সময় জার্নাল ডেস্ক:
অবৈধভাবে সাব-রেজিস্ট্রারদের ব্যাপক বদলি এবং এর সঙ্গে শতকোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মাসুমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধানের আবেদন করা হয়েছে।
বুধবার দুদকের কার্যালয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন এ আবেদন দাখিল করেন। আবেদনের সঙ্গে ‘৮ মাসে সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে ঘুষ লেনদেন শতকোটি’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের আট মাসের সময়কালে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলিকে কেন্দ্র করে বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময়ে বদলির ক্ষেত্রে কোনো নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি।
তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে এই সময়ে বদলি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের কর্মস্থলে পোস্টিং পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে এসব বদলি সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও জানা গেছে, বদলির ক্ষেত্রে গ্রেড অনুযায়ী পদায়নের নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। ‘সি’ ও ‘বি’ গ্রেডের কর্মকর্তাদের উচ্চতর গ্রেডের অফিসে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে ঘুষের বিনিময়ে। অন্যদিকে, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানো ‘এ’ গ্রেডের কর্মকর্তাদের অনেককে নিম্ন গ্রেডের অফিসে বদলি করা হয়েছে, এমনকি কয়েকজনকে স্বল্প সময়ে একাধিকবার বদলির মুখে পড়তে হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রতিশ্রুত ঘুষের টাকা পরিশোধ না করলে বদলির আদেশ স্থগিত রাখার ঘটনাও ঘটেছে। কোথাও কোথাও যোগদানের আগের দিন নতুন করে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বদলি-বাণিজ্যের বিষয়টি আলোচনায় আসার পর গত বছরের ১ জুন আইন মন্ত্রণালয় একটি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে জানানো হয়, বদলি ও পদায়নে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রতারণামূলক প্রস্তাব থেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেন সম্পন্ন হয় এবং এরপর আর নতুন করে বদলির আদেশ জারি করা হয়নি।
তথ্যসুত্র: আমার সংবাদ
একে