নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর ইউনিকো হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ১১টায় হাসপাতালের ২য় তলার কনফারেন্স হলে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ইউনিকো হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ এবং রোটারি ক্লাব অব বারিধারা, ঢাকার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোটারিয়ান আহসানুল হক চৌধুরী, এফসিএ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইউনিকো হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অর্দ্রা কুরিয়েন, সিএমএস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মোঃ শরিফ আহমেদ, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভেগের প্রধান প্রফেসর ডা. কাজী নওশাদ হোসেন। এছাড়াও রোটারি ক্লাবের সদস্যবৃন্দসহ হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চিকিৎসকেরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে প্রফেসর ডা. কাজী নওশাদ হোসেন রক্তদানকে একটি নিঃস্বার্থ ও মহৎ মানবিক কাজ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী স্বেচ্ছায় রক্তদান এমন একটি উদ্যোগ যেখানে একজন সুস্থ ব্যক্তি কোনো প্রকার ব্যক্তিগত লাভ ছাড়াই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে রক্তদান করেন। তিনি রোটারি ক্লাব অব বারিধারার সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সকলকে এ ধরনের মানবিক কাজে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি রোটারিয়ান আহসানুল হক চৌধুরী, এফসিএ তার বক্তব্যে রক্তদাতাদের সাহসিকতা ও সমাজের প্রতি অবদানের জন্য প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করবে।
এসময় তিনি জানান, শুধু হাসপাতালেই নয়, বিভিন্ন পাবলিক প্লেস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও সফলভাবে রক্তদান কর্মসূচি পরিচালিত করেছে রোটারি ক্লাব।
ইউনিকো হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অর্দ্রা কুরিয়েন সেচ্ছায় রক্তদানের জন্য রোটারিয়ানদের ধন্যবাদ জানিয়ে তার বক্তব্যে, ইউনিকো হাসপাতালে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তির কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়বহুল হয়ে উঠলেও ইউনিকো হাসপাতাল সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে।
স্বাস্থ্য সেবায় ভূমিকা রাখতে ইউনিকো হাসপাতালের উদ্যোগগুলো সম্পর্কে অর্দ্রা কুরিয়েন জানান, হাসপাতালটি ইতোমধ্যে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা প্যাকেজ চালু করেছে, যেখানে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ব্যক্তিরা ভর্তুকিযুক্ত সেবা পাবেন। এছাড়া সপ্তাহের দুই দিনে ল্যাব ও রেডিওলজি পরীক্ষায় ৫০% ছাড় এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ফিতেও ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং সকল শ্রেণির মানুষ উপকৃত হবে।
স্বাগত বক্তব্য শেষে স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রম শুরু হয়, যেখানে রোটারি ক্লাবের সদস্যরা রক্ত প্রদান করেন।
সবশেষে অতিথি এবং অংশগ্রহণকারীদের হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়।
এমআই