্জানালকে বলেন, ‘ওকে সবাই হিশাম নামে চেনে।  ছেলেটা কেন বেড়াতে গেল। পরীক্ষা দিয়েই তার কানাডা চলে যাওয়ার কথা। আমাদের মোজাফফরের ছেলে সে।’

 

নাছির উদ্দিনের সঙ্গে কথা শেষ করতে না করতেই স্কুলের পাশে দাঁড়ানো প্রধান শিক্ষক মো. শফিউল আলমকে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘হিশাম খুব ভালো ছেলে। পড়ালেখা সবকিছুতে সে ভালো ছিল। তার কাগজপত্র সব ঠিকঠাক হয়ে গেছে। পরীক্ষা শেষ হলেই কানাডায় মায়ের কাছে চলে যেত। যাওয়ার আগে বাবাহারা ছেলেটি মায়ের মুখও দেখতে পেল না।’

 

মোসহাবের পরিবারের সবাই কানাডায় থাকলেও চাচা আলী আকবরের কাছে থাকত সে। আলী আকবর সময় র্জানালকে বলেন, ‘ভাইয়ের ছেলে হলেও সে আমার নিজের ছেলের চেয়ে বেশি। আমার সঙ্গে থাকত সারাক্ষণ। মা, ভাই, বোন কেউ না থাকলেও কখনো উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা করেনি। তার সবকিছু ছিল গোছানো। এসএসি পরীক্ষা শেষ হলেই মায়ের কাছে চলে যেত। এখন তার মাকে কী জবাব দিব।’

 

মোসহাবের বন্ধু মো. শাহেদ বলে, ওর মতো বন্ধু হয় না। পড়ালেখায় যেমন, মানবিকতায়ও তেমন। ছিল না কোনো অহংকার। সবার সঙ্গে সহজে মিশে যেত। তাকে ভুলে থাকা কষ্টকর। এভাবে তার মৃত্যু হবে কখনো ভাবিনি।মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

এতে গুরুতর আহত হন অন্তত পাঁচজন। হতাহত ব্যক্তিদের মধ্যে চালক ও তাঁর সহকারী ছাড়া সবাই হাটহাজারীর ‘আর অ্যান্ড জে কোচিং সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ও শিক্ষক। তাঁদের সবার বাড়ি খন্দকিয়া গ্রামে। তাঁরা মিরসরাইয়ে ঝরনা দেখতে যাচ্ছিলেন। 

 

নিহত ব্যক্তিরা হলেন কোচিং সেন্টারের চার শিক্ষক জিয়াউল হক (২২), মোস্তফা মাসুদ রাকিব (১৯), রিদুয়ান চৌধুরী (২২) ও ওয়াহিদুল আলম (২৩); শিক্ষার্থী সামিরুল ইসলাম হাসান, মোসাহাব আহমেদ (১৬), ইকবাল হোসেন, শান্ত শীল, মোহাম্মদ আসিফ ও সাজ্জাদ হোসেন এবং মাইক্রোবাসচালক গোলাম মোস্তফা (২৬)।

 

এসএম




Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২২ সময় জার্নাল