সময় জার্নাল ডেস্ক:
কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও যাতায়াতে বিধিনিষেধের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে এগোচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সব ধরনের ভিসা দেওয়া শুরু করেছে। অন্যদিকে ভারতও তাদের ভিসা সেবা পুরোপুরি চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পর্যটন, ব্যবসা ও চিকিৎসাসহ সব ধরনের ভিসা ইস্যু করা শুরু করেছে। অন্যদিকে ভারতও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের ভিসা কার্যক্রম ধাপে ধাপে পুরোপুরি চালুর পরিকল্পনা করছে।
বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের ভিসা সেবা বেশ সীমিত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের আগের তুলনায় এটি এখন মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ চালু রয়েছে। এখন মূলত চিকিৎসাসেবা ও জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনগুলোকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর বিপরীতে, চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারির দিকে ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর পর বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ভারতীয়দের ১৩ হাজারের বেশি ভিসা ইস্যু করেছে।
২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে দুই দেশের সম্পর্কে একধরনের দূরত্ব তৈরি হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে এই সম্পর্ক নতুন করে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
ভিসা কড়াকড়ির কারণে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল। ২০২৩ সালে যেখানে ২১ লাখ ২০ হাজার বাংলাদেশি ভারত সফর করেছিলেন, ২০২৫ সালে তা কমে মাত্র ৪ লাখ ৭০ হাজারে নেমে আসে।
দুই দেশের কর্মকর্তারাই জানিয়েছেন, ভিসা সেবা চালুর এই উদ্যোগ মূলত সহযোগিতার সম্পর্ক পুনর্গঠনের অংশ। এর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সম্পর্কও অন্তর্ভুক্ত। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে ভারত সম্প্রতি বাংলাদেশে ডিজেল পাঠিয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর আসন্ন আগমনকে ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি চালুর ক্ষেত্রে সহায়ক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এমআই