শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

ফাঁদে পা দিচ্ছে কি ডিআরইউ?

শনিবার, মে ২২, ২০২১
ফাঁদে পা দিচ্ছে কি ডিআরইউ?

শেখ আদনান ফাহাদ :

শিক্ষকতা ও গবেষণায় আছি ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে। বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টিংসহ ২০০৪ সাল থেকে এর আগ পর্যন্ত রিপোর্টার এর ভূমিকায় ছিলাম। আওয়ামী লীগ বিট ও প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া টিমে কাজ করেছি। ইদানিং আবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপ-কমিটিতে সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছি।

আমাকে বলতে পারেন, একই অঙ্গে বহু রুপ। তবে এই ‘বহুরূপী’ অবস্থান আশা করি কারো জন্য ক্ষতিকর হয়নি। আমিও যে ব্যক্তিগতভাবে বিরাট লাভবান হয়েছি বা হব এমন লক্ষণ আছে বলে অনেকেই আপনারা মনে করেন না।

মিডিয়াতে এখন আমার সরাসরি অনেক ছাত্র-ছাত্রীও আছে। আর পুরনো সহকর্মীরা তো আছেনই। বিশ্ববিদ্যালয়, রাজনীতি, সাংবাদিকতা সবখানেই আমার একটা অধিকার তৈরি হয়েছে। এই অধিকারবোধ এবং নৈতিক দায়িত্ব থেকে গত কদিন ধরে প্রিয় সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জন্য লেখালেখি করছি। হোক না ফেসবুকেই। এত সহজ এবং নগদে আওয়াজ তোলার আর কী মাধ্যম আছে?

কলাম লিখলে অনেকেই নানা ভাবনায় ছাপাতে চায়না। নানাবিধ স্বার্থের কারণে। আমার ভয় নাই, কিন্তু উনাদের মনে অনেক সংশয়।

যাইহোক, আগ পিছ না ভেবেই রোজিনা আপার জন্য লিখছি। আমাকে কেউ মুখ বন্ধ করতে বলে না, হয়ত আমাকে এতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না।

যাই হোক, রোজিনা আপাকে নিয়ে আমার অবস্থান প্রতিদিনই জানাচ্ছি। রোজিনা আপা যেমন আমার প্রিয় তেমনি, এই ঢাকা শহরে আমার খুব প্রিয় একটি স্থান ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটি (ডিআরইউ)। এখনো সাংবাদিকদের একমাত্র সংগঠন যেটি ভেঙ্গে যায়নি। অধিকার ছেড়ে দিয়ে অধিকার অনুভব করার বিড়ম্বনা আর নাই। এরপরেও আমার অধিকারবোধ থেকে আমি লিখছি।

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার নওফেলকে ডিআরইউতে নাকি অবাঞ্ছিত করা হয়েছে? এটা সমর্থন করতে পারলাম না।

রোজিনা ইসলাম ইস্যুতে সবাই আমার বা আমাদের মত ভাববেন এটা কেন আমরা আশা করছি? একজন মন্ত্রী যখন দায়িত্ব নিয়ে লিখছেন তখন এর দায়-দায়িত্ব তাঁর। সেখানে তাঁর মতের সাথে কারো দ্বিমত থাকলে যুক্তি দিয়ে, লিখে, টকশো করে যুক্তিখণ্ডন করে মন্ত্রীর বক্তব্য ভুল প্রমাণ করলেই বরং সাংবাদিকতা পেশার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হত। মাঠ গরম করা এক জিনিস আর সমস্যার সমাধানকল্পে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া আরেক জিনিস।

রোজিনা আপার বিষয়ে সরাসরি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অত্যন্ত ম্যাচিউর বক্তব্য রেখেছেন, অন্যতম শীর্ষ নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ ভাই সাংবাদিকদের পক্ষে লিখেছেন। সেখানে ব্যারিস্টার নওফেল কিংবা অধ্যাপক সেলিম মাহমুদ যদি ভিন্ন ব্যাখা দিয়েও থাকেন তবু তাদের বিরুদ্ধে এত রিজিড এবং শক্ত অবস্থানে যাওয়া আমি ব্যক্তিগতভাবে সাপোর্ট করছি না।

এটা তো পরিষ্কার যে রোজিনা ইসলামের বিপক্ষে সরকার কোনো যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। উনি পরিস্থিতির শিকার। কয়েকজন কর্মকর্তার প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলে আমি মনে করি। এর জন্য যে সরকার বিব্রত সেটি তো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে আরও পরিষ্কার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয় আরেকটু দূরদর্শী হলে এটা সেদিনই সমাধান হয়ে যেত। এখন একটা ঘোলাটে পরিবেশে কেউ কেউ মাছ শিকার করতে চাইছেন। দেশে-বিদেশে আওয়ামী লীগ বিরোধী শক্তি খুব সোচ্চার।

বিএনপি-জামাত খুব সোচ্চার সাংবাদিক অধিকার নিয়ে!! জাতিসংঘে বিএনপির অনুগত সাংবাদিকরা জোর প্রচার চালাচ্ছেন। রোজিনা আপার কষ্টে তাদের কিছু যায় আসেনা। উনারা আছেন ব্যাপক দলীয় জোশে।

এই অবস্থায় নির্দলীয় সংগঠন ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটির আরও ম্যাচিউর আচরণ আশা করছি। আমরা তো ফেসবুকে লিখেই খালাস। কষ্ট করছেন রোজিনা আপা আর তাঁর পরিবার। অন্ধকারের শক্তি ঠিকই রোজিনা আপাকে ইস্যু করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। এই ফাঁদে পা দিচ্ছে কি ডিআরইউ?

ডিআরইউ একটা নির্দলীয় সংগঠন। যদিও ভেতরে ভেতরে দলীয় রাজনীতির প্রভাব আছে বেশ। কিন্তু প্রকাশ্যে নেই। প্যানেল হয়, নির্বাচন হয়। গত ১২ বছরে ডিআরইউর সাথে বর্তমান সরকারের সম্পর্কের একটা ব্যবচ্ছেদ করলে আশা করি ডিআরইউ নিজের অবস্থানকে মূল্যায়ন করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।

আর শেষে একটা প্রশ্ন, রোজিনা আপাকে জেলে নেয়ার দিন কীভাবে সম্পাদকরা উনার বিরুদ্ধে দেয়া বিজ্ঞাপন ছাপল? এটা নিয়ে তো ডিআরইউর কোনো বক্তব্য দেখতে পেলাম না।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। 



Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.



স্বত্ব ২০২১ সময় জার্নাল | ডেভেলপার এম রহমান সাইদ