শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

বটলীফ চা শিল্পকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই: নিয়াজ আলী চিশতী

শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২৬
বটলীফ চা শিল্পকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই: নিয়াজ আলী চিশতী

মো. মাইদুল ইসলাম:

৪ এপ্রিল (শনিবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বটলীফ টি ফ্যাক্টরি ওনার্স এসোসিয়েশনের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে করছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক মো. নিয়াজ আলী চিশতী। সময় জার্নালের সাথে সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন বটলীফ শিল্পের উন্নয়ন ও এসোসিয়েশন নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো।

এসময় তিনি জানান, এই শিল্পটাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা রয়েছে তার। সেজন্য এই শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক উন্নত প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করা। কারখানার মালিক সংগঠনের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া, ক্ষুদ্র-মাঝারি কারখানাকে ঋণ পেতে সহায়তা করা, চা বোর্ডের সাথে যৌথভাবে কাজ করে তাদেরকে কিস্তিতে বা কম মূল্যে সকল মেশিন পাওয়ার ব্যবস্থা করা এবং বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ তৈরি  করে দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানান এই সভাপতি প্রার্থী। তার কথায় উঠে এসেছে এই শিল্পের উন্নয়নে এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নতি করে রপ্তানিতে জোর দেয়া এবং কারখানাগুলোকে আধুনিকায়ন করে এগিয়ে নেয়া সহ ইত্যাদি বিষয়।

সময় জার্নাল: বটলীফ চা শিল্প এবং এই সংগঠনটা নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি? এবং যদি আপনি যেহেতু সভাপতি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেছেন, জয়লাভ করলে এ সেক্টরের উন্নয়নে এবং অ্যাসোসিয়েশনের উন্নয়নে কী ভূমিকা রাখবেন যদি বলতেন?

নিয়াজ আলী চিশতী: চা শিল্প একটা ঐতিহ্যবাহী সম্ভাবনাময় খাত। চা শিল্পে শতকরা একশ ভাগই দেশীয় ইনগ্রেডিয়েন্ট। অন্য শিল্প সেটা গার্মেন্টস অথবা ওষুধ ইত্যাদি শত শত ফ্যাক্টরি বিভিন্ন ইনগ্রিডিয়েন্ট আমদানি করে, তারপর এখানে উৎপাদন করা হয়। কিন্তু চা একমাত্র শিল্প যেটা কাঁচামাল থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রসপেক্টস। যদি জয়লাভ করে দায়িত্ব গ্রহণ করি, তাহলে এই শিল্পটাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা আমাদের রয়েছে। বাংলাদেশের চা একসময় রপ্তানি হতো। বর্তমানে চা রপ্তানি খুব একটা হয় না। হয়তো এক-দুই মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি হয়। যেখানে আমরা একশ মিলিয়ন চা উৎপাদন করি। এর পেছনে কারণ? আন্তর্জাতিক মানের যে প্রযুক্তি, সে প্রযুক্তির সহায়তা না নেওয়াতে আমাদের চায়ের মান পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর চেয়ে কম। প্রোপার মেডিসিন যেগুলো দরকার সেগুলো ব্যবহার করি না। আমরা উর্বর শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য যে পরিমাণ রাসায়নিক সার ব্যবহার করি, সেটা কিন্তু প্রযুক্তি নির্ভর না। গতানুগতিকভাবে দিয়ে আসছে। ফলে অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে এখানে। 

এছাড়া চা বাণিজ্যমন্ত্রণলায়ের আওতাধীন একটা একটা সেক্টর। বাণিজ্য মন্ত্রণালযয় এবং চা বোর্ডের সমন্বয়ে কাজ করে একটা জবাবদিহিমূলক সংগঠন গড়ে তুলবো।

সময় জার্নাল: বাংলাদেশ বটলীফ টি ফ্যাক্টরি ওনার্স এসোসিয়েশনের সদস্যদের জন্য কোন নতুন উদ্যোগ নিবেন কিনা? 

নিয়াজ আলী চিশতী: বাংলাদেশ বটলীফ টি ফ্যাক্টরি ওনার্স এসোসিয়েশনের সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে ভাল মানের চা উৎপাদন করতে পারে। যখন ভাল মানের চা উৎপাদন করবে, তখন আমরা ভাল বিক্রি করতে পারব। এজন্য সদস্যদেরকে প্রতিনিয়ত ওয়ার্কশপ, ট্রেইনিং করানো হবে। চা একটা শিল্প। কাজেই কৃষকের জন্য যে ব্যাংক লোন সেটার ব্যবস্থাও আমরা করতে পারি। আমাদের সদস্যদের জন্য সহজ ঋণ ব্যবস্থা করা এবং লভ্যাংশে যেন আমরা করতে পারি সেখানেও কিছু কাজ করার সুযোগ আছে ইনশাল্লাহ। 

পঞ্চগড় বা উত্তরবঙ্গের চা এবং শ্রীমঙ্গলের চা এর মধ্যে একটা ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। এতে দর কম পাচ্ছি। সেই বিষয়ে আমাদের চিন্তা আছে কাজ করার। যেন এটাকে কোনভাবে ডাবল স্টাইল না করা হয়। এক কাতারে রেখে গুণগত মানের উপরে যেন দাম নির্ধারণ করা হয়। কোন অবস্থাতেই বটলীফ সেক্টরকে আলাদা না করা হয়। এটা নিয়ে কাজ করার সুযোগ আছে। এতে করে আমাদের সদস্যরা লাভবান হবে।

সময় জার্নাল: আপনাদের তো এখানে তাহলে সদস্য যারা আছে তাদের তো হয়তো ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাও আছে। তাদের জন্য কোন বিশেষ পরিকল্পনা আছে কিনা? তাদের সমস্যা বা তাদেরকে উন্নত করার জন্য।

নিয়াজ আলী চিশতী: ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার অবশ্য চ্যালেঞ্জটা বেশি। কেননা আমরা যারা বড় তারা বেশি তৈরি করে, কস্ট মেকাপ করতে পারি। যারা ছোট তাদের যেহেতু প্রোডাকশন কম তাই তাদের খচে বেশি পড়ে। তাই তারা যেন সহজ শর্তে ঋণ পায় সেই বিষয়ে আমরা আমাদের অ্যাসোসিয়েশন তাদেরকে উৎসাহিত করবো, আমাদের সাথে আসেন আমরা আপনার জন্য কাজ করবো। যাতে তারা খুব ভালোভাবে অল্প সুদে ঋণ পেতে পারে। কারণ ব্যাংকের একটা নিয়ম আছে। তেলের মাথায় তেল। ব্যাংকের চিরাচরিত অভ্যাস। তারা যখন দেখবে বড় কোম্পানি, তাদেরকে কিন্তু তারা লোন দেওয়ার জন্য ম্যানেজার থেকে শুরু করে হেড অফিসের লোকজন চলে আসে। আর ছোট হলে কিন্তু আসে না।  আমার ইচ্ছা তাদেরকে নিয়ে কাজ করার। যাতে সহজ শর্তে ঋণ পেতে পারে। এবং তাদের গুণমান যেন নিশ্চিত হয়। যেন বড় কোম্পানির চা এর মতো গুণমান হয়। তাদেরকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা এবং তাদেরকে উৎসাহিত করা, যেন ভালো চা তৈরি করেন। 

তাদেরকে সহায়তা দেওয়া। এজন্য ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গে প্লাকিং মেশিন দিয়ে এখন পাতা কাটতেছে। যেটা আগে ছিল হাতে এবং এখনও হাতে চলতেছে। ৬৫% এখনো হাতে কাটতেছে চা। মেশিনে সুন্দর একটা মাপে চা গুলা তোলা হয় এবং এতে মান অক্ষুন্ন থাকে। কিন্তু হাতে যখন পাতা কাটা হয় তখন ডাল পালা চলে আসে। তাতে মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই বিষয়টা নিয়ে আমরা কাজ করবো। চা বোর্ডের সাথে যৌথভাবে একটা করে প্রোগ্রাম করে কৃষকদেরকে বা ছোট ছোট যারা ফ্যাক্টরি তাদেরকে কমমূল্যে বা কিস্তিতে সকল মেশিন দেওয়া যায় কি না এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এভাবে তারা কোয়ালিটি ডেভেলপ করতে পারবে। এসব আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে।

সময় জার্নাল: আপনি একটা তো বললেন যে আন্তর্জাতিক বাজার ধরার জন্য মান বৃদ্ধি করা। আর একটা বিষয় হল যে, রপ্তানি বা আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের চা পাঠানোর জন্য ঐ আন্তর্জাতিক বা অন্যান্য দেশগুলোর সাথে আসলে যে বাজারটা ধরা বা সম্পর্ক তৈরি করা। এ বিষয়ে কোন পরিকল্পনা আছে কিনা আপনার?

নিয়াজ আলী চিশতী: যে সেক্টরে আপনার রিপ্রেজেন্টেটিভ যত দক্ষ, যে সকল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দক্ষ সংগঠক তারা আদায় করে নিতে পারে। আমাদের চা টা দেখেন। বলাই বাহুল্য যে আমাদের বর্তমান পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক যে কোন সময়ের থেকে ভালো। অথচ পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানি ভারসাম্য কিন্তু কয়েকগুণ এর চেয়ে বেশি ভারসাম্যহীন অবস্থায় আছে। কারণ বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে আমদানি করে কিন্তু রপ্তানি খুবই কম। অথচ এখানে বড় একটা সুযোগ রয়েছে। পাকিস্তান পৃথিবীর মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম দেশ যারা চা আমদানি করে। পাকিস্তানে কোন চা উৎপাদন হয় না। তারা কেনিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং কানাডা এই সব জায়গা  থেকে চা আমদানি করে। বাংলাদেশ থেকে চা যে আমদানি করে তার পরিমাণ খুবই নগণ্য। তারা প্রায় মোট পাঁচশো মিলিয়নের বেশি চা আমদানি করে। বাংলাদেশ থেকে মাত্র এক লক্ষ পয়ষট্টি হাজার ডলার চা নেয়। এখানে ইজিলি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব। এই বিষয়ে কাজ করার সুযোগ আছে। 

আমার মনে হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে যদি উৎসাহিত করা হয় এবং বিভিন্ন মেসেজ করে ডাটাগুলো দেওয়া হয়। এই ভারসাম্যটা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। চা এর উপরে যে শুল্ক সেটা যদি তুলে দেয়া হয় এবং আমদানি করে তাহলে এই ভারসাম্যটা কমবে। পাশাপাশি আমরা উপকৃত হলাম এবং দুই দেশের সম্পর্কও ভালো হলো। এখানে অনেক কাজ করার সুযোগ আছে। 

লন্ডনে প্রচুর চা বিক্রি হয়। ইংল্যান্ডে বড় মার্কেট। ওখানেও মার্কেট ধরার আমাদের ইচ্ছে আছে। তবে সবকিছুর মূলে আসলে চায়ের গুণমান বাড়াতে হবে।  চায়ের মান বাড়ার জন্য এখানে প্রান্তিক পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দরকার। এগুলো নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা আছে।

বাংলাদেশে মূলত দুইটা ক্যাটাগরির চা উৎপাদন হয়। একটা হ্যারিটেজ চা যেটা শ্রীমঙ্গল, চট্টগ্রামে হয়ে থাকে। অন্যটা হলো এই বটলীফ চা যা মূলত পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও জেলায় হচ্ছে এবং এটা ফিউচারে এক্সপ্যান্ড হয়ে ময়মনসিং হওয়ার সম্ভাবনা আছে এবং কিছু কিছু কালটিভেশন করতেছে চা বোর্ড। বটলীফ চা  কারখানাগুলোর নিজস্ব চা বাগান নাই। তারা‌ বিভিন্ন প্রান্তিক চাষি যারা আছে, যেমন কারও বাড়ির আঙিনায়, কারও উঁচু জায়গা এই সকল জায়গাতে যে সকল চারা হয় তাকে বলে বটলী। তারা চারাগুলো কালেক্ট করে থকে। এবং এটা বাংলাদেশে টোটাল যে চা এর পরিমাণ নেটলি উৎপাদন হয় তার টুয়েন্টি ফাইভ পার্সেন্ট। জাতীয়ভাবে যে চা উৎপাদন হয় তার অধিকাংশই হয় বটলীফ থেকে। সর্বোপরি টোটাল মার্কেটের মধ্যে তারা আরো ভালো স্থান দখল করছে এবং তারা আশা করছে সেটা টোটাল চায়ের ত্রিশ শতাংশ উৎপাদন করবে। এবং এর যে ফ্যাক্টরিগুলো, এই ফ্যাক্টরি গুলোর অ্যাসোসিয়েশন হল বাংলাদেশ বটলীফ ফ্যাক্টরি ওনার্স এসোসিয়েশন।

এমআই 


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল