মেহেরিন আক্তার মাহি:
বিষয়টি বড়ই অদ্ভুত! প্রযুক্তির সাহায্যে আজ বিশ্ব হাতের মুঠোয়। অতি সহজেই এক মুহূর্তের মধ্য এক দেশ থেকে অন্য দেশে যোগাযোগ করা যাচ্ছে। গ্রাম থেকে শহরের দূরত্ব কমে গিয়েছে কিন্তু তবুও আমরা আজ একাকীত্বে ভোগি। নেই কারো সাথে সুসম্পর্ক। নিজ আত্মীয়-স্বজন পরিবার-পরিজন গ্রামবাসী কারো খোঁজ কেউ রাখে না। ডিজিটাল সমাজ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের মতো সরাসরি যোগাযোগ কমিয়ে সম্পর্কের গভীরতা নষ্ট করেছে। ভার্চুয়াল জগতে বেশি সময় কাটানো পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনের দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে।
যন্ত্রের ন্যায় মানব জীবন হয়ে গিয়েছে। যেখানে নেই কোন মানবিকতা অন্যকে সাহায্য করা আজ যেন আকাশ কুসুম হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের সামান্য স্বার্থ ত্যাগ করতেও রাজি নন আজকের ভদ্র সমাজ। গবেষণায় দেখা গিয়েছে অতিরিক্ত প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে মানুষের মত আচার-আচরণের বিদ্রুপ প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে যুব সমাজ বর্তমানে সময়ের কিশোর কিশোরীরা খুব ছোটবেলা থেকেই স্মার্টফোন ব্যবহারে অভ্যস্ত। তারা টিকটক ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি সামাজিক সাইটের ব্যবহারের ফলে সামাজিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা ধর্মীয় শিক্ষার আলো থেকে দূরে থাকে। ফলে তাদের মধ্য মানবের সম্পর্কের অভাব দেখা যায়।
গ্রামীণ সমাজেও ইদানিং এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। যৌথ পরিবার ভেঙে গিয়ে একক পরিমাণ গঠন হচ্ছে। এতে পিতা-মাতা সন্তানদের যথেষ্ট সময় দিতে পারে না ফলস্বরূপ তাদের সামাজিকিকরনের ঘাটতি দেখা যায়।
পরিবার থেকেই ভাতৃত্বের সম্পর্কে সূচনা হয়। শিশুরা নৈতিক মূল্যবোধ , চরিত্র গঠন,সুশিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা ইত্যাদি গুনগুলো পরিবার থেকে পেয়ে থাকে। তাই আমাদের আরও সচেতন হওয়া উচিত। যন্ত্র যেন আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে এই দিকটি লক্ষ্য রাখতে হবে। মানবিক সম্পর্কই হোক ডিজিটাল সমাজের দৃঢ় প্রত্যয়।
লেখক: মেহেরিন আক্তার মাহি
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।