বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় : ৪৩ বছরের প্রাপ্তি, সংকট ও প্রত্যাশা

সোমবার, নভেম্বর ২১, ২০২২
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় : ৪৩ বছরের প্রাপ্তি, সংকট ও প্রত্যাশা

সাইফ ইব্রাহিম. ইবি প্রতিনিধি: 

হাটি হাটি পা পা করে তেতাল্লিশ পেরিয়ে চুয়াল্লিশ বছরে পদার্পন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। স্বাধীনতাত্তোর সবুজ ছায়াঘেরা এই বিদ্যাপীঠ জন্ম নেয় ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ এই বিদ্যাপীঠ কুষ্টিয়া শহর থেকে ২৪ কিলোমিটার দক্ষিণ এবং ঝিনাইদহ থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। শান্তিডাঙ্গা ও দুলালপুরের নীবিড় এক পল্লীতে ১৭৫ একরের সবুজ চাদরে মোড়া বিদ্যাপীঠ এটি। দীর্ঘ ৪৩ বছরে বিভিন্ন প্রাপ্তির পাশাপাশি রয়েছে নানা সংকট। একইসঙ্গে রয়েছে নানান প্রত্যাশা।

ক্যাম্পাসের ফটক পেরিয়ে সামনে তাকালেই দেখা যায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ ম্যুরাল। যা ক্যাম্পাসভিত্তিক সর্ববৃহৎ বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। এর বামেই রয়েছে ক্যাম্পাসভিত্তিক সর্ববৃহৎ আরো দুই স্থাপনা শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধ। এছাড়াও রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক মুক্তবাংলা, সততা ফোয়ারা, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্মারক ‘শাশ্বত মুজিব’ বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ সংবলিত ‘মুক্তির আহ্বাান’। ক্যাম্পাসভিত্তিক সবচেয়ে বড় এবং দেশের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদও এখানেই।
 
এদিকে ক্যাম্পাস জুড়ে রয়েছে সাংবাদিকতা, বিতর্ক, নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন। জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত বিভিন্ন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্টে, এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ফুটবল, ক্রিকেট, হ্যান্ডবল, ভলিবল, বাস্কেটবল,ম্যারাথনসহ বিভিন্ন ইভেন্ট এ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে ইর্ষনীয় সাফল্য। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। হাজারো রঙিন স্বপ্ন বুকে নিয়ে হাজারো স্বপ্নচারীর পদচারণায় মুখরিত এই প্রাঙ্গণ। 

এই বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে যেমন দেশের বিভিন্নক্ষেত্রে অবদান রেখে আসছে, তেমনি শিক্ষকরাও জায়গা করে নিচ্ছেন বিশ্বসেরা গবেষকের তালিকায়। ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা সংস্থা এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় স্থান পায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ১৭ জন শিক্ষক। সম্প্রতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশেষ গবেষণা প্রকল্প অনুদানের জন্য মনোনীত হয়েছেন ১২জন শিক্ষক।

দুইটি অনুষদ ও চারটি বিভাগ, আটজন শিক্ষক ও ৩০০ ছাত্র নিয়ে শুরু হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে আটটি অনুষদ, ৩৬টি বিভাগ ৪০৩ জন শিক্ষক ও প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীতে রূপ নিয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৯৪ জন কর্মকর্তা ও ২৯০ জন কর্মচারী রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি এ পর্যন্ত ৫৯৯ জনকে পিএইচ.ডি এবং ৭৫৮ জনকে এম.ফিল ডিগ্রি প্রদান করেছে। বর্তমানে ২৫০ জন পিএইচ.ডি এবং ৯৫ জন এম.ফিল গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।

এদিকে ১৭৫ একর আয়তনের বিশ্ববিদ্যালয়টিতে রয়েছে দুইটি প্রশাসনিক ভবন, ছয়টি একাডেমিক ভবন, পাঁচটি ছাত্র হল, তিনটি ছাত্রী হল, একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক মিলনায়তনসহ ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (টিএসসিসি) ও ক্যাফেটেরিয়া, গ্রন্থাগার, ১০ শয্যা বিশিষ্ট একটি চিকিৎসাকেন্দ্র, শিক্ষক- কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টার, একটি আধুনিক ব্যায়ামাগার, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও দৃষ্টিনন্দন মফিজ লেক। এছাড়া ৫৩৭ কোটি ৭ লাখ টাকার মেগাপ্রজেক্টের অধীনে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

তবে ৪৩ বছরের দীর্ঘ পথচলায় এর প্রাপ্তির ঝুলিতে যেমন জমা হয়েছে বিভিন্ন অর্জন তেমনি জমা হয়েছে বিভিন্ন অপ্রাপ্তিও। প্রতিষ্ঠার ৪৩ বছর অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত ডিজিটালাইজেশনের দিকে আগাতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হল এবং অনুষদগুলোকে ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবার আওতায় আনা হলেও মন্থর গতির ইন্টারনেট গতি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের।

এদিকে ডিজিটাল যুগে এসেও এনালগ পদ্ধতিতেই সম্পন্ন হচ্ছে অধিকাংশ কাজ। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল। শিক্ষার্থীদের জন্য লাইব্রেরিতে অটোমেশন পদ্ধতি চালু করলেও তা এখন অকেজো। অযত্ন, অবহেলায় অধিকাংশ কম্পিউটার বিকল হয়ে পড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষনার পরিবেশ সংকীর্ণ। এখনও পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বহুল প্রত্যাশিত ছাত্র সংসদ দেখেনি আলোর মুখ। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এটি একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠার ৪৩ বছরেও তা সম্ভব হয়নি। হলগুলোতে যে পরিমাণ আবাসিক সুবিধা রয়েছে তাতে আবাসন সম্ভব হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীর। বাকি ৮০ ভাগ শিক্ষার্থীদের থাকতে হচ্ছে আশেপাশের বিভিন্ন মেস, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ শহরে। মেসগুলোর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, চোর ডাকাতের উৎপাত, ছাত্রীদের হেনস্তা এমনকি গোপনে ভিডিও ধারনের ঘটনাও ঘটছে।

অন্যদিকে কুষ্টিয়া ঝিনাদহ শহরে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনই একমাত্র ভরসা। কিন্তু পরিবহনের অপ্রতুলতার দরুণ এক্ষেত্রেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বর্তমানে এক হাজার আসন বিশিষ্ট দুইটি আবাসিক হল নির্মানের কাজ চলমান। এগুলোর কাজ সম্পন্ন হলে আবাসন সংকট অনেকাংশেই কাটবে। এছাড়াও হলে সিট দখল, মাদকসহ বহুবিদ সমস্যায় জর্জরিত বিশ্ববিদ্যালয়টি। 

অতিদ্রুত এসকল সংকট ও সমস্যাসমূহ কাটিয়ে শিক্ষা ও গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় গড়াই হোক এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রত্যয়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সফল হোক এটাই সকলের প্রত্যাশা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনাকালীন উপাচার্য ড. এ এন এ মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী থেকে এখন পর্যন্ত ১২ জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়েরর ১৩ তম ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অবসর প্রাপ্ত অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম।

অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ৪৪ বছরে পদার্পন করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। আমাদের অনেক প্রাপ্তির পাশাপাশি কিছু সংকট রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা পেলে আমরা ধীরে ধীরে এসব কাটিয়ে উঠতে পারবো বলে আশা করি। সবাইকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা।

এমআই 


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২২ সময় জার্নাল