মোঃ আবদুল্যাহ চৌধুরী, নোয়াখালী প্রতিনিধি:
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নোয়াখালীতে এবার চাহিদার তুলনায় বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয় খামারিরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯টি উপজেলায় এবার প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর বিপরীতে জেলার চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার পশু। ফলে এবার প্রায় ৬ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
নোয়াখালীর বিভিন্ন খামারে শেষ মুহূর্তে চলছে পশুর পরিচর্যা। কাঁচা ঘাস, খড়, ভুসি, খৈল ও ভুট্টাসহ প্রাকৃতিক খাদ্য দিয়ে পশু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার না করে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পশু বাজারজাতের প্রস্তুতি চলছে।
জেলা কবিরহাটে অবস্থিত সুপরিচিত খামার নুর জাহান ডেইরি ফার্ম” স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে। এই খামারে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরী হয়েছে বহু উদ্যোক্তা। খামারিরা আরো জানান, পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি এবং ভারতীয় গরু প্রবেশের আশঙ্কায় এবার উৎপাদন কমিয়ে প্রায় ১১৪টি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এখন থেকেই বিভিন্ন খামারে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। ক্রেতারা জানান, খামার থেকে পশু কিনলে দাম ও মাংসের মান নিয়ে প্রতারণার ঝুঁকি থাকে না এবং পরিবেশও তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক।
নোয়াখালীর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। খামার ও কৃষক পর্যায়ে পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোরবানির পশুর বাজারে মেডিকেল টিম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নোয়াখালীতে সাধারণত বাইরের গরু প্রবেশ করে না। তবে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে গরু প্রবেশ ঠেকাতে সরকার কঠোর নজরদারি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এমআই