জেলা প্রতিনিধি:
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে হিমশীতল বাতাস আর কনকনে শীতে তাপমাত্রা ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ জেলায় বিগত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রার পারদ ৯ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ওঠানামা করছে। সেকারণেই বেশ ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।
শনিবার (০৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এসময় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ৯৯ শতাংশ ছিল। এর আগের দিন ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
জেলার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, সন্ধ্যার পর থেকে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে শুরু হয় হিমেল বাতাস আর ঘন কুয়াশা। এতে অনুভূত হতে থাকে কনকনে শীত। দিনভর উত্তরের হিমেল বাতাস থাকায় ছড়াতে পারেনি সূর্যের তীব্রতা। এতে কমে যায় দিনের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান। উত্তরের ঝিরিঝিরি হিমেল বাতাসের সঙ্গে কুয়াশা থাকায় শীতে কাবু হয়ে পড়ছে উত্তরের এই জনপদের মানুষ। জেঁকে বসেছে শীত। শীতের দাপট বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ।
ঘনকুয়াশায় সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। কনকনে শীত অনুভূত হওয়ায় কাজে বেঘাত ঘটছে খেটে খাওয়া মানুষের। সকালবেলা ঠান্ডা বাতাসে কাবু হয়ে পড়া মানুষ গরম কাপড় পরে বের হওয়ার পাশাপাশি অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
এছাড়াও ফুটপাতেও গরম কাপড়ের বেচা-কেনা শুরু হয়েছে। শীতের কারণে রাতে কাঁথা-কম্বল ছাড়া ঘুমানো কষ্ট কর হয়ে পড়েছে বলে জানায় পঞ্চগড়বাসী।
জেলার হাসপাতাল গুলোতে শীতে বেশিরভাগ শিশু ও বয়স্করা সর্দি, জ্বরসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। তাই সুস্থ থাকার জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা হিমশীতল ঠান্ডা বাতাস আর কনকনে শীতে বেশ ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে এ জেলায়। কয়েকদিন ধরে বেশ ঠান্ডা পড়েছে। আজ (৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা পরিমাণ ৯৯ শতাংশ ছিল। যা গতকাল ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
এমআই