বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:
ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল, অবৈধ পার্কিং এবং হকারদের ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কারণে এমনিতেই যানজট থেকে মুক্তি মিলছে না বগুড়া শহরবাসীর। এর মধ্যে ঈদের আগে গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো দেখা দিয়েছে বগুড়া সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের সড়ক সংস্কার কাজ।
শহরের সাতমাথা বনানী মহাসড়কের ভাইপাগলা মাজার থেকে কলোনী বাজার পর্যন্ত সড়কে গত তিন সপ্তাহ ধরে সংস্কার কাজ করছে সওজ বিভাগ। এতে এক লেনে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে ওই এলাকায় নতুন করে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যা পথচারী ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সড়ক বিভাগের এমন কর্মকাণ্ডে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় লোকজন ও সড়ক ব্যবহারকারীরা। তারা বলছেন, কাজটি ঈদের আগেই কেন করতে হবে। কাজটি আরও আগে শুরু করা যেত, অথবা ঈদের পর শুরু করা যেত।
সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বনানী থেকে মাটিডালি পর্যন্ত ৮ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে প্রায় ২৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ভাইপাগলা মাজার থেকে কলোনী বাজার পর্যন্ত অংশে বর্ষাকাল ছাড়াও বছরের বেশিরভাগ সময়ই পানি জমে থাকত। এতে কার্পেটিং করা রাস্তা বারবার মেরামত করলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে তা টেকসই হতো না। এ কারণে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য কার্পেটিং তুলে আরসিসি ঢালাই দিয়ে রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে।
কাজটি পেয়েছে ভাওয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। গত ডিসেম্বরে কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ শুরুর কথা ছিল।
সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের এক পাশের কার্পেটিং তুলে সেখানে রড ও সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই দেওয়া হয়েছে। এতে ওই অংশে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় গাড়ি ধীরগতিতে চলাচল করছে। ঈদের আগে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় প্রায়ই দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক আইনুর রুবেল বলেন, এ সড়কে তেমন কোনো সমস্যা ছিল না। ভালো সড়কের কার্পেটিং তুলে আরসিসি ঢালাই দেওয়া হয়েছে। সড়কের কলোনী অংশে বর্ষাকালে জলজট তৈরি হয়। তবে এ জন্য সড়ক মেরামতে অর্থ ব্যয় করার আগে পানি নিষ্কাশনের জন্য সড়কের দুপাশে আধুনিক নালা নির্মাণ বেশি জরুরি ছিল।
ওই রুটে অটোরিকশা চালান নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঈদের মার্কেটের কারণে সাতমাথার মধ্যে তো যাওয়া আসাই যাচ্ছে না। এই রাস্তার এক দিক বন্ধ করে রাখায় এখানেও যানজট লেগেই থাকে। শহরের মধ্যে গাড়ি চালানোই সমস্যা হয়ে গেছে।
আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তি বলেন, যানজটের কারণে আমরা হাফিয়ে উঠেছি। শহরের নতুন নতুন পয়েন্টে যানজট তৈরি হচ্ছে। অথচ যানজট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ কাউকে নিতে দেখছি না।
ভাওয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের প্রতিনিধি মো. শরিফুজ্জামান বলেন, গত ডিসেম্বরে কার্যাদেশ পেলেও ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে সময়মতো কাজ শুরু করা যায়নি। নির্বাচন শেষে রমজান মাসেই সংস্কারকাজ শুরু করা হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে সড়কের এক লেনের আংশিক অংশ যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রেখে বাকি অংশে কাজ চলছে।
বগুড়া জেলা পুলিশের ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) সালেকুজ্জামান খান বলেন, ঈদের সময় যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সড়ক সংস্কারের কারণে এক লেনে চলাচল সীমিত হওয়ায় যানজট বাড়ছে।
সওজের বগুড়া নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক বলেন, সড়কটির সংস্কার প্রয়োজন ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করে দ্রুত উভয় লেন যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
একে