সর্বশেষ সংবাদ
পবিপ্রবি প্রতিনিধি:
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি ) ফিজিক্স অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ড. খোকন হোসেনের বিরুদ্ধে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী ভক্ত হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ড. খোকন হোসেন বিএনপি মতাদর্শের শিক্ষক সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), পবিপ্রবি ইউনিটের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পাওয়ায় সংগঠনটির কমিটি সমালোচিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
পবিপ্রবি সূত্রে জানা যায়, ঢাকার সাভার উপজেলার একটি আওয়ামী পরিবারের সন্তান অধ্যাপক খোকন হোসেন পবিপ্রবিতে চাকরিতে যোগদানের পর আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপক (গ্রেড–৩) এবং সর্বশেষ ২০২২ সালে অধ্যাপক (গ্রেড–২) পদে পদোন্নতি লাভ করেন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার কারণেই এসব পদোন্নতি পেতে তাঁকে বেগ পেতে হয়নি। তৎকালীন আওয়ামী প্রশাসনের সঙ্গে সখ্যতার কারণে তিনি সময়মতো পদোন্নতির পাশাপাশি তিন দফা বিভাগীয় চেয়ারম্যানের দায়িত্বসহ নানা সুবিধা ভোগ করেন।
শুধু তাই নয়, অধ্যাপক ড. খোকন হোসেন আওয়ামী প্রভাব ব্যবহার করে তাঁর স্ত্রী ডা. ফারজানা শারমীন ঈশিতার জন্য বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের চাকরি নিশ্চিত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ ফ্যাসিস্ট পতনের আগে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বদলি করিয়ে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সব ধরনের পদোন্নতি ও সুযোগ-সুবিধা নির্বিঘ্নে অর্জন করেন।
সূত্র জানায়, অধ্যাপক ড. খোকন হোসেনের এক ভাই খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন, যিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন।
এছাড়াও অধ্যাপক ড. খোকন হোসেনের বিরুদ্ধে একজন পিএইচডি শিক্ষার্থীর বৃত্তির অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ডিন কাউন্সিলের কনভেনর থাকাকালে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দ্বিতীয় গ্রেড প্রদানেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন এবং এ সময় অনেকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উপঢৌকন গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী ফ্যাসিস্ট পতনের পর পবিপ্রবির এক প্রভাবশালী বিএনপিপন্থী শিক্ষকের সহযোগিতায় অধ্যাপক ড. খোকন হোসেন রাতারাতি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপিতে যুক্ত হন। পরবর্তীতে ওই শিক্ষক নেতার সহায়তায় বিধিবহির্ভূতভাবে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ম্যাথমেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসুদুর রহমানকে বঞ্চিত করে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন পদ বাগিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নিজের আওয়ামী সংশ্লিষ্টতা ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ধামাচাপা দিতেই তিনি ইউট্যাবের পবিপ্রবি ইউনিটের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন।
সরেজমিনে জানা যায়, বর্তমানে অধ্যাপক ড. খোকন হোসেন আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেকে বিএনপি মতাদর্শের একজন প্রতিষ্ঠিত শিক্ষক হিসেবে তুলে ধরতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬-এর বরিশাল বিভাগীয় লোকাল কমিটিসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, অধ্যাপক ড. খোকন হোসেন অতীতে জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট, জেল হত্যা দিবস, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ও শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ ও পুষ্পমাল্য অর্পণ করতেন। এমনকি মা, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে পবিপ্রবি ক্যাম্পাসে স্থাপিত শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বলে জানা যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউট্যাব পবিপ্রবি ইউনিটের কার্যকরী কমিটির এক সদস্য বলেন, “অধ্যাপক খোকন হোসেনের আওয়ামী সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে সবাই অবগত থাকার পরও তাঁকে সংগঠনের কার্যকরী কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে, যা শুরু থেকেই আমাদের অনেককে বিব্রত করেছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাসিস্ট প্রশাসনের আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও অধ্যাপক খোকন হোসেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেখানে উপস্থিত থাকতেন—এর কারণ তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়।”
একে
Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.
উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ
কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল