শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ইতিহাসের প্রতি অবিচার ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬
ইতিহাসের প্রতি অবিচার ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ইতিহাসের প্রতি অবিচার এবং সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক পর্বে শহীদ, আহত ও নির্যাতিতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে ২০২৪ সালসহ বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটে যারা প্রাণ হারিয়েছেন কিংবা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতিও তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা পুরস্কারের ইতিহাস স্মরণ
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করে বলেন, তাদের আত্মত্যাগের কারণেই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। আহত ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ জাতির গৌরবের প্রতীক। ১৯৭৭ সালে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ পুরস্কার প্রবর্তন করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের জাতীয় নেতাদের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার আহ্বান জানান।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ইতিহাসের প্রতি অবিচার ও সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

ঐক্য ও বিভাজন নিয়ে বার্তা
রাজনৈতিক বিভাজন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জাতীয় স্বার্থে মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়। তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের উদ্ধৃতি টেনে বলেন, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশে স্বার্থান্বেষী একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্র পরিচালনার চ্যালেঞ্জ
বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা অবনতি এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছে। তার ভাষায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

শিক্ষা খাতে অতীতের ‘বিপর্যয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

নারী দনিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন টেকসই হবে না।

ইশতেহার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার নির্বাচনের আগেই জনগণের সামনে দলীয় ইশতেহার এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছিল। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত পরিবর্তনের চেয়ে মানসিকতার পরিবর্তন বেশি জরুরি, এবং অতীতে সরকার পরিচালনায় তার দল এ বিষয়ে উদাহরণ স্থাপন করেছে।

অর্থনীতি ও জনগণের জীবনযাত্রা
বিশ্ব অর্থনীতির চাপের মধ্যেও জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার জনগণের দুর্ভোগ কমাতে ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তিনি দেশবাসীর প্রতি অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও আড়ম্বর পরিহারের আহ্বান জানান।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন
অনুষ্ঠানে এবারের স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। মরণোত্তর পুরস্কারপ্রাপ্তদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, এসব গুণীর অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তা সমাদৃত হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশ ও জনগণের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

এমআই


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল