জেলা প্রতিনিধি:
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমি আমার মায়েদের কীভাবে সম্মান করি, আমার মায়েরা তার সাক্ষী, বাংলাদেশের ৯ কোটি মা তার সাক্ষী। আমার টুইটার যেটাকে এখন এক্স বলা হয়, এই অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ১৫ ঘণ্টা আগে মায়েদের নিয়ে অত্যন্ত বাজে, অরুচিকর, কুরুচিপূর্ণ একটা বক্তব্য দিয়ে দিছে। একটা দল দেখলাম যে হইহই রইরই করে মিছিল শুরু করে দিছে। যারা মায়েদের সম্মান করতে জানে না, তারা এখন মিছিল শুরু করে দিল। মানে এই কাজ কে করেছে, ঠাকুরঘরে কে, আমি কলা খাই না।’
রোববার (১ জানুয়ারি) বেলা পৌনে একটার দিকে শেরপুর শহরের দারোগালি মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জামায়াতের আমির এ কথা বলেন। তিনি শেরপুরের তিনটি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘একেবারেই ইতরশ্রেণি না হলে এই কাজ কেউ করতে পারে না। আরে ভাই, আমার বক্তব্য, আমার কর্মসূচি, আমার পরিকল্পনাকে তুমি তোমার বক্তব্য, আদর্শ, কর্মসূচি, পরিকল্পনা দিয়ে মোকাবিলা করো। এই চোরাই পথে, নোংরা পথে কেন?’
তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সাত ঘণ্টা পরে এখন আমার অ্যাডমিনের কন্ট্রোলে আবার এটা ফিরে এসেছে। ওই ঘটনার পর এতে সাময়িক যদি কোনো মা, ওদের অপতথ্যের কারণে কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমি তাদের কাছে ক্ষমা চাই।’
গণমাধ্যমের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আবার আপনারা লিখে দিয়েন না যে উনি বাজে মন্তব্য দেওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। আপনারা কিন্তু এটা করেন মাঝে মাঝে। দু-একজন, সবাই না। আমি সাবধান করে দিলাম এই ব্যাপারে।’
শেরপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, প্রশাসনের ডাকা সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই জামায়াত নেতা রেজাউল করিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পেরিয়ে গেলে এখনো কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, যারা নিজের দলেরই দুই শতাধিক মানুষকে বিদায় করেছে, তাদের কাছে মানুষের জীবন ও ইজ্জত নিয়ে খেলা করা নতুন কিছু নয়। যারা এমন কাজ করছে, তারা তাদের পাওনা সময়মতো বুঝে পাবে।
বিগত ১৫ বছরের রাজনৈতিক নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে জামায়াতের আমির বলেন, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। নিবন্ধন ও প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর সিদ্ধান্তে নিষিদ্ধের পঞ্চম দিনেই সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটে।
এমআই