নিজস্ব প্রতিবেদক:
অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ভবনের ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলে টানা ৩টা পর্যন্ত। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র আবাসিক হল নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল সংসদ নির্বাচনও হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর এবার প্রথম বারের মতো এই নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিকাল সাড়ে ৩টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়।
তীব্র শীতের মধ্যেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে ভোট দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শুরুতে কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীদের ভালো উপস্থিতি দেখা গেলেও বেলা ১১টার পর ভিড় অনেকটা কমে যায়। তবে সাড়ে ১২টার পর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আর উচ্ছ্বাসে সরগরম হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। দুপুরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শিক্ষার্থীদের ভালো উপস্থিতি দেখা যায়। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের ভিড় দেখা যায়।
এদিকে সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হলেও মাঝে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। একজন নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ক্যাম্পাসের বাইরে একজনকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।
পরবর্তীতে ছাত্রশিবির সমর্থিতদের প্যানেল থেকে অভিযোগ করা হয়, ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রী মাহিমা আক্তারকে হেনস্তা করা হয়। পরে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়। অবশ্য পরে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় ছাত্রদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এ কে এম রাকিব অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের প্রতিনিধিরা ব্যালট নম্বরের টোকেন নিয়ে সরাসরি ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করছেন।
রাকিব বলেন, শহীদ সাজিদ ভবন কেন্দ্রে একটি বিশেষ প্যানেলকে এই সুবিধা দেওয়া হয়। শুরুতে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে প্রমাণ দেখানোর পর সব প্যানেলকে টোকেন নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে শুরুতে তাদের প্যানেলকে এই সুযোগ না দিয়ে বৈষম্য করা হয়েছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন শুরুর পর প্রথমদিকে পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে শুরু করলে মেইন গেটের সামনে ছাত্রদলের কর্মীরা ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হলেও তারা পুরোপুরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। এ সময় একাধিক শিক্ষার্থী, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা হয়।’
রিয়াজুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, ভোট দেওয়ার পর বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শনে গিয়ে ফিজিক্স বিভাগে ছাত্রদলের পোলিং এজেন্টদের শিক্ষার্থীদের ভোট প্রদানে প্রভাবিত করতে দেখা যায়। এমনকি নারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভোটের চিরকুট কেড়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। একই ধরনের ঘটনা অন্যান্য বিভাগেও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল সমাধিতে ভিপি প্রার্থী রাকিব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্যাম্পাস ও ভোটকেন্দ্রে কোনো প্রার্থীর টোকেন বা ভোটার নম্বর প্রবেশ করানোর সুযোগ থাকার কথা নয়। সেই নির্দেশনা মেনে তাদের প্যানেলের কোনো টোকেন শুরুতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করায়নি। কিন্তু ভোট শুরু হওয়ার পর তারা দেখতে পান, একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের টোকেন শুধু ক্যাম্পাসেই নয়, সরাসরি ভোটকেন্দ্রের ভেতরেও প্রবেশ রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশন ও প্রোক্টোরিয়াল টিমকে জানানো হলেও প্রথমে তা অস্বীকার করা হয়। পরে প্রমাণ দেখালে তাদেরও টোকেন ভেতরে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। সেই অনুমতির ভিত্তিতেই তাদের প্যানেলও টোকেন প্রবেশ করায়। এরপরও দেখা যাচ্ছে, ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত শৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের টোকেন ছাড়া অন্য কোনো টোকেন নিয়ে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। এটি স্পষ্ট দ্বিচারিতা। যদি টোকেন নেওয়া নিষিদ্ধ হয়, তাহলে সবার জন্যই নিষিদ্ধ হতে হবে।’
২০ বছরের অচলায়তন ভেঙে আজ মঙ্গলবার ১৬ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন ছাত্র সংসদ নির্বাচনে।
এমআই