রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

পরিবারের হাল ধরতে করোনাকালে ব্যবসা শুরু, বছরে আয় ৬ লাখ টাকা

সোমবার, জানুয়ারী ৯, ২০২৩
পরিবারের হাল ধরতে করোনাকালে ব্যবসা শুরু, বছরে আয় ৬ লাখ টাকা

মাইদুল ইসলাম:

করোনাকালে যখন সবার বেহাল অবস্থা। চারদিকে হাহাকার, অর্থনৈতিক সংকট সেসময়ে বেকার বসে না থেকে পরিবারের হাল ধরতে শুরু করেন অনলাইনে বেচাকেনা। করোনায় বাবার চাকরি ছিলনা, পরিবারের ভবিষ্যতে চলবে কি করে? পরিবারের একমাত্র ছেলে হওয়ায় সব চিন্তার ভাড় পড়লো তার ওপরে তাই বসে থাকার উপায় ছিলনা। পড়ালেখার পাশাপাশি শুরু করে দিলেন ব্যবসা। বলছিলাম সরকারি তিতুমীর কলেজের গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শাকিলের কথা। 

করোনাকালে যেভাবে ব্যবসা শুরু করা, কিভাবে সফলতা আসলো, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করেছেন একজনের। বর্তমানে কি নিয়ে কাজ করছেন ইত্যাদি নিয়ে সময় জার্নালের সাথে কথা বলেছেন নারায়ণগঞ্জের ঝালকুড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ শাকিল।

শাকিলের শুরুটা হয় করোনার সময়ে। তিনি জানান, তখন আব্বুর কাজ ছিলোনা। পরিবারের এক মাত্র ছেলে আমি তাই চিন্তা হচ্ছিল সামনে কি হবে, কিভাবে সংসার চলবে, খুব কষ্ট করে তখন ৩টা টিউশনের ব্যবস্থা করেছিলাম, কয়েক মাস পর মনে হচ্ছিল টিউশন এর টাকা দিয়ে কিছুই হচ্ছে না, তাই ব্যবসা করার ইচ্ছা হলো, পরিচিত এক ভাই চায়না থাকতেন, তার সাথে যোগাযোগ করে ইম্পোর্ট করার ব্যাপারে কিছুটা সাহস জুগিয়েছিলাম। 

এরপর শুরু হল মূল কাজ। ফেইসবুক, ইউটিউব এর মাধ্যমে আরও বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করতে থাকি ব্যবসা সম্পর্কিত। তারপর আমার কাজিন জাহিদ ভাইয়ের কাছে ফেসবুক পেইজ, বুস্টিং,ডেলিভারি প্রসেস ইত্যাদি সব কিছু সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জেনে নেই। তারপর আব্বুর কাছ থেকে তার জমানো কিছু টাকা নিয়ে আল্লাহ এর উপর ভরসা করে ব্যবসাতে নেমে পড়ি।

সেসময়ে ২০২০ সালে শাকিলের শুরুটা হয়েছিলো ফেসবুক পেজে ঘড়ি বিক্রির মাধ্যমে। তবে প্রথমবারে শুধু খরচ টাকাটা উঠাতে পেরেছিলেন তিনি। লাভের মুখ না দেখলেও হতাশ না হয়ে কাজ চালিয়ে যান। প্রথমে তখন পুঁজি ছিল ৪০ হাজার টাকা। এখন যা দাঁড়িয়েছে ৬ লক্ষ তে।

তিনি বর্তমানে কাজ করছেন  মোবাইল পকেট প্রিন্টার নিয়ে যেগুলো তিনি চায়না থেকে ইম্পোর্ট করে এনে এখানে অনলাইনে বিক্রি করেন। তার ফেসবুক পেজের নাম Luxurious-পণ্য

শুরুতে লাভের মুখ না দেখলেও বর্তমানে তার আয় বছরে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা। শাকিল জানান, তার এ আয় দিয়ে বর্তমানে নিজের পড়ালেখার খরচ চালিয়ে পরিবারেও সহায়তা করছেন।


মোবাইল পকেট প্রিন্টার

পড়ালেখা ও ব্যবসা একসাথে সমানতালে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব কিনা জানতে চাইলে শাকিল জানান, কিছুটা সমস্যা হত আগে কিন্তু এখন খুব একটা সমস্যা  হচ্ছে না। পেজ মেইনটেইন এর জন্য এক জনকে নিয়োগ দিয়েছি যিনি পেজের দেখাশোনা করছে, তাই আমার খুব বেশি প্রেসার হচ্ছে না। আমি শুধু এখন পেজ বুস্টিং, পেমেন্ট, ডেলিভারি এবং ব্যাংকিং লেনদেন এগুলো দেখছি যা আমার মোবাইলের মাধ্যমেই যেকোনো জায়গায় বসেই করতে পাচ্ছি। নিজের পড়া লেখাও চালিয়ে যাচ্ছি আলহামদুলিল্লাহ।

লেখাপড়ার পাশাপাশি ব্যবসা শুরু করতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের এই তরুণ বলেন,  আপনারা পড়ালেখার পাশাপাশি উদ্দ্যোক্তা হন,কারণ পড়ালেখা শেষ করে আপনি যদি  চাকরিতে জয়েন করেন সেখানে বেশি স্যালারি পাবেননা, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে। যা পাবেন তা দিয়ে কিছুই হবে না, কিন্তু আপনি যদি উদ্যোক্তা হন এবং কঠোরভাবে লেগে থাকেন সফল হবেনই একদিন। নিজে সাবলম্বি হওয়ার পাশাপাশি অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান ও সৃষ্টি করতে পারবেন। তাই পড়ালেখার পাশাপাশি এমন কিছু করেন যা দিয়ে স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় নিজের  খরচ এবং পরিবারে অবদান রাখতে পারবেন। যা ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে অন্য সবার থেকে একধাপ এগিয়ে রাখবে। আর হ্যাঁ, আমি যেহেতু বাইরের দেশ থেকে ইম্পোর্ট করছি তাই এই সকল ব্যাপারে আপনাদের  কিছু জানার থাকলে, আমার সাথে যোগাযোগ করলে সর্বোচ্চ সহোযোগিতা করতে পারবো। ইনশাআল্লাহ।


এমআই 


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৩ সময় জার্নাল