বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১

ঈদ উদযাপনে গ্রামের বাড়ি যেতে ছুটাছুটি করবেন না : প্রধানমন্ত্রী

সোমবার, মে ১০, ২০২১
ঈদ উদযাপনে গ্রামের বাড়ি যেতে ছুটাছুটি করবেন না : প্রধানমন্ত্রী

সময় জার্নাল প্রতিবেদক :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ঈদ-্উল ফিতর উদযাপনে গ্রামের বাড়ি যেতে ছুটাছুটি না করতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। এতে আপনজনের জীবনই হুমকির মুখে পড়বে। নতুন পাওয়া ভারতীয় ভাইরাসের ধরণ থেকে নিজেদেরকে নিরাপদ রাখতে সবাইকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। 

শেখ হাসিনা বলেন,‘ একটা ঈদে কোথাও না গিয়ে নিজের ঘরে থাকলে কি ক্ষতি হয়? আপনারা ছুটাছুটি না করে যে যেখানে আছেন সেখানেই থাকেন। সেখানেই নিজের মত করে ঈদ উদযাপন করুন।’

তিনি বলেন, ‘আমি জানি ঈদের সময় মানুষ পাগল হয়ে গ্রামে ছুটছেন। কিন্তু আপনারা যে একসঙ্গে যাচ্ছেন, এই চলার পথে ফেরি বা গাড়ি যেখানে হোক কার যে করোনাভাইরাস আছে আপনি জানেননা। কিন্তু আপনি সেটা বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন আপনার পরিবারের কাছে। মা-বাবা. দাদা-দাদি যেই থাকুক আপনি তাকেও সংক্রমিত করবেন এবং তাদের জীবনকেও মৃত্যু ঝুঁকিতে ফেলে দেবেন।’

প্রধানমন্ত্রী রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্থ ১ হাজার ৪৪০ মূল বাসিন্দা ও সাধারণ মানুষকে প্লট বরাদ্দ পত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে ভাষণে একথা বলেন।

তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা একটু ধৈর্য্য ধরেন এবং সাথে সাথে নিজের ও পরিবারের ভাল চিন্তা করেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের সময় আপনারা মাস্ক পরে সাবধানে থাকবেন। কারণ নতুন ভাইরাস এসেছে। এটা আরো বেশি ক্ষতিকারক। যাকে ধরে তার সাথে সাথে মৃত্যু হয়। সেজন্য আপনি নিজে সুরক্ষিত থাকেন, অপরকে সুরক্ষা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন রমজান মাস আমরা রোযা রাখছি। রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করেন, এই করোনাভাইরাস থেকে যেন আমাদের দেশ ও মানুষ মুক্তি পায়, আর যেন প্রাণহানি না হয়। কারণ আপনারা দেখেছেন শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ^ব্যাপী আজ করোনায় কত মানুষ মারা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রতিবেশি দেশে প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে। এই প্রতিবেশি দেশে যখন হয় তখস স্বাভাবিকভাবে আমাদের দেশে আসার সম্ভাবনা থাকে। সেজন্য আগে থেকেই আমাদের নিজেদের সুরক্ষিত থাকতে হবে এবং সেভাবে চলতে হবে, যাতে সবাই এই করোনাভাইরাস থেকে বেঁচে থাকতে পারে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সচিব শহীদ উল্লাহ খন্দকার এবং রাজউক চেয়ারম্যান এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড.আহমদ কায়কাউস গণভবন থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদ প্লটের বরাদ্দপত্র গ্রহিতাদের থাতে তুলে দেন। এই প্রকল্পের ওপর অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও চিত্রও প্রদর্শিত হয়।

তিনি বলেন, ‘যাদের এত বিশাল বিশাল অট্টালিকা,বাড়িঘর ফ্ল্যাট সবই আছে তাদের আরো লাগবে কেন? মরলে তো সবাইকে যেতে হবে সেই কবরে। মাত্র সাড়ে তিন হাত জায়গায়। এই ধন সম্পদ কেউ সাথে নিয়ে যেতে পারবে না।এই কথাটা মানুষ কেন ভুলে যায় আমি জানি না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শহর গড়ে তুলতে চাই। আমাদের দেশে যারা বিত্তশালী তারা প্লট কেনেন। ভালো ভালো দৃষ্টিননন্দন বাড়ি ঘর বানান। যখন পূর্বাচল শুরু হলো তখন আমি দেখেছি, গুলশান,বারিধারায় বিশাল বিশাল অট্টালিকা যাদের তাদেরও পূর্বাচলে একটা প্লট না থাকলে নাকি ইজ্জতই থাকে না।এই রকমও কিছু কিছু মানুষের মানসিকতা আমি দেখেছি। কিন্তু যারা সত্যিকারের প্রাপ্য,তারা বঞ্চিত ছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন,‘আমাদের সব সময় একটা প্রচেষ্টা ছিল যে কিভাবে আপনাদের বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তি দেব। আপনারা জমি দিয়েছেন অথচ আপনারা প্লট পাবেন না এটা হতে পারে না।’

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে পূর্বাচলে জাতির পিতার স্মৃতি স্তম্ভ নির্মানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটা প্রকল্প অনুমোদন চেয়ে প্রস্তাব এসেছিল। যার অনুমোদন সরকার প্রধান দেননি বলেও অনুষ্ঠানে জানান তিনি।

তিনি বলেন,সেই ফাইলে আমি লিখে দিয়েছিলাম,এখানকার যারা আদিবাসি তারা প্লট পাবে। তারপর আমি প্রকল্পের অনুমোদন দেব। তার আগে কোন প্রকল্পের অনুমোদন দেব না এবং কিভাবে প্লট বের করবে সেটা যেন মন্ত্রনালয় বা রাজউক খুঁজে বের করে। সেই নির্দেশই আমি দিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন,আমি এইটুকু চাই,বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। যেইটুকু পারি,যেভাবে পারি একটা মানুষকে একটা ঘর,একটা মাথা গোজার ঠাই সেটা আমরা করে দেব এবং প্রত্যেক ঘরেই বিদ্যুৎ থাকবে,আলো জ্বলবে। প্রতিটি পরিবারেই শিক্ষিত মানুষ থাকবে,লেখাপড়া লিখবে।

যুব সমাজকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার প্রত্যয়ের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সেই লেখাপড়া শুধু কেতাবি পড়া না। সাথে সাথে ভোকেশনাল ট্রেনিং ও কারিগরি শিক্ষা নিতে হবে যেন কর্মসংস্থান হয়। শুধু বিএ এমএ পাশ করলে হবে না।

তিনি বলেন, চাকরির পেছনে ঘুরলে হবে না। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। নিজেরা যেন চাকরি দিতে পারে সেভাবে নিজেদেরকে গড়তে হবে। আমরা সেইভাবে এদেশের যুব সমাজকে গড়ে তুলতে চাই।


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.



স্বত্ব ২০২১ সময় জার্নাল | ডেভেলপার এম রহমান সাইদ