বুধবার, ২৫ মে ২০২২

একজন ফুচকা বিক্রেতা ও 'চিত্রশিল্পী' আজিজ মামা

শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০২১
একজন ফুচকা বিক্রেতা ও 'চিত্রশিল্পী' আজিজ মামা

জীবন হক, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: পেশায় ফুচকা বিক্রেতা। ঠাকুরগাঁওয়ের সকল শিক্ষার্থী, অভিভাবকের কাছে আজিজ মামা নামেই পরিচিত স্বাধীনতার পর থেকেই। শহরের সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের পাশের একটি ছোট ফুচকার দোকান করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। সারাদিন অনেক কিছু খাওয়া হলেও তার হাতের ফুচকা না খেলে মনের তৃপ্তি মেটে না এমটাই মনে করেন ফুচকা প্রেমিরা।

কিন্তু এই ফুচকা বিক্রেতার যে এই পেশার বাইরেও আরো একটি পরিচয় রয়েছে। আর সেটি হচ্ছে তিনি একজন চিত্র শিল্পী। দিন শেষে রাতে অবসর সময় পার করেন কাঠ পেন্সিল দিয়ে বিভিন্ন ছবি একেঁ। যেমন নিপুন হাতে সুস্বাদু ফুচনা বানান তিনি। ঠিক তেমনি তিনি ইতিপূর্বে কাঠ পেন্সিলের মাধ্যমে প্রায় ১শত বিভিন্ন ছবি নিপুন হাতে অংকন করেছেন মনের মাধুরী মিশিয়ে। প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষা নেই  কিন্তু একজন সাধারণ মানুষের মাঝে এমন প্রতিভা লুকিয়ে আছে এটা দেখে সবাই অবাক।

আমরা জানি প্রতিটি মানুষের মাঝে সুপ্ত প্রতিভা থাকে। শুধু সেই প্রতিভা বিকশিত করার সুযোগ প্রয়োজন। কেউ হয়ত পারে আবার কেউ হয়ত ব্যর্থ হয়। আর যারা পারে তাদের জীবনের গল্পগুলোই হয় অন্যরকম। আর সেটিই প্রমাণ করলেন প্রতিভাবান চিত্রশিল্পী ঠাকুরগাঁওয়ের ফুচকা বিক্রেতা আব্দুল আজিজ। যিনি শুধুমাত্র কাঠ পেন্সিলের মাধ্যমে তৈরি করেন তার চিত্রকর্ম। এখন সকলের কাছে তিনি শুধু ফুচকা বিক্রেতা না একজন চিত্র শিল্পীও।

ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড়মাঠের পাশে তার অস্থায়ী ফুচকার দোকান। তিনি এই ব্যবসার সাথে জড়িত আছেন ১৯৭৯ সাল থেকে। কাজের অবসরে বসে বসে আঁকতেন মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন বিভিন্ন ছবি। তিনি এখন পর্যন্ত ১ শতাধিক ছবি এঁকেছেন শুধুমাত্র পেন্সিলের মাধ্যমে।

চিত্র শিল্পী আজিজের সাথে কথা বললে তিনি জানান,-“আমি নাইট স্কুলে পড়ালেখা করেছি। দিনের বেলা হোটেলে কাজ করে রাতে পড়তে যেতাম। বাবা যুদ্ধে মারা যান। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করত। সংসার মূলত বড় ভাই চালাত।”

পরবর্তীতে ভর্তি হই ঠাকুরগাঁও রিভারভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ে যেখানে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করি। মেট্রিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হই। এরপর তিনি ঢাকায় চলে যান। পরবর্তিতে তিনি ঢাকাতে একটি ফাস্টফুডের দোকানে কাজ করতেন ও রাতে পেন্সিল আর কাগজ দিয়ে তিনি ছবি আঁকতেন। ফুচকা বিক্রেতা ছবি আঁকাকে নেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিল, যার দরূন নানা প্রতিকুলতা তাকে দমাতে পারেনি।

ছবি আঁকার অনুপ্রেরণার কোথায় পেলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন- “ছবি আঁকার আগ্রহ ছিল ছোট থেকেই। আমার বন্ধুরা ছবি আঁকা শিখত ওদের বলেছিলাম আমাকে শেখাতে। কিন্তুু ওরা আমাকে বলেছিল তুই তো পড়ালেখা জানিস না তুই আর কি আঁকবি। এই কথাটা শোনার পর আমার মধ্যে একটা জেদ সৃষ্টি হয় যে আমি দেখিয়ে দিব সেই জেদ থেকেই আমার আঁকা শুরু। দেখি আমি ছবি আঁকতে পারি কিনা, মানুষ আমাকে শিল্পী বলে ডাকে কিনা, কাগজ পত্রিকায় শিল্পী নামটা উঠে কিনা দেখি চেষ্টা করে।

তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন- আসলে কি শিল্পকর্মটা আমাকে খুব ভাল লাগে। কে দেখল, কে কে দেখলনা কি হইলনা এটা আমার আসে যায়না। আমার স্বপ্ন এটা। আমি ঢাকায় এতদিন থাকলে হয়ত ভালো জায়গায় যেতে পারতাম কিন্তুু আমি পারি নি সংসারের কারণে, পরিবারের কারণে।” এখন ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বড় করে প্রদর্শণী করতে পারলে আমার সব ইচ্ছে ও স্বপ্ন পুরণ হবে।

আজিজ মামা’র দোকানে ফুচকা খেতে আসা মাহাবুব আনান বলেন, আমি ছোট থেকে আজিজ মামা’র দোকানে চটপটি ফুচকা খাই। অনেক মজাদার ও সুস্বাদু তার হাতের ফুচকা। আজ জানতে পারলাম তিনি সুন্দর চিত্রশিল্পী। তার বাসা গিয়ে চিত্রগুলো দেখার পরে মনে হয়েছে এজন্যই এত সুন্দর ফুচকা বানান তিনি। কারণ তার হাত দুটো দিয়ে আকাঁ ছবিগুলো অসম্ভব সুন্দর। একজন সাধারণ মানুষের মাঝে এমন প্রতিভা লুকিয়ে আছে তাকে দেখে বোঝাই যায় নাই।

আরেক ফুচকা খেতে আসা অভিভাবক শাহদাৎ হোসেন বলেন, আজিজ ভাই এর প্রতিভা হচ্ছে একটি ছাই চাপা আগুন। এটা যে কোন সময় বের হয়ে আসত। আজিজ ভাই এর মত এমন অনেক শিল্পী ঠাকুরগাঁওয়ে আছে যাদের একাডেমিক শিক্ষা নেই কিন্তু সুন্দর আর্ট করেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের কাছে ফুচকা-চটপটি বিক্রয় করে তিনি যেমন বিখ্যাত হয়েছেন। ঠিক তেমনি ছবি আকাঁর মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে প্রশংসা অর্জন তার ইচ্ছা। আর তার এই ইচ্ছা একদিন পুরণ হবে এমটাই মনে করেন ঠাকুরগাঁওবাসি।

এমআই 


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২২ সময় জার্নাল