নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিগত ১৬ বছর যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ের কথা বলেছে, ক্ষমতায় এসে তারাই আজ গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, 'প্রবাদে আছে—যে যায় লঙ্কায়, সে হয় রাবণ। বর্তমান সরকারও আজ ক্ষমতার স্বার্থে জনগণের রক্তের কথা ভুলে রাবণে পরিণত হয়েছে।'
আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ শ্রমিক-কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শ্রমিকদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'এ দেশের ইতিহাসে আমরা বারবার দেখেছি, শ্রমিকেরা রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। ১৯৪৭-এর আজাদির লড়াই থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং এ দেশে যত গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, এমনকি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের অধিকাংশই শ্রমজীবী মানুষ।'
বর্তমান সরকারকে 'গণবিরোধী' আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, 'নতুন যে সরকার গঠিত হয়েছে, তারা শ্রমিকদের রক্তের ওপর ক্ষমতায় বসেছে। কিন্তু এক মাসের মাথায় তারা নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে বেইমানি করেছে। গণভোটের গণরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। এই সরকার গণবিরোধী সরকার। ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের রক্তের কথা ভুলে গেছে।'
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, '২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা লড়াই করেছেন, শহীদ হয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের বড় অংশই শ্রমিক অথবা শ্রমজীবী পরিবারের সদস্য। বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি এই শ্রমিকরাই বারবার জাতীয় মুক্তির আন্দোলনে পথ দেখিয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, যে সরকার শ্রমিক ও ছাত্রদের রক্তের ওপর দিয়ে গঠিত হয়েছে, তারা এক মাসের মধ্যেই সেই আত্মত্যাগের কথা ভুলে গেছে।'
সরকারের বিরুদ্ধে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, 'মানবাধিকার অধ্যাদেশ, পুলিশ সংস্কার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আইনে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তারা তা রক্ষা করেনি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে, তাদের পরিণতি কখনোই ভালো হয়নি। বর্তমান সরকারকেও এই ওয়াদা ভঙ্গের মাশুল অচিরেই দিতে হবে।'
শ্রমিকদের রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'শুধু জাতীয় সংসদ নয়, আমাদের এখন রাজপথের প্রস্তুতি নিতে হবে। রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই জুলাই সনদ ও গণভোটের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে। শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিটি দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করা হবে।'
এমআই