বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দি ইকোনমিস্ট

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ৫, ২০২৬
তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে

সময় জার্নাল ডেস্ক:

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এগিয়ে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাময়িকী দি ইকোনমিস্ট। গত ২ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত এক বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে সাময়িকীটি লিখেছে, ‘খ্যাতনামা এক রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শীর্ষ দাবিদার।’

বিশ্লেষণে বলা হয়, এ নির্বাচন হবে ১৮ মাস আগে সংঘটিত এক ‘বিপ্লব’-এর পর প্রথম নির্বাচন, যখন ‘জেনারেশন জেড’র আন্দোলনকারীরা ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের হত্যাযজ্ঞ ও দুর্নীতিগ্রস্ত ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটায়।

এতে আরও বলা হয়, ‘গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে, বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করবে এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের টানাপোড়েন সম্পর্ক মেরামত শুরু করবে।’

তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দি ইকোনমিস্টের এ পূর্বাভাস এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টাইম ম্যাগাজিন ও ব্লুমবার্গসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একই ধরনের বিশ্লেষণের পর।

সাময়িকীটি ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার দৃশ্য বর্ণনা করে লিখেছে, ‘বুলেটপ্রুফ বাসে করে তিনি যখন ফিরছিলেন, তখন উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা রাস্তায় ছুটে আসেন এবং বাসটি কয়েক মাইল ধীরগতিতে চলছিল, যেন অপেক্ষমাণ সমর্থকরা তাকে ভালোভাবে দেখতে পারেন।’

দি ইকোনমিস্ট মন্তব্য করেছে, ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে আর কোনো ‘যথাযথ’ নির্বাচন হয়নি এবং দেশের প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ কখনো প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি।

নিরাপত্তাবিষয়ক থিংকট্যাংক বিআইপিএসএসের শাফকাত মুনিরকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আমার জীবনের দুই দশক ধরে আমার ভোটের কোনো মূল্য ছিল না। এখন রাজধানীর রাস্তাঘাটজুড়ে নির্বাচনী ব্যানার শোভা পাচ্ছে।’

বিশ্লেষণে বলা হয়, ‘নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এ নির্বাচন তত্ত্বাবধান করাই হবে শেষ দায়িত্ব। তবে অধিকাংশ মানুষ একমত যে, এই সরকার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করেছে।’

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘অন্তর্বর্তী সরকার রাজনীতিকদের সঙ্গে কাজ করে এমন সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে, যা নতুন করে স্বৈরতন্ত্রের মধ্যে পতন ঠেকাতে সহায়ক হবে—যেমন একটি নতুন উচ্চকক্ষ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করা।’

জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, দলটি নির্বাচিত হলে ‘সব বাংলাদেশির জন্য সংযতভাবে শাসন করবে’ বলে দাবি করলেও, তাদের অগ্রগতি শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। দলটি নির্বাচনে একজনও নারী প্রার্থী দেয়নি। এ ছাড়া যে দলটি আগে কখনো সংসদে ১৮টির বেশি আসন পায়নি, তারা দেশ পরিচালনার জন্য যথেষ্ট অভিজ্ঞ—এটাও স্পষ্ট নয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এ সবকিছুই তারেক রহমানের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে, কারণ তার বিএনপি জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে।’

দি ইকোনমিস্ট স্মরণ করিয়ে দেয়, বহু বছর ধরে দলটি পরিচালিত হয়েছে তার প্রয়াত মা খালেদা জিয়ার মাধ্যমে এবং তার আগে এটি পরিচালনা করেছিলেন তার বাবা, যিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রেসিডেন্ট, যিনি ১৯৮১ সালে নিহত হন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ১৯৯১, ’৯৬ ও ২০০১ তিনবার ক্ষমতায় আসে।

সাময়িকীটি লিখেছে, তারেক রহমান বিস্তারিত না দিলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—নির্বাচিত হলে তার দল বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এবং আরও বেশি তরুণ বাংলাদেশিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেবে, যাতে তারা বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি পেতে পারে।

‘তিনি পানির সংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের এবং বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভালো মানিয়ে নিতে পারবেন,’ বলা হয় প্রতিবেদনে।

দি ইকোনমিস্ট আরও লিখেছে, তারেক রহমান বলেছেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তার সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালে বিক্ষোভকারীদের হত্যার জন্য দায়ীদের বিচার হতে হবে, তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার তিনি করবেন না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমানের যুক্তি—২০২৪ সালের বিপ্লব দেখিয়েছে, যেসব সরকার জনগণের জন্য কোনো কর্মসূচি রাখে না, তাদের কী পরিণতি হতে পারে। তার মতে, ‘প্রতিশোধপরায়ণ হওয়া কারও জন্যই ভালো কিছু বয়ে আনে না।’

দেশে ফেরার পর থেকে তারেক রহমান মানুষের চাওয়া অনুযায়ী অনেক কথাই বলেছেন, যদিও এখনো অনেকেই ‘অব দ্য রেকর্ড’ কথা বলতে পছন্দ করেন—যদি অন্য পক্ষ জিতে যায়, সেই আশঙ্কায়।

‘পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, লন্ডন থেকে ফিরে আসা এ মানুষটিকে আগের চেয়ে ভিন্ন মনে হচ্ছে,’ উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

একে 


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল