শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২

লঙ্কানদের ঘরে এশিয়া কাপ

রোববার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২২
লঙ্কানদের ঘরে এশিয়া কাপ

স্পোর্টস ডেস্ক:  এশিয়া কাপ শুরুর আগেও এই শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে বাজি ধরতে সাহস করতেন না কেউ। শ্রীলঙ্কার শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ছিল বলতে গেলে শূন্যের কোটায়।

প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর লঙ্কানদের সম্ভাবনা আরও উবে যায়। কিন্তু পুরো বিশ্ব না ভাবলেও দাসুন শানাকার দল বোধ হয় ভেবেছিল। আত্মবিশ্বাস ছিল, তাদের পক্ষে সম্ভব।

নাহলে এভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়! ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান-যে দলই সামনে পড়েছে-স্রেফ উড়ে গেছে লঙ্কানদের সাহসিকতার সামনে। পাকিস্তানকে তো সুপার ফোর পর্বের শেষ ম্যাচেও হারিয়েছিল।

এবার ফাইনালে আরও একবার পাকিস্তানবধের গল্প লিখলো লঙ্কানরা। সবাইকে অবাক করে দিয়ে ‘আন্ডাররেটেড’ দল হয়েও জিতে নিলো এশিয়া কাপের শিরোপা।

রান তাড়ায় নেমে শেষ ৪ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ৬১। বাবর আজমের দল কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েছে তখনই। তবে সেট ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ছিলেন, এরপর আসিফ আলি, ছিলেন খুশদিল শাহও।

তাই অতিমানবীয় কিছুর আশায় ছিলেন পাকিস্তানি সমর্থরা। তাদের সেই আশায় জল ঢেলে দিলেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। তিন ব্যাটারকেই এক ওভারে তুলে নিলেন লঙ্কান এই লেগস্পিনার। পাকিস্তানেরও তৃতীয় এশিয়া কাপ জয়ের স্বপ্ন ভাঙলো তাতে।

দুবাইয়ে আজ (রোববার) ফাইনাল ম্যাচে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন হলো শ্রীলঙ্কা। এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের এই আসরে শিরোপা জিতলো লঙ্কানরা। তাদের চেয়ে বেশি এশিয়া কাপ জিতেছে কেবল ভারত (৭ বার)।

১৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড় হোঁচট খায় পাকিস্তান। টানা দুই বলে তারা হারিয়ে বসে অধিনায়ক বাবর আজম (৫) আর ফাখর জামানকে (০)।

২২ রানে নেই ২ উইকেট। এমন কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে উদ্ধার করেন মোহাম্মদ রিজওয়ান আর ইফতিখার আহমেদ। তৃতীয় উইকেটে ৫৮ বলে ৭১ রানের জুটি গড়েন তারা।

রানের চাপ বাড়ছিল। তাই ইফতিখার শেষ পর্যন্ত ঝুঁকি নেন। টানা দুই বলে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে ছক্কা আর বাউন্ডারিও হাঁকান। তবে এক ওভার পরই আরেকটি ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দেন ইফতিখার। ৩১ বলে ৩২ করে ফেরেন মধুশানের শিকার হয়ে। ওই ওভারে আসে মোট ৬ রান।

পরের ওভারে ধনঞ্জয়া ডি সিলভা দেন মাত্র ৪। ফলে শেষ ৫ ওভারে পাকিস্তানের দরকার পড়ে ৭০ রান। সেই চাপে ছক্কা হাঁকাতে যান মোহাম্মদ নওয়াজ (৬)। ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে হন ক্যাচ।

ছক্কা মেরে ফিফটি পূরণ করেন রিজওয়ান। কিন্তু এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। আরেকটি ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে হাসারাঙ্গার বলে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন গুনাথিলাকাকে। ৪৯ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় রিজওয়ানের ব্যাট থেকে আসে ৫৬ রান।

২২ বলে তখন পাকিস্তানের দরকার ৬০ রান। ছক্কা-চার ছাড়া ম্যাচ জেতার উপায় নেই। যে আসিফ আলির ছক্কায় ভরসা করে ছিলেন পাকিস্তানি সমর্থকরা, সেই আসিফ গোল্ডেন ডাকে ফেরেন হাসারাঙ্গার বলে বোল্ড হয়ে। পাকিস্তানেরও সব শেষ হয়ে যায় ওই আউটের পরই।

রান তাড়ায় বেশ দেখেশুনে শুরু করেছিল পাকিস্তান। প্রথম ৩ ওভারে তোলে ২০ রান। কিন্তু তৃতীয় ওভারে এসেই বড় বিপদে পড়ে বাবর আজমের দল।

প্রমথ মধুশান নিজের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে তুলে নেন বাবরকে। ফাইন লেগ বাউন্ডারি দিয়ে বল পাঠাতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে মধুশঙ্কার দুর্দান্ত ক্যাচ হন পাকিস্তান অধিনায়ক।

পরের বলটি উইকেটে টেনে বোল্ড হন ফাখর জামান। ২২ রানেই ২ উইকেট হারায় পাকিস্তান। শুরুর সেই ধাক্কায় পাওয়ার প্লেতে বড় সংগ্রহ পায়নি বাবরের দল। ২ উইকেটে তোলে ৩৭ রান।

তবে এরপর দারুণ এক জুটি গড়ে দলকে অনেকটা পথ এগিয়ে দেন মোহাম্মদ রিজওয়ান আর ইফতিখার আহমেদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর হাসতে পারেননি তারা। ইনিংসের শেষ বলে ১৪৭ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।

শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল প্রমথ মধুশান, ৪ ওভারে ৩৪ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন এই পেসার। লেগস্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ৪ ওভারে ২৭ রানে নেন ৩টি উইকেট।

এর আগে ৫৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কঠিন বিপদে পড়েছিল শ্রীলঙ্কা। সেখান থেকে ভানুকা রাজাপাকসে আর ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার জুটিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা।

এই জুটিই দলকে গড়ে দেয় চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহের ভিত। হাসারাঙ্গা ৩৬ করে ফিরলেও রাজাপাকসে তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। দুই জীবন পেয়ে শেষ পর্যন্ত খেলে গেছেন তিনি। রাজাপাকসের ৪৫ বলে ৭১ রানের ইনিংসে ভর করেই ৬ উইকেটে ১৭০ রানের পুঁজি পেয়েছে শ্রীলঙ্কা।

সময় জার্নাল/এলআর


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২২ সময় জার্নাল