রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩

ছাত্রলীগের সম্মেলন আজ, আলোচনায় যারা

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২২
ছাত্রলীগের সম্মেলন আজ, আলোচনায় যারা

নিজস্ব প্রতিনধি;

প্রায় সাড়ে চার বছর পর আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলন আজ (মঙ্গলবার)। সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই সম্মেলন শুরু হবে। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সম্মেলন ঘিরে এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে সংগঠনটি। তবে শীর্ষ পদে আসছেন কারা তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন পদপ্রত্যাশীরা।

ইতিমধ্যে ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই পদে আসতে প্রার্থিতার ফরম জমা দিয়েছেন ২৫৪ জন। এর মধ্যে সভাপতি পদপ্রত্যাশী ৯৬ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ১৫৮ জন। পদ দুটিতে কে কে আসছেন, তা নিয়ে কৌতূহলী অনেকেই।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের নেতৃত্ব বাছাইয়ে যোগ্যতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে সাংগঠনিক দক্ষতা, কাজের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নেতৃত্বের যোগ্যতা। সেই সাথে মেধাবী ও ছাত্র হওয়া এবং আওয়ামী পরিবারের সদস্য হওয়াও গুরুত্ব পাবে। সেই সঙ্গে অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, বয়সের সীমারেখা এবং বিরোধী মতাদর্শের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে কি-না- সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়াও একাধিক জরিপের ফলাফল তো রয়েছেই।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে জমা পড়া ফরমগুলো আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা। ফরমে উল্লেখ করা তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে সংক্ষিপ্ত একটি তালিকা তৈরি করবেন আওয়ামী লীগের চার নেতা। এরা হলেন প্রেসিডিয়ামের সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং বি এম মোজাম্মেল হক।

পরে তারা সেটি ছাত্রলীগের অভিভাবক আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে পাঠাবেন। তার পরামর্শেই চূড়ান্ত হবে নতুন নেতৃত্ব।

সম্মেলনের নির্বাচন কমিশনার শামস-ই-নোমান বলেন, গত ৩০ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ফরম সংগ্রহ এবং জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে সভাপতি পদে ৯৬ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ১৫৮ জন ফরম জমা দিয়েছেন। অনেকে কেবল সভাপতি পদে ফরম জমা দিয়েছেন। অনেকে সাধারণ সম্পাদক পদে। কেউ-বা আবার উভয় পদেই ফরম জমা দেন। শীর্ষ এই দুই পদে ফরম জমা দেওয়াদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও দেশের অন্যান্য প্রান্তের শিক্ষার্থীও আছেন। শীর্ষ দুটি পদের একটি এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাইরে থেকে আসতে পারে বলে গুঞ্জন থাকায় এমনটি ঘটেছে।

ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় যারা, তাদের বিভাগভিত্তিক তালিকা এরকম-

চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সহসভাপতি মাজহারুল ইসলাম শামীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহসান আহমেদ রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম উদ্দীন, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ লিমন, উপসাহিত্য সম্পাদক জয়দীপ দত্ত (জয়াজৎ) ও উপসমাজসেবা সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত।

উত্তরবঙ্গ থেকে ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাকিবুল হাসান রাকিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক হায়দার মোহাম্মদ জিতু, ক্রীড়া সম্পাদক আরেফিন সিদ্দিকী সুজন।

বরিশাল বিভাগ থেকে ছাত্রলীগের সহসভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেন, সহসভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান ইমরান, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ (ইনান) ও কর্মসংস্থান বিষক উপসম্পাদক খাদিমুল বাশার জয়।

খুলনা বিভাগ থেকে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বরিকুল ইসলাম বাধন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাহিদ হাসান শাহিন।

ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে ছাত্রলীগের সহসভাপতি সোহান খান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, সহসম্পাদক এস এম রাকিব সিরাজী।

ফরিদপুর থেকে ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাকিব হোসেন, আইন সম্পাদক ফুয়াদ হাসান শাহাদাত, উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক শাহেদ খান।

এ ছাড়া আলোচনায় থাকা অন্যদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করা আল আমিন সুজন, এম এ সোহাগ, আনফাল সরকার পমন, আহসান হাবীব, আবু মুছা, সুরাপ মিয়া সোহাগ, ইমরান জমাদ্দার, নিশাদ সাদিয়া খান মিলি, এহসান উল্লাহ পিয়াল ও আশরাফুল ইসলাম ফাহাদ।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের অ্যাসেম্বলি হলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রতিষ্ঠার সময় এর নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ। পরবর্তী সময়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের পর সংগঠনটি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নাম গ্রহণ করে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি দুই বছর পর ছাত্রলীগের সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও এবার তা হচ্ছে প্রায় সাড়ে চার বছর পর। সংগঠনটির চলতি কমিটি নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। সর্বশেষ ২০১৮ সালের মে মাসে সম্মেলন হলেও কমিটি ঘোষণা করা হয় জুলাইয়ে। এতে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও গোলাম রাব্বানী।

পরে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে পদ হারান দু’জন। তাদের স্থলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় আল নাহিয়ান খান ও লেখক ভট্টাচার্যকে। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আল নাহিয়ান খান ও লেখক ভট্টাচার্যকে ‘ভারমুক্ত’করা হয়।

সময় জার্নাল/এলআর


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৩ সময় জার্নাল