নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও সবজির দামে তীব্র ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রভাবে বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করছেন বিক্রেতারা। এর ফলে কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
শুক্রবার (০৮ মে) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁপে এবং শসার দাম কেজিতে ১০০ টাকায় পৌঁছে গেছে। কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৪০ টাকা, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা গেছে।
বাজারে টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, পটোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, আর ঝিঙে ও চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে।
অন্যদিকে বেগুন ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। করলা ৮০ টাকা এবং কেপসিকাম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা কেজিতে। তুলনামূলকভাবে প্রায় সব সবজির দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
অন্যদিকে বিক্রেতারা বাজার পরিস্থিতির জন্য একাধিক কারণকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, টানা বৃষ্টির কারণে মাঠ থেকে সবজি সংগ্রহ ও পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় পানি জমে যাওয়ায় ক্ষেত থেকে পণ্য বাজারে আনতে দেরি হচ্ছে। এতে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়ে যাচ্ছে।
একজন সবজি বিক্রেতা বলেন, বৃষ্টির কারণে অনেক জায়গা থেকে সবজি সময়মতো আসছে না। আবার যেটা আসছে, তার পরিবহন খরচও অনেক বেড়ে গেছে। ডিজেলের দাম ও গাড়ি ভাড়া বাড়ায় আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আগে যে ভাড়ায় মাল আসত, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি দিতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছি।
বিক্রেতারা আরও জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পরিবহন খরচে পড়েছে। ট্রাক, ভ্যান ও পাইকারি পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের ক্ষেত থেকে বাজার পর্যন্ত পণ্য পৌঁছাতে অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হচ্ছে। এই চাপ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই পড়ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এবং নতুন সরবরাহ বাজারে না এলে সবজির দামে এমন অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি পরিবহন ও জ্বালানি খরচ স্থিতিশীল না হলে বাজার পরিস্থিতি আরও চাপে পড়বে।
তারা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে দাম কিছুটা কমতে পারে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিকট ভবিষ্যতে বড় কোনো স্বস্তির সম্ভাবনা কম।
এমআই