মোঃ রানা ইসলাম, শেকৃবি প্রতিনিধি:
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ঘোষিত ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (এনএসটি) ফেলোশিপের ফলাফলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। খাদ্য ও কৃষিবিজ্ঞান গ্রুপে সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক ফেলো নির্বাচিত হয়ে আবারও নিজেদের একাডেমিক ও গবেষণাগত সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে রাজধানীর এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।
প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবছর শেকৃবি থেকে মোট ৪৪৯ জন শিক্ষার্থী এনএসটি ফেলোশিপের জন্য আবেদন করেন। অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর চূড়ান্তভাবে ৩৭৫ জন মেধাবী গবেষক ফেলোশিপ অর্জনে সফল হন। আবেদনকারীর তুলনায় পাসের হার দাঁড়ায় প্রায় ৮৪ শতাংশ, যা বড় সংখ্যক আবেদনকারী থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় এবছর শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে ৪৫১ জন শিক্ষার্থী ফেলোশিপ পেয়েছেন। এর ঠিক পরেই ৩৭৫ জন ফেলো নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, যেখান থেকে ১৬৭ জন শিক্ষার্থী ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবছর মোট নির্বাচিত ১৬৮৭ জন এনএসটি ফেলোর মধ্যে প্রায় ২২ শতাংশই শেকৃবির শিক্ষার্থী। এই পরিসংখ্যান বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণাবান্ধব পরিবেশ, দক্ষ শিক্ষকসমাজ এবং শিক্ষার্থীদের একাগ্র প্রচেষ্টার সুস্পষ্ট প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই ঐতিহাসিক অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। ফেলোশিপপ্রাপ্ত ৩৭৫ জন শিক্ষার্থী তাদের স্নাতকোত্তর (এমএস/এমএসসি) পর্যায়ের গবেষণার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এই বিশেষ আর্থিক অনুদান পাবেন। বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষকরা মনে করছেন, এই সাফল্য ভবিষ্যতে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং জাতীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শেকৃবির শিক্ষার্থীদের আরও উৎসাহিত করবে।
এ বিষয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দ নাজমুল আলম বলেন,“এনএসটি (জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) ফেলোশিপের জন্য মনোনীত হতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। এখান থেকে প্রাপ্ত অর্থ আমার চলমান গবেষণা সুন্দরভাবে শেষ করতে অনেক সহায়তা করবে। আবেদন থেকে শুরু করে ফেলোশিপের প্রতিটি ধাপে আমাকে সহায়তা ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য আমি আমার সুপারভাইজারসহ বিভাগের সকল শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
একে