খালেদ হোসেন টাপু রামু (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
রামুতে মহাবোধি বুদ্ধ ধাতু চৈত্য 'স্বর্ণজাদী' অভিষেক অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে আগামীকাল (৩০ জানুয়ারি) শুক্রবার। এ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী শুভ মাঘী পূর্ণিমা উদ্যাপন এবং জাতীয় বৌদ্ধ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে 'মহাবোধি বুদ্ধ ধাতু চৈত্য অভিষেক ও শুভ মাঘী পূর্ণিমা উদ্যাপন পরিষদ ২০২৬। বৌদ্ধের ধর্মীয় এ অঅনুষ্ঠান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
আগামী ৩০, ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি তিন দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য এই মহতী ধর্মীয় কর্মযজ্ঞে দেশ-বিদেশের বরেণ্য ভিক্ষুসংঘের সদ্ধর্ম দেশনা, পবিত্র ধাতু ও মুকুট স্থাপন এবং ঐতিহাসিক স্বর্ণজাদীর অভিষেক অনুষ্ঠান উদযাপিত হবে। এ আয়োজনে থাইল্যান্ড, ফ্রান্স, শ্রীলংকা, কলকাতা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার বৌদ্ধ ভিক্ষু ও পূণ্যার্থীরা অংশ নিবেন।
মহাবোধি বুদ্ধ ধাতু চৈত্য অভিষেক ও শুভ মাঘী পূর্ণিমা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি ও রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের অধ্যক্ষ শীলপ্রিয় মহাথের জানান, রম্যভূমি রামু বাংলাদেশের বৌদ্ধদের জন্য একটি পবিত্র তীর্থস্থান। হাজার বছরের প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যমণ্ডিত বৌদ্ধ জনপদ হলো রামু। এ জনপদে ১৭০৬ খ্রিস্টাব্দে স্থাপিত হয়েছে রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহার। এই বিহারে বুদ্ধের পবিত্র ধাতু নিয়ে নবনির্মিত মহাবোধি বুদ্ধ ধাতু চৈত্য (স্বর্ণজাদী) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার থেকে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান আয়োজনে মহাবোধি বুদ্ধ ধাতু চৈত্য (স্বর্ণজাদী) এর অভিষেক হবে।
মহাবোধি বুদ্ধ ধাতু চৈত্য অভিষেক ও শুভ মাঘী পূর্ণিমা উদ্যাপন পরিষদের সমস্বয়কারী উ খন্তিপঞ্ঞা মহাথের জানান, তথাগত সম্যক সম্বুদ্ধের পরম পবিত্র সদ্ধর্মের আলোকচ্ছটায় উদ্ভাসিত হতে যাচ্ছে এক মহা-পুণ্যময় ক্ষণ। তিন দিনব্যাপী মহা আয়োজনে আগামীকাল শুক্রবার অভিষেক হচ্ছে রামুতে স্বর্ণজাদী।
উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুবীর বড়ুয়া বুলু জানান, রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারে স্বর্ণজাদী অভিষেক উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রতিদিন ভোরে বুদ্ধ পূজা, সকালে ভিক্ষু সংঘের পিন্ডদান, জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন ও অষ্টপরিষ্কারসহ মহাসংঘদান, দুপুরের অতিথি ভোজন এবং বৌদ্ধ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় পুরাতন জাদীতে ধাতু ও মুকুট স্থাপন, দুপুর ৩টায় এক হাজার বুদ্ধ প্রতিবিম্ব সহকারে সারিবদ্ধ সুসজ্জিত আসন আনয়ন এবং রাতে ধর্মীয় কীর্তন। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় বুদ্ধের জীবনী স্থাপন, দুপুর ২টায় নব সন্নিবেশিত এক হাজার বুদ্ধ প্রতিবিম্ব-ধাতুকরন্ডসহ বুদ্ধকীর্তন সহকারে গ্রাম প্রদক্ষিণরত ও সদ্ধর্ম সভা, রাত ৮টায় বুদ্ধ ধর্মীয় কীর্তন ও ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রবিবার সকাল সাড়ে ৭টায় নবনির্মিত জাদীতে বুদ্ধ-অহরৎ ভিক্ষু সংঘের ধাতু ও মুকুট স্থাপন, ২৪টি দণ্ডায়মান বুদ্ধ প্রতিবিম্বে ধাতু স্থাপন এবং রাতে বুদ্ধ ধর্মীয় কীর্তন ও ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে উখিয়া সংঘরাজ ভিক্ষু সমিতির সভাপতি ধর্মপাল মহাথের, কুমিল্লা নবশালবন বিহারে অধ্যক্ষ শীলভদ্র মহাথের, ফ্রান্সের বৌদ্ধ ভিক্ষু কে আনন্দ মহাথের, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, কক্সবাজার পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান প্রধান অতিথি এবং বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার ধর্মপ্রিয় মহাথের, উপসংঘরাজ শাসনপ্রিয় মহাথের উপসংঘরাজ ধর্মদর্শী মহাথের, নাইক্ষ্যংছড়ি ধুংরী হেডম্যান পাড়া বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ উঃ আছবা মহাথের, শাকপুরা তপোবন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ বসুমিত্র মহাথের তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বলে জানান, মহাবোধি বুদ্ধ ধাতু চৈত্য অভিষেক ও শুভ মাঘী পূর্ণিমা উদ্যাপন পরিষদের প্রকাশনা-সংবাদ উপ-পরিষদের আহ্বায়ক দর্পণ বড়ুয়া।
রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারে সাধারণ সম্পাদক রাজু বড়ুয়া বুদ্ধশাসনের এই পরম গৌরবময় মুহূর্তে বিভিন্ন পুণ্যকর্মে নির্বাণের পাথেয় সঞ্চয় করতে এবং দুর্লভ পুণ্যরাশির অংশীদার হতে স্বপরিবারে ও সজ্ঞাতীবর্গকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
একে