সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সৈকত মুখার্জী (১৮) নামের এক কলেজ ছাত্র গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। শুক্রবার রাতের খাবার খেয়ে নিজের শয়ণকক্ষে ঢোকার পর শনিবার(২ মে) সকালে পরিবারের সদস্যরা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে।
আত্মহননকারি যুবক সৈকত মুখার্জী সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর গ্রামের অদিত্য মুখার্জীর ছেলে। সে শ্যামনগর সরকারি মহসীন কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
সৈকত মুখার্জী পিতা অদিত্য মুখার্জী জানান, কয়েকদিন পুর্বে পারিবারিক সিদ্ধান্তে তিনি বোনের মেয়ের সাথে একমাত্র ছেলের বিয়ে ঠিক করেছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় হবু বধুকে নিয়ে বাজার-সদয় শেষে তাকে (হবু বধু) বাবার বাড়িতে পৌছে দিয়ে আসে সৈকত। একপর্যায়ে রাতের খাবার খেয়ে নিজের শয়নকক্ষে ঘুমাতে যেয়ে সহপাঠী সীমা বৈরাগীর সাথে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে সে। পরবর্তীতে শনিবার সকালে সীমা তাদেরকে মোবাইলে কল দিয়ে সৈকতের খোঁজ-খবর নিতে বললে তারা ঘরের দরজা ভেঙে ফ্যানের সাথে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। পরে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষনা করা হয়।
সৈকতের পিতার দাবি সীমার সাথে তার ছেলের প্রেমের সর্ম্পক ছিল। প্রায় পাঁচ মাস আগে সীমাকে পরিবারের সদস্যরা অন্যত্র বিয়ে দেয়। সম্প্রতি সৈকতকে বিয়ে দেয়ার দিনক্ষণ নির্ধারিত হওয়ার কারণে সীমা বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। যে কারণে শুক্রবার কেনাকাটার পর হবুবধুকে বাড়িতে পৌছে দেয়ার খবর জানতে পেরে সীমা মোবাইল করে তার ছেলের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করায় সে আত্মহত্যা করেছে। মৃতদেহ ময়না তদন্ত না করার দাবি অগ্রাহ্য হওয়ায় এখন তিনি এঘটনায় তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ খালেদুর রহমান জানান, সৈকতের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিকভাবে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মৃতদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিবার মামলা করতে চাইলে ৩০৬ ধারায় মামলা রুজু করা হবে।
এমআই