দুলাল বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ:
প্রকৃতিতে ফুটেছে চিরচেনা কদম ফুল। আষাঢ়ের বর্ষা উৎসব উদযাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ কদমফুল। কদমের অপরূপ সুন্দর্য ও মিষ্টি সুভাষ প্রকৃতিকে মাতিয়ে তোলে। গোপালগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে গাছে গাছে কদম ফুল ফুটেছে । অনেক গাছে বর্ষার আগেই ফুল ফুটতে দেখা গেছে।
ষড়ঋতুর দেশ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। এই ঋতু গুলোর ভিতরে বর্ষা অন্যতম একটি চিত্তাকর্ষক ঋতু। বর্ষার দিনে মানুষের ভোগান্তি যেমন আছে তেমনি এই ঋতুর সৌন্দর্য মানুষকে বিমোহিত করেছে বারবার। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলার কবি সাহিত্যিকেরা এই ঋতুর মাধুর্য তুলে ধরেছেন বিভিন্ন সময় তাদের রচিত সাহিত্য উপন্যাসে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষাভাষী বলতে গেলে প্রধান কবি। তিনিও লিখেছেন বর্ষা ঋতু নিয়ে নানান রকম কবিতা গান উপন্যাস গল্প প্রবন্ধ।
তেমন একটি গান "বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল"।এই গানটি বাংলার মানুষের মনে গীতি গাছে দারুন ভাবে। বিভিন্ন নাটক সিনেমায় এবং অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ এই গানটিকে প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে কখনো কখনো ব্যবহার করেন।
একদিন কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর প্রিয় ছাত্র ও সঙ্গীত শিক্ষক শৈলজা রঞ্জন মজুমদারের অনুরোধে এবং শান্তিনিকেতনের বর্ষামঙ্গল উৎসবের প্রেক্ষাপটে গানটি রচনা করেন।
শান্তিনিকেতনে যখন বর্ষামঙ্গল উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল, তখন শিক্ষার্থীরা নতুন গানের আবদার নিয়ে শৈলজারঞ্জন মজুমদারের শরণাপন্ন হন। তিনি সেই আবদার কবির কাছে পৌঁছে দিলে, কবি প্রথমে খানিকটা গম্ভীর হয়ে নতুন গান লেখার অপারগতা প্রকাশ করেন।
এর পরের দিন সকালেই কবি তাঁর এই ছাত্রকে 'বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল' গানটি লিখে উপহার দেন। কবি নিজেই গানটির সুর করেছিলেন। এটি মূলত রাগ মল্লারে বাঁধা একটি সুর।
গানটিতে বর্ষার রূপ, কদম ফুলের স্নিগ্ধতা এবং কবির সুরের প্রতিদান—এই আবেগময় বিষয়গুলো অত্যন্ত সুন্দরভাবে উঠে এসেছে।
কলেজ ছাত্রী তুষ্টি বিশ্বাস বলেন, শহরে ও গ্রামে এখন অপরি কল্পিত নগরায়নের ফলে কদম গাছ এবং কদম ফুল ক্রমশ দুর্লভ হয়ে উঠেছে। এ গাছ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সকলের দায়িত্ব নেওয়া দরকার।
দীননাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সৌরভ মজুমদার বলেন, প্রকৃতিতে কদম ফুল যেমন সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে তেমনি মানুষের নানা প্রকার রোগব্যাধি নির্মূল করতে কদম গাছের পাতা, ছাল বিভিন্ন উপকারে আসে। এই বর্ষায় আমরা যেন কোন গাছ থেকে কদমফুল না তুলি। কদম ফুল পাখিদের খাদ্য।
কালচারাল অফিসার ফারহান কবির সিফাত বলেন, গোপালগঞ্জে প্রচুর পরিমাণে কদম ফুলের গাছ রয়েছে। বর্ষাকালের মাঠে-ঘাটে, বাড়িতে, পথে প্রান্তরে, বিভিন্ন স্থানে এখন কদম ফুল ফোটার ভরা মৌসুম। সব শ্রেণি পেশার মানুষ কদম ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। এই সময় অনেকে গাছ থেকে কদম ফুল তুলে বিভিন্নভাবে সেজেও থাকেন। প্রকৃতিপ্রেমী নর-নারীরা কদম ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে খুবই ভালোবাসেন। ছোট বড় সবার কাছে ভালো লাগা ও ভালোবাসার ফুল হচ্ছে কদম ফুল। সৌন্দর্য বাড়ানো ছাড়াও কদম গাছের বিভিন্ন উপকরণ থেকে ঔষধ তৈরি করা হয়। কবিরাজি ক্ষেত্রে কদম গাছের অনেক কদর আছে।
এমআই