নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানিয়েছেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আজ পর্যন্ত ৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সৌদি আরবে ২ জন, বাহরাইনে ১ জন ও দুবাইয়ে ১ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মতো আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার (৯ মার্চ) দুবাইয়ে নিহত আহমদ আলীর লাশ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রহণকালে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট শুরু হওয়ার পর যখন ফ্লাইট বন্ধ ছিল, তখন থেকেই যাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা করাসহ সংকট নিরসনে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, আজকেও আমরা সৌদিতে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। টাঙ্গাইলের নিবাসী নিহত বাচ্চু মিয়ার পরিবারের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, কিশোরগঞ্জের যিনি মারা গিয়েছেন তার পরিবারের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪ জন আহত আছেন। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে থাকা আমাদের দূতাবাসগুলো তাদের পূর্ণাঙ্গ সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেহেতু এই সংকটের ওপর আমাদের কোনো হাত নেই, তাই প্রবাসীদের প্রতি আমাদের পরামর্শ হলো- যতটুকু সম্ভব সংঘাতপূর্ণ এবং বিশেষ করে যে স্থানগুলো আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে, সেই এলাকাগুলো এড়িয়ে চলুন।
সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দেওয়া সতর্কতামূলক সাইরেন ও দিকনির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি প্রবাসীদের প্রতি অনুরোধ জানান, যাতে ওই দেশগুলোর আইনবিরোধী কোনো কনটেন্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার না করা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, আমরা খুবই হৃদয়বিদারক একটি পরিস্থিতিতে এখানে এসেছি। বাংলাদেশের কাছে নাগরিকদের নিরাপত্তাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং নিহত আলী আহমেদের পরিবারের সদস্যরা মরদেহ মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় নিয়ে যাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, গতকাল রিয়াদে আরও দুজন নিহত হয়েছেন। তাদের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। শামা ওবায়েদ বলেন, আমরা আশা করি যুদ্ধের এই অবস্থার অবসান ঘটবে এবং আমাদের আর কোনো মৃত্যু দেখতে হবে না।
প্রসঙ্গত, আহমেদ আলীর মরদেহ আজ সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-৫৮২ (EK 582) ফ্লাইটে ঢাকা পৌঁছায়। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট বিমানবন্দরে লাশ গ্রহণ করেন। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় নিহতের গ্রামের বাড়িতে দাফনকার্য সম্পন্ন করা হবে।
একে