মোঃ এমদাদ উল্যাহ, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা):
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইউএনও শাহাদাৎ হোসেন। গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সমন্বয়কারী অমল দাশ ও মোঃ মোহর আলীর সঞ্চালনায় কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান, প্রকল্প কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোঃ আবুল কালাম আজাদ, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান, মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ আকতারুজ্জামান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহনাজ আক্তার, থানার উপ-পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন, এনজিও প্রতিনিধি রুহুল আমিন, আলমগীর হোসেন, রবিউল আলম, এনায়েত উল্লাহ মাসুম, বেলাল হোসেন শাকিল, লুৎফুর রহমান, সাংবাদিক শাহীন আলম, আনিছুর রহমান, কাজী সেলিম, কাজী আহসান প্রমুখ।
‘অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চল যাই গ্রাম আদালতে’-এ প্রতিপাদ্যে সারাদেশেই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইউনিয়ন ভিত্তিক গত কয়েক বছর ধরে গ্রাম আদালত এর কার্যক্রম অধিকতর সক্রিয়করণে কাজ করে যাচ্ছে।
কর্মশালায় গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সমন্বয়কারী মোঃ মোহর আলী উত্থাপন করেন, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ২৭ মাসে কুমিল্লা জেলায় গ্রাম আদালতে ১২৩৮২টি মামলা দায়েয়ের পর ৭৫.৭৪ ভাগ নিস্পত্তি করা হয়েছে। এরমধ্যে উচ্চ আদালত থেকে প্রেরিত মামলা ১৩১৫টি। মামলাগুলোর মধ্যে ৯৪.৮৩ ভাগ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও ১৪ কোটি ৯৪ লাখ ৪০হাজার ২৮৫ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। মামলায় ৪২৪৩ জন নারী আবেদনকারী ও বিচার প্রক্রিয়ায় ১৫ ভাগ নারী অংশগ্রহণ করেছে। এক কথায়, গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে সুফল পাচ্ছেন তৃণমূলের অসহায় পরিবারের সদস্যরা। একই সময়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় গ্রাম আদালতে ৯৯৪টি মামলা দায়েয়ের পর ৭৫.৮৬ ভাগ নিস্পত্তি করা হয়েছে। এরমধ্যে উচ্চ আদালত থেকে প্রেরিত মামলা ৮৪টি। মামলাগুলোর মধ্যে ৯৮.০১ ভাগ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও ১ কোটি ৩১ লাখ ৯৫ হাজার ৯৯০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। মামলায় ৩৯৭ জন নারী আবেদনকারী ও বিচার প্রক্রিয়ায় ১৫ ভাগ নারী অংশগ্রহণ করেছে।
এমআই