মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: নিরপেক্ষ প্রশাসনের খোঁজে

মঙ্গলবার, জানুয়ারী ২৭, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: নিরপেক্ষ প্রশাসনের খোঁজে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপক্ষ প্রশাসন, নির্বাচনে কারা জয়লাভ করতে পারে, নির্বাচনী সহিংসতা, দলগুলোর বিদেশি প্রভাব এবং মাঠের হালচাল দেখে নির্বাচন নিয়ে সময় জার্নালের কাছে মতামত তুলে ধরেছেন ভূরাজনৈতিক অর্থনীতিবীদ এনবিইআর চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ।

সময় জার্নাল: ফ্রি ফেয়ার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন পূর্বশর্ত। এই বিষয় আসলে আপনি কি মনে করেন? আপনার মতামত কি? 

সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ: ফ্রি ফেয়ার গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন প্রয়োজন। অনিরপেক্ষ প্রশাসনের হাতে যদি কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সেটা সেই প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট হবে। তারা যাদেরকে জেতাতে চাইবে তাদের পক্ষে যাবে। আমি এই ব্যাপারে একমত যে, বাংলাদেশের প্রশাসন এখন যেভাবে সাজানো আছে এটার একটা ইমপ্যাক্ট আগামী নির্বাচনে দেখা যাবে। নির্বাচনের পরে হয়তো সবাই এটা বুঝবে। 

সময় জার্নাল: মাঠ রাজনীতির হালচাল দেখে আগামী নির্বাচন সম্বন্ধে আপনি কী ভাবছেন? 

অধ্যাপক পারভেজ:  প্রথম কথা হচ্ছে। আমি খুব শুদ্ধ কোন কিছু দেখতে পাচ্ছি না আগামী নির্বাচনকে নিয়ে। সেটার কারণ হচ্ছে মাঠ রাজনীতির যারা প্লেয়ার, আমি বলব যে মেইন প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো। তাদের কেউ কেউ ইসির সম্বন্ধে প্রশ্ন তুলতেছে। ইলেকশন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট কোন একটি বিশেষ দলের মুখাপেক্ষী হয়ে গেছে এরকম কথা বলছে। পরস্পর পরস্পরকে দোষারোপ করার বিষয়টা উঠে আসছে। যার জন্য আমি জিতলে নির্বাচন ফেয়ার, হারলে নির্বাচন সঠিক হয়নি। এরকম একটা জিনিস আপনারা মিডিয়া দেখতে পাবেন মনে করে আমি। যে জিতবে সে বলবে খুব ভালো একটা নির্বাচন হয়েছে। ফ্রিম ফেয়ার। আর যে হারবে সে বলবে সাজানো নির্বাচন হয়েছে। এটা হচ্ছে মাঠ রাজনীতির ফলাফলকে সামনে রেখে আমার মতামত। 

এখন নির্বাচনের যে ট্রেন্ড চালু হয়ে গেছে এই ক্ষেত্রে আমার মতামত হচ্ছে যে, বাঙালি জাতি এখনো যে সহিষ্ণু হয়নি এটা আমাদের ভোটারদের কথা শুনলেই বোঝা যায়, দলীয় অ্যাক্টিভিস্টদের কথা শুনলে বোঝা যায় এবং নেতাদের কথা শুনলেও বোঝা যায় কোথাও একটু গণতান্ত্রিক মনস্ক হওয়ার অভাব আছে। বৃহৎ সবগুলো রাজনৈতিক শক্তিগুলোর নেতাদের মধ্যে এটির অভাব দেখছি। তাদেরকে গণতান্ত্রিক কালচারে সুসভ্য আমি মনে করছি না।  গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে তাদেরকে আমি সুসভ্য বলে পাশ করাতে পারছি না। একজন ইউনিয়ন পরিষদের নেতা অথবা একটা উপজেলা নেতা আর দলের সর্বোচ্চ নেতার কথার মধ্যে গুণগত পরিবর্তন নাই। একই সুর মূর্ছনা শোনা যায়। তাই মানুষের যে সহ্য, ধৈর্য এবং ইত্যাদির অভাবের কারণে জিততেই হবে, মধু খেতেই হবে, এমপি হতেই হবে। এই মানসিকতা যখন থাকবে, আমি এটা যদি ফুটবল খেলার মাঠের উদাহরণ দিই, দুটো পক্ষই জানপ্রাণ দিয়ে বলবে, আমাদের জিততেই হবে এবং কেউ ডিসিশন নিয়ে ফেলে যে এট গোলে জিততে হবে, তাহলে ওই খেলা সাংঘর্ষিক হবে। ওই খেলায় ফাউল হবেই। যেখানে খেলা তার নিজের খেলোয়াড়সুলভ স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের বাইরে চলে যাবে, তখন ওখানে ফাউল হবে। 

এখানে গণতান্ত্রিক চেতনার বাইরে যখন রাজনীতি চলে যাচ্ছে, যে কোনও মূল্যে জিততে হবে। এখানে সংঘর্ষ হবে এবং সংঘর্ষকে রক্ত ঝরাবে না, বুলেট ছড়াবে এটা আপনারা সময়ের সাথে দেখতে পারবেন। আমার কাছে মনে হচ্ছে এই তো সেদিন একজন রাজনৈতিক নেতাকে গুলি করে মারা হয়েছে। নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার একদিন পরেই চট্টগ্রামের এরশাদ উল্লাহ বিএনপির একজন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। তাকে গুলি করা হয়েছে। আমি মনে করি গুলি আর ছুড়ি দুটাই ব্যবহার করা হবে সমান তালে। যার জন্য আমি রক্তপাতহীন একেবারে শান্তিপূর্ণ একটি নির্বাচন ঘুমের মধ্যেও স্বপ্ন দেখি না। 

সময় জার্নাল: আমরা তো দুটি বড়জোট দেখতে পাচ্ছি নির্বাচন সামনে রেখে তো আপনার কি মনে হয় কারা সরকার গঠন করতে পারে নির্বাচনের পরে? 
অধ্যাপক পারভেজ: কারা সরকার গঠন করতে পারে? এটা শুধুমাত্র পক্ষপাত দুষ্ট কেউ সাক্ষাৎকার দিলে সে তার পক্ষকে টেনে চেষ্টা করবে বলতে।  আমি যেহেতু জ্যোতিষী না। কারা জিতবে এটা বলতে পারি না। এবং আমি অনেক কিছু বুঝলেও নির্বাচনের আগে মিডিয়াতে এই ধরনের কথা বলে নির্বাচনের পরিবেশটাকে নষ্ট করতে চাই না। জোটের কথায় আসি। এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি। কারণ আমি কিন্তু দায়সারা উত্তর দিচ্ছি না। আমি জ্যোতিষীর মতো উত্তর দিতে চাই না। 

এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি জামাত, এনসিপি এবং ওদের যে জোট দশটা হোক, এগারোটা হোক, নয়টা হোক জোট আর ওদের উল্টাদিকে দেখতে পাচ্ছে বিএনপির একটা জোট। এখন এখানে এ দুটো বড় শক্তি নির্বাচনে। এর মধ্যে হয়তো আওয়ামী লীগ এর সমর্থন কোন কোন কন্সটিটিন্সিতে বিএনপি নিতে চাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণ করলে আওয়ামী লীগের সুবিধা এই ধরনের একটা আভাস দিয়ে। কারণ বিএনপির ভোট তো বিএনপির কাছে আছে। প্লাস কিছু নৌকার ভোট ওদিকে সুইং করলে ওই ক্যান্ডিডেটের জেতার সম্ভাবনা বেশি থাকবে এটা তারা বুঝতে পারছে। 

আমি যেটা মন্তব্য করতে চাই এবং জাতির সামনে সুস্থ মস্তিষ্কে বলে দিতে চাই যে, আমাকে আপনি প্রশ্ন করছেন, কারণ আপনি আশা করতেছেন যে আমি এসব ব্যাপারে বিশ্লেষক অথবা বিশেষজ্ঞ। আমার সেই অবস্থান থেকে, সেই স্পেস থেকে আমি বলতে চাই, দেশে এখন জামায়াত, এনসিপি এবং ওই যে জোট আছে তাদের পদচারণা, তাদের দৌড়াদৌড়ি, তাদের গণ সংযোগ। তাদের কষ্ট, পরিশ্রম অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। আমি ঘুরিয়ে বলতে পারব যে নির্বাচনী এখন যে হাওয়া বইতে শুরু করছে। সেটা জামাত, এনসিপি এবং ওই জোটের পক্ষেই বেশি বহিতেছে। জাতীয়তাবাদী শক্তি একটা বড় শক্তি, এটা একটা আদর্শ। এর পরেও জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ব্যাকফুটে আছে। কারণ বিএনপি ইউনুস সাহেবের আমলে যে পরিমাণ চাঁদা বৃদ্ধি করেছে, চাঁদাবাজি করেছে, ঘাট দখল করেছে, ট্যাম্পু স্ট্যান্ড দখল করেছে, লুট করেছে এগুলোর কারণে বিএনপির নেগেটিভ একটা ভাইব তৈরি হয়ে গেছে। জামাতে ইসলাম খুব চেষ্টা করছে যে তাদের যেন ধোয়া তুলসি পাতা অথবা একেবারে সাদা কাপড়ের মতোই সাদা শুভ্র সব। এটা তারা মেইনটেইন করেছে, এই ভাইভ টা। সেজন্য বিএনপি ব্যাকফুটে আছে। তো স্বভাবতই আমি উত্তর না দিই। তাই আমার ব্যক্তিগত ধারণা হচ্ছে, যদি নির্বাচন  হয় তাহলে জামাত, এনসিপি ও ঐ জোট জেতার পারসেন্টেজ বেশি। 

সময় জার্নাল: আরেকটা ব্যাপার হলো যে, প্রচারণার শেষের দিকে অনেকেই ভাবতেছে যে আরও রক্তপাত হবে বা রক্ত ঝরবে। তো এই বিষয়টা নিয়ে আপনার মতামত কি? 

অধ্যাপক পারভেজ: উনারা হালকা পাতলা ঝাপসা ভাবছেন। কমনসেন্স থেকেই ভাবছেন। কারণ আমি কারো সঙ্গে কোনো ব্যাপারে আপস করব না। আমাকে যে জিততে হবে সেটা খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব। এটা তো বলবোই ক্যাম্পেইনের আগে। তাই বলে কি রক্তপাত করতে হবে? আমাদের এখানে জোর করেই জেতা, ঋণখেলাপিদের জেতা শত গুণ বেড়ে যাচ্ছে। তারা চিন্তা করতেছে এক হাজার কোটি, পাঁচশ কোটি, কোটি কোটি টাকার ঋণ। আমি ক্ষমতায় গিয়েই এগুলো দেব না। কিন্তু নির্বাচনে জেতা  তার জন্য পাঁচ-দশ কোটি, পঞ্চাশ কোটি টাকার বিষয় নয়। এক দেড় দুই হাজার কোটি টাকা লাভের বিষয়। তাদের মধ্যে যে জোস আছে এবং অপর পক্ষেও তাই। আমি সারাজীবন রাজনীতি করছি। আমাকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদীরা কষ্ট দিয়েছে। আমি এখন জিতব। এবং ভালো শাসন দেবে এবং আল্লাহর শাসন কায়েম করবে এবং সৎ জীবন দেবে। জামাতের এই যে ভাবনা চিন্তা এটাও সাংঘাতিক স্ট্রং। তাই আমি স্ববিরোধী এবং পরস্পরবিরোধী এই ধরনের। রাজনীতি ক্ষোভে সংঘর্ষ প্রবণ হয়ে পড়বে। 

জনগণ যে কথা বলতেছে আমিও সেটার সাথে একমত। এবং যদি ডক্টর ইউনূসের সরকার এবং ইলেকশন কমিশন যথেষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে না পারে। যদি পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইসির কথামতো মারদাঙ্গা না হয়, তাহলে আমাদের শেষ রক্ষা কোথায়? আমাদের সেনাবাহিনী। এখন পর্যন্ত আমি যতটুকু জানি, সেনা প্রধান, যারা সেনা বাহিনীর লোকজন, যারা রাস্তায় আছে এবং যারা নামবে আরো পরে তাদের কাছে ক্লিয়ার অর্ডার আছে। পরিষ্কার নির্দেশনা আছে সংঘর্ষ এবং বেআইনি কার্যকলাপ সম্বন্ধে। এরকম একটা অবস্থায় মধ্যবিত্ত জায়গায় যে হিট অ্যান্ড রান প্রতিদ্বন্দ্বীকে মেরে দিলাম ও অফিস জ্বালাই দিলাম এই কাজটাও গেরিলা স্টাইলে রাজনৈতিক এক্টিভিস্টরা করতে থাকবে। কারণ এখানে অনেকের বাঁচা মরার ব্যাপার। 

এখানে আমরা আমি দুটো জোটের কথা বলছি। বাংলাদেশের একটা বিশাল রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগ এটাকে অস্বীকার করলে আমি তার সাথে নাই। তাই সেই যে রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগ, তারা কি এমন কিছু হতে দেবে? বা এমন কিছু হওয়ার চেষ্টা করবে না যে, আগামীতে সরকার গঠন তারা করুক যারা আওয়ামী লীগের জন্য ভালো হবে। তারমানে আওয়ামী লীগের জিন এটা আপনারা না দেখলেও আমি দেখছি। আওয়ামী লীগের ভোটের সংখ্যা ২০% কমবেশি, বেশি ফিক্সড নৌকা। তারা ঘুমের মধ্যে নৌকা দেখে। আমি এদেরকে অগ্রাহ্য করতে চাই না। 

কারণ পরিবর্তন হয়ে গেছে। বিপ্লব ঘটে গেছে। বিপ্লবের পরে একজন লোকের ফাঁসি হয় নাই। শুধু ফ্যাসিস্ট শক্তির কিছু লোককে শেখ হাসিনাসহ অনেককে আবদ্ধ করা হয়েছে। জেলে নেওয়া হয়েছে পুঁজিপতি, ঋণখেলাপী অনেককে। কিন্তু একটা বিপ্লবের পরে ফরাসী বিপ্লব বা যেকোন বিপ্লবের পরে বিপ্লবের চেতনার বিরুদ্ধে যারা ছিল ওদের বিচার করা হয় দ্রুত এবং ফাঁসি দেওয়া হয়, যাবজ্জীবন দেওয়া হয় এবং তাদেরকে দশ বছর, পাঁচ বছরের জেল দেওয়া হয়। বাংলাদেশে এরা সবাই কারাগারে আছে কি হিসাবে? বিচারাধীন লোক হিসাবে এরা সবাই মুক্ত হয়ে যেতে পারে। এদের মধ্যে চারভাগের একভাগ শাস্তি হতে পারে। তাই আমাদের এটা অসমাপ্ত বিপ্লব। ও অভ্যুত্থান। যেই অভ্যুত্থানে কোন ফাঁসি হয় নাই ,শাস্তি হয় নাই। 

আইসিটিতে শেখ হাসিনা যত জন লোক ঝুলাইছে। এই আইসিটি হাসিনার অত ঝুলায় নাই। তাহলে হাসিনার গণতান্ত্রিক শাসনে গত তিন টার্মের যদি এতগুলো লোককে ফাঁসি দেওয়া হয়, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আসমানে পাঠানো হয়। তাহলে আমি যেটা বলব, এটা হয়ে গেছে একটি অসমাপ্ত বিপ্লবের গল্প। যার জন্য আমি মনে করছি আরেকটি সংঘর্ষ। বিপ্লবের পক্ষে বিপক্ষের চেতনার মধ্যে একটি দ্বন্ধ আমি দেখতে পাচ্ছি।

সময় জার্নাল: নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাযে দলগুলোর বিদেশী শক্তির প্রভাব নির্বাচনে পড়বে কিনা? 

অধ্যাপক পারভেজ: এটা সব জায়গায় আমি শুনতে পাই। হাটে মাঠে বাজারে। বাংলাদেশের নির্বাচনে বিদেশি শক্তির প্রভাব পড়বে কিনা? আমি প্রশ্ন করব বাংলাদেশের। অন্তত পাঁচটি নির্বাচন।  শেখ হাসিনা নির্বাচনগুলো কী ভারত দ্বারা প্রভাবিত ছিল না? বিএনপি বা জামাতের লোকরা এত খারাপ ভাষায় কথা বলে যে র' এর ছত্রছায়ায় নির্বাচনগুলো হয়েছে। কখনও কখনও অনেক সময় বলা যায় পাকিস্তান পন্থিরা প্রভাব বিস্তার করছে। 

এইবার বঙ্গোপসাগর দখলকে কেন্দ্র করে আমাদের যে ভূ রাজনৈতিক অবস্থা, তাতে বঙ্গোপসাগরের উপরে প্রাধান্য প্রভাব বিস্তার করা নিয়ে বিদেশী শক্তিগুলোর মধ্যে একটা দ্বন্দ কাজ করছে। পরিষ্কার করে বলতে গেলে ভারত, চায়না, আমেরিকা এবং এখানে রাশিয়াও আছে কারো ঘাড়ে, কারো কোলে। এই পরাশক্তিগুলো বে অফ বেঙ্গল কন্ট্রোল নিতে অথবা অন্যের কন্ট্রোল কে খর্ব করতে ক্রিয়াশীল। তাদের প্রভাব নির্বাচনে দেখা যাবে। 

এবং এইগুলো ভারতের মিডিয়া আপনারা যদি শুনেন আপনারা দেখবেন তারা চেষ্টা করতেছে প্রোপাগান্ডা ওয়ার করতে। এটা যদি আপনারা আমাদের মিডিয়া ভালো করে শুনেন, আপনি দেখবেন যে অনেকে ব্লেইম করছে যে বিদেশী শক্তির পক্ষ নিচ্ছে। সো এটা কিন্তু ওপেন এবং পাকিস্তান, সৌদি আরব বা মুসলিম উম্মাহ নিশ্চয়ই চাইবে যে বাংলাদেশে, আই রিপিট সৌদি আরব বলি, আমাদের বন্ধু বলি, কাতার বলি, মিডল ইস্ট বলি, পাকিস্তান বলি আমাদের মুসলিম উম্মাহ। তারা চাইবে বাংলাদেশে একটি প্রো মুসলিম গভর্মেন্ট হোক অর্থাৎ ইসলামী গণজাগরণ হোক এবং নাস্তিকতা থেকে বাংলাদেশ দূরে সরে আসুক এটা তো ওরা চাইবেই। টার্কি কি চাইবে, সৌদি যুবরাজক চাইবে যে বাংলাদেশে নির্বাচনের মাধ্যমে নাস্তিকতা বিরাজ করুক। 

এখানে ধর্মনিরপেক্ষতা একটা বুলিতে রূপান্তর হইছে। আমরা কেউ ধর্মনিরপেক্ষ না। পাঁচবার নামাজ পড়ি। আমি রোজা রাখি, সদকা দেই। যাকাত দেই। যেখানে সংস্কৃতিতে ধর্ম। আজানের সময় কাজ বন্ধ করে নামাজ পড়া আমাদের কালচার। তো এই জায়গায় ধর্ম নিরপেক্ষতা ছিল একটা চাপিয়ে দেওয়া সংস্কার। ভারত যতখানি ধর্মনিরপেক্ষ, আমরা তার চেয়ে বেশি ধর্মনিরপেক্ষ হতে পারব না। সেখানে ভারতে আমরা দেখতে পাচ্ছি কী অবস্থা। সৌদি আরবে আমরা অনেক বেশি ইসলামিক কালচার দেখব। এটা কিন্তু খুবই ন্যাচারাল। এটা কিন্তু খুবই ন্যাচারাল যে  ধর্মীয় একটা চেতনা থাকবে। 

আমাদের এখানে যখনই চেষ্টা করা হয়েছে ধর্মীয় নিরাপেক্ষতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গুলিয়ে, আমাদেরকে হয় ক্যাপসুল বা শরবত বানিয়ে খাওয়ানো হয়েছে। মানুষ এটা ডাইজেস্ট করতে পারে নাই। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এটি গুলিয়ে খাওয়ানো ওইটার সঙ্গে আবার ধর্মীয় ধর্মনিরপেক্ষতা অথবা বাংলাদেশে সব কালচারের একই দৌরাত্ম্য।  ধর্মীয় চেতনা আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মিশিয়ে দিতে গিয়ে এটা টক হয়ে গেছে। আমি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করেই বলছি, ওনার পরামর্শকরা ওনার এডভাইজার এরা ওনাকে বিপদগামী করেছে। কারণ ওরা আমাদের পর্যায়ের না, আমেরিকায় শিক্ষিত। আমেরিকার প্রফেসর তারা তাদের ধর্ম করে, কারো ধর্ম নিয়ে মাথা ঘামায় না, কারো ধর্ম সম্বন্ধে চিন্তা করে না।

কিন্তু আমাকে তো আমার মানুষের ধর্ম সম্বন্ধে চিন্তা করতে হবে। জুমার দিন ছুটি দিতে হবে নামাজ পড়ার জন্য। জুমা নামাজের জন্য যদি খোলাও থাকে কোনো অফিস তাকে টাইম দিতে হবে। 

একটা দেশের সংস্কার, একটা দেশের সংস্কৃতি, যেই ধর্মীয় চেতনায় বেশি প্রভাব থাকে সেটার প্রভাব এখানে আসবে। আওয়ামী লীগ এই জন্য অন্তত ক্ষমতা ধরে রেখেও নির্বাচনী কারসাজির মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারে নাই। পলিটিকাল সায়েন্সের রাজনীতি বিজ্ঞানের এই বিষয়টা হাসিনার বুদ্ধিজীবী এডভাইজার দেননি।

এমআই


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল