অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুর জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই ৫৪টি ইটভাটায় ইট পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ভাটা স্থাপন করা হয়েছে আবাদি জমিতে এবং কিছু ভাটা গড়ে উঠেছে আবাসিক এলাকার পাশেই। অনেক ক্ষেত্রে কাঠ ব্যবহার করে ইট পোড়ানো হচ্ছে, যা আইনের পরিপন্থী। ফলে কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বায়ুদূষণের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগব্যাধি বাড়ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় সদর উপজেলায় ৪০টি, রামগঞ্জে ১৫টি, কমলনগরে পাঁচটি, রামগতিতে ৪৭টি এবং রায়পুরে চারটি ইটভাটা রয়েছে। তবে এসবের মধ্যে সদরের ৩৪টি, রামগঞ্জের পাঁচটি, রায়পুরের দুটি, রামগতির আটটি এবং কমলনগরের পাঁচটি ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের বৈধ ছাড়পত্র নেই।
ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, আবাদি জমিতে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে ভাটায় ১২০ ফুট উঁচু পাকা চিমনি ব্যবহার বাধ্যতামূলক এবং কাঠ পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করেই বহু ভাটা পরিচালিত হচ্ছে।
সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নে জৌনপুরী ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি ও প্রাণ-ভগবতী গ্রামের মেসার্স আল আরাফ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই ইট পোড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে কমলনগরের তেরাবগঞ্জ ইউনিয়নে আল মদিনা ইটভাটা ও ভাই ভাই ইটভাটাতেও অনুমোদন ছাড়া কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
কমলনগরের চরকাদিরা ইউনিয়নের রব বাজার সংলগ্ন এ বি এম ব্রিকফিল্ড চালু করেছেন আবুল বাশার মাঝি। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ভাটার ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারণে সয়াবিন, বাদাম ও মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল বাশার মাঝি বলেন, ইটভাটার কারণে কিছু ক্ষতি হলেও এতে এলাকার কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
পৌরসভার মডেল ডিগ্রি কলেজের সামনে মেসার্স পাটোয়ারী ব্রিকসে কয়েক বছর ধরে ইট পোড়ানো হচ্ছে। রামগঞ্জ উপজেলার উত্তর শৈরশৈই গ্রামে ফসলি জমিতে এম এম বি ব্রিকফিল্ড, আব্বাস ব্রিক, মেঘনা ব্রিক, সুধারাম এবিএম ব্রিক, আকারতমা এসবিএম ব্রিক, এফবিএম ব্রিক, কাটাখালী এইচটিসি ব্রিক, ভাট্রা রামসিংপুর এমএসবি ব্রিক, লক্ষ্মীধর পাড়া মোতালেব ব্রিক, হাজীরপাড়া এমডিএ ব্রিক, দেহলার মদিনা ব্রিক, জেবিএম ব্রিক ও আজিমপুর পাটোয়ারী ব্রিকে পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকার পাশাপাশি নিম্নমানের চিমনি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
সদর উপজেলার জৌনপুরী ব্রিকসের পাশের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভাটার ধোঁয়ার কারণে গাছে গত দুই বছর ধরে ফল ধরছে না। শিশুদের সর্দি-কাশি লেগেই আছে। ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।
এ ছাড়া সদর উপজেলার আধারমানিক এলাকায় কেএসএইচআই ব্রিকফিল্ডেও সরকারি অনুমোদন ছাড়াই ইট পোড়ানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ পাঠান মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সম্রাট খীসা বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া অধিকাংশ ইটভাটা গড়ে উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পরিবেশবিদদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে পরিবেশ সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এমআই