সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১

নেতা-কর্মীদের মাঝে উদ্বেগ ও হতাশা

লক্ষ্মীপুর সদর থানা আওয়ামী লীগে বিভাজন

রোববার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১
লক্ষ্মীপুর সদর থানা আওয়ামী লীগে বিভাজন

নিজাম উদ্দিন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:

লক্ষ্মীপুর সদর থানা আওয়ামী লীগের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ন হওয়ার প্রায় এক যুগ পর বিগত ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে সম্মেলন প্রস্তুতি আহবায়ক কমিটির মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। এ কমিটির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন হুমায়ূন কবির পাটোয়ারী। এক বছর আট মাস ধরে ওই পদে থেকে তাঁর নেতৃত্বে দলের উক্ত ইউনিটের সাংগঠনিক বিভিন্ন কার্যক্রম চলে আসছে। এসব দৃশ্যমান। কিন্তু গত ৭ সেপ্টেম্বর আহবায়ক হিসেবে অস্বীকার করে হুমায়ূন কবিরকে অ্যাড্রেস করে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে  একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রেরন করা হয়। এতে তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। জানানো হয় সদর থানা আওয়ামী লীগের একটি পূর্নাঙ্গ কমিটি থাকা সত্বেও তিনি (হুমায়ূন কবির) নিজেকে উক্ত শাখার আহবায়ক হিসেবে পরিচয় প্রদান করে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। যার কারণে নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে এর জবাব চেয়ে সময় বেঁধে দেয়া হয়।

জেলা কমিটির সভাপতি স্বাক্ষরিত এমন নোটিশ এর খবর মূহুর্তে প্রকাশ হয়ে জেলাব্যাপী ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে দলীয়দের মাঝে হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ পায়। গত কয়েকদিন থেকে লক্ষ্মীপুরের সর্বত্র আলোচনা ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ওই কারণ দর্শাও নোটিশটি।

এদিকে নোটিশ পেয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন হুমায়ূন কবির। এ প্রসঙ্গে তিনি তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন পূর্বক জানান, ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক দলীয় প্যাডে সীলমোহর ও স্বাক্ষর সম্বলিত ৬৮ সদস্যের লক্ষ্মীপুর সদর থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি অনুমোদন দেন। ওই সময়ে সদর  থানা আওয়ামীলীগের সভায় এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত হয়।

তিনি আরও জানান, উক্ত কমিটির আহবায়ক পরিচয়ে বিগত ১বছর আট মাস যাবৎ তিনি সাংগঠনিক বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আসছেন। এসব কর্মসূচীগুলোর মধ্যে সদর থানার অন্ত:র্গত ইউনিয়ন কমিটি পূণর্গঠন, জেলা আওয়ামীলীগ নির্দেশিত বিভিন্ন সভা কিংবা কর্মসূচী, জাতীয় দিবস পালন ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কর্মসূচীর বাস্তবায়ন সহ নানান কর্মসূচী রয়েছে। সদর থানা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এসব কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করতেন হুমায়ূন কবির নিজেই। কমিটির আহবায়ক হওয়ায় তিনি সভায় সভাপতিত্ব করার সুযোগ পেতেন। আর এসব বেশীরভাগ কর্মসূচীতে অতিথি হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন উপস্থিত থাকতেন। দীর্ঘ সময় এভাবেই সদর থানা আওয়ামী লীগের আহবায়ক পরিচয়ে হুমায়ূন কবির পাটওয়ারী সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসলেও সংগঠনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের কোন প্রকার আপত্তির কথা জানা যায়নি ইতিপূর্বে।

একইসাথে হুমায়ূন কবির জানান, সম্মেলন প্রস্তুতি কমটি হিসেবে ৩ মাসের ভেতরে সম্মেলন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত থাকলেও করোনা মহামারির সংকটে পড়ে এখন পর্যন্ত তা হয়ে উঠেনি। তথাপি সংগঠনে গতি সঞ্চার কল্পে নিয়মিত বিভিন্ন কর্মসূচী অব্যাহত রাখা হয়েছে।

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রেরিত উক্ত কারণ দর্শাও নোটিশটি ওই দিন থেকেই দলীয় অসংখ্য নেতা-কর্মী- সমর্থকদের নিজ নিজ ফেসবুক পেইজের স্ট্যাটাসে প্রকাশ পায়। এসব স্ট্যাটাস এর নিচে কমেন্টস হিসেবে নোটিশটির পক্ষে বিপক্ষে দলীয় ও দলের বাইরের অসংখ্য মানুষের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সেই সাথে উক্ত আহ্বায়কের নাম উল্লেখ সহ ব্যানার সম্বলিত দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচীর ছবি প্রকাশ পায়। এসব চিত্রে জেলা কমিটির সভাপতির উপস্থিতিও দেখা যায়।

এছাড়া জেলা জুড়ে যত্রতত্র মানুষের আলোচনা-সমালোচনায় মুখর হয়ে রয়েছে একই বিষয়। সর্বোপরি প্রকাশ পাওয়া নোটিশটির জের ধরে আলোচনা সমালোচনায় জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু ও থানা আওয়ামী লীগ আহবায়ক দায়িত্ব পালনকারি হুমায়ূন কবির পাটওয়ারী সহ দুইজনেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছেন। এ পরিস্থিতিতে লক্ষ্মীপুরে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে নেতৃত্বের বিভাজন সহ সাংগঠনিক অস্থিরতা সৃষ্টির আশংকা করছে দলীয়রা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগ ও থানা আওয়ামী লীগ সহ দলীয় বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা জানায়, ১ বছর আট মাস ওই আহবায়ক কমিটি প্রকাশ্য সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। যদিও সাধারণ নেতা-কর্মীদের এতে অপ্রকাশ্য অনীহা ছিলো, তা সত্বেও দায়িত্বপ্রাপ্ত আহ্বায়কের নেতৃত্বে একাধিক সাংগঠনিক কর্মসূচীতে দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে নব উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। একারণে এক পর্যায়ে ওই আহবায়ক কমিটি সকলের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়। তদুপরি জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সম্মতি থাকায় নেতা-কর্মী-সমর্থকরা তা একপ্রকার মেনেই নিয়েছে। কিন্তু আকস্মিক গত ৭ সেপ্টেম্বর দলীয় প্যাডে জেলা সভাপতির স্বাক্ষরিত নোটিশে লক্ষ্মীপুর সদর থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি আহবায়ক কমিটির আহবায়ককে প্রশ্নবিদ্ধ করে জবাব চাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে এসব নেতা-কর্মীরা। দীর্ঘ সময় পরে এসে জেলা সভাপতির একক স্বাক্ষরে এমন একটি নোটিশ প্রদান কতটুকু সাংগঠনিক বিধান সিদ্ধ তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা। এছাড়া নোটিশে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর না থাকায় লক্ষ্মীপুর আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে নতুন কোন বিভাজন সৃষ্টি হয় কিনা তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু জানান, বিগত ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্মেলনে লক্ষ্মীপুর সদর থানা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর ও ডেলিগেটসদের নিয়ে সম্মেলনে যাওয়ার প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় হুমায়ূন কবির পাটওয়ারীকে। ওই সময়ের জন্য নির্ধারিত কিছু কাজ বাস্তবায়নের কথা লিখিতভাবে উল্লেখ করে দায়িত্ব দেওয়া হয় ওই আহবায়ক কমিটিকে। 

তিনি জানান, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সম্মেলন শেষে ওই কমিটির কোন কার্যকারিতা থাকার কথা নয়। অথচ তা উপেক্ষা করে কর্মকান্ড চলছে এখনো। সম্প্রতি সদর থানা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিজন বিহারী ঘোষ কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপির কাছে অভিযোগ করলে তাঁর মৌখিক নির্দেশ পেয়ে কারণ দর্শাও নোটিশটি প্রেরণ করা হয় বলে জানান জেলা সভাপতি।

তিনি এ প্রসঙ্গে আরও উল্লেখ করে জানান, ৬৮ সদস্য দিয়ে কখনো আওয়ামীলীগ দলীয় কোন আহবায়ক কমিটি হয়না। তদুপরি কমিটিতে নেই কোন যুগ্ম -আহবায়ক অথবা সদস্য সচিব। সম্মেলন প্রস্ততির আহবায়ক কমিটিতে ওইসব পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকার নিয়ম।

তবে ৬৮ সদস্যের ওই কমিটিটি জেলা কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন মর্মে স্বীকার করে তিনি বলেন, "হুমায়ূন কবিরকে সদর থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক করা হয়নি। তখন অনুমোদন দেয়া তালিকাটির উপরে ভুল করে এমন শিরোনাম লেখা হয়েছে।" একই সাথে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিজন বিহারির নেতৃত্বে সদর থানা কমিটি এখনও বলবৎ রয়েছে বলে জানান তিনি।

সময় জার্নাল/এমআই 


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.



স্বত্ব ২০২১ সময় জার্নাল | ডেভেলপার এম রহমান সাইদ