আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চলমান ইরান সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে সোমবার নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সংঘাতটি এখন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, অধিকাংশ আহতই সামান্য জখম হয়েছেন এবং ১৮০ জন ইতোমধ্যে আবার দায়িত্বে ফিরেছেন। তবে আহতদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে—কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, বাহরাইন, ইরাক এবং ইসরায়েলে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্রমাগত হামলায় ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর এই আহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল।
সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি ইরান কূটনৈতিক মিশন, হোটেল, বিমানবন্দর এবং আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাত হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা সোমবার জানিয়েছেন, এই যুদ্ধে প্রায় এক ডজন এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস হয়েছে।
জেনারেল অ্যাটমিক্স-এর তৈরি এই এমকিউ-৯ রিপার চালকবিহীন ড্রোনগুলো অত্যাধুনিক ক্যামেরা, সেন্সর এবং রাডারের সাহায্যে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় ২৭ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আকাশে উড়তে পারে।
প্রায় ১৬ বছর আগে মার্কিন বিমানবাহিনীতে যুক্ত হওয়া এই রিপার ড্রোনটি আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্র বহনে সক্ষম।
সোমবার আরও জানা যায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল যে ইরানে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলা হতে পারে—যদিও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তেহরানের প্রতিক্রিয়া তার জন্য বিস্ময়কর ছিল।
যুদ্ধ-পূর্ব গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, ইরানের প্রতিক্রিয়া 'নিশ্চিত' না হলেও এটি সম্ভাব্য ফলাফলের তালিকায় ছিল—এমনটাই জানিয়েছেন এক সূত্র। বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য তিনি এবং আরও দুইজন নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।
সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুইবার বলেন, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং কুয়েতের ওপর ইরানের পাল্টা হামলা তাকে বিস্মিত করেছে। হোয়াইট হাউসে কেনেডি সেন্টার বোর্ড সভায় তিনি প্রথম এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'তারা (ইরান) মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে—এটা হওয়ার কথা ছিল না। কেউই তা প্রত্যাশা করেনি। আমরা বিস্মিত হয়েছি।'
এমআই