বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব অযৌক্তিক ও অবাস্তব। এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকেন।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত শিল্পে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সংক্রান্ত গণশুনাতিতে একথা বলেন তিনি।
বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, শিল্পে আমাদের যখন প্রাকৃতিক গ্যাস দেওয়া হয়, আমরা ১৫ পিএসআই বা ৪০ পিএসআই নিয়ে থাকি কিন্তু ২ বা ৩ পিএসআইর বেশি পাইনি। তিতাসের রিপোর্টে দেখেছি ৪০ শতাংশ সিস্টেম লস, মানে চুরি। গ্যাসের চুরির কারণে বাকি চাপ আমাদের ওপর আসে। এখন উনারা (তিতাস) বলছে, ৭ শতাংশে নামিয়ে এনেছেন।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, নারায়ণগঞ্জে আপনারা দেখবেন হাজার হাজার অবৈধ চুলা, সেগুলো চলছে। সবগুলোর সঙ্গে তিতাস জড়িত। সিস্টেম লস কমালে মূল্যবৃদ্ধির চিন্তা করতে হতো না। এখনো তিতাসের হিসাবে ১৩ শতাংশ সিস্টেম লস। ১ শতাংশ সিস্টেম লস কমালে এক হাজার কোটি টাকা সেফ হয়।
তিনি আরও বলেন, বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানির পর আমদানি মূল্যের ওপর সরকার ভ্যাট বসিয়ে ব্যবসা করছে।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ১২ টাকার গ্যাস আমাদের থেকে ৩০ টাকা নিচ্ছে। এখন ৩০ টাকার গ্যাস যদি ৭৫ টাকা নেওয়া হয়। যদিও বলছে পুরোনো গ্রাহকদের দাম বাড়বে না। কিন্তু আমাদের ক্যাপাসিটি বাড়াতে হলে নতুন সংযোগ নিতে হবে। আমাদের প্রতিযোগিতা বাইরের দেশের সঙ্গে। এখন বেশি দামে গ্যাস কিনলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। তখন আর আমরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবো না।
গণশুনানিতে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, সদস্য (অর্থ, প্রশাসন ও আইন) মো. আব্দুর রাজ্জাক, সদস্য (গ্যাস) মো. মিজানুর রহমান, সদস্য পেট্রোলিয়াম ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, সদস্য (বিদ্যুৎ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার উপস্থিত আছেন।
গণশুনাতিতে ব্যবসায়ী, শিল্প কারখানার মালিক, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা, সাংবাদিক, আইনজীবী, অ্যাক্টিভিস্টসহ আরও অনেকে উপস্থিত আছেন।
এর আগে শিল্পে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনসহ (পেট্রোবাংলা) দেশের ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানি। তাদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে গণশুনানি করে বিইআরসি।
চলতি বছরের শুরুতে পাইকারি গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় পেট্রোবাংলা। এরপর তিতাস গ্যাস কোম্পানিসহ সরকারি ছয়টি বিতরণ কোম্পানি খুচরা গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়ানোর আবেদন করে। আবেদনে শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা ৭২ পয়সা এবং ক্যাপটিভের দাম ৩১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা ৭২ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়।
গ্যাসের দাম বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে জানানো হয়, গ্যাসের দাম বাড়ানো না হলে এলএনজি আমদানি করতে গিয়ে চলতি বছর সরকারকে বিশাল টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদা ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। দেশি গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে আসছে অর্ধেকের মতো। আর ২৫ শতাংশ এলএনজি আমদানি করে জোগান দেওয়া হচ্ছে।
গণশুনানিতে পেট্রোবাংলার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রতি ঘনমিটার এলএনজির বর্তমান আমদানি মূল্য পড়ছে ৬৫ টাকা ৭০ পয়সা। ভ্যাট-ট্যাক্স ও অন্যান্য চার্জ যোগ করলে তা দাঁড়ায় ৭৫ টাকা ৭২ পয়সা। এজন্য দামের পার্থক্য কমাতে গ্যাসের মূল্য বাড়াতে হবে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, দেশি গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ক্রমেই কমে যাওয়ায় শিল্প ও ক্যাপটিভ বিদ্যুতে সর্বাধিক প্রভাব পড়েছে। চাহিদা মেটাতে দেশি গ্যাসের সঙ্গে ২৫ শতাংশ এলএনজি আমদানি করে সরবরাহ করা হচ্ছে। আগামীতে এলএনজি আমদানির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে। পেট্রোবাংলার প্রস্তাব পাওয়ার পর বিইআরসির পক্ষ থেকে বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে প্রস্তাব চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়। কোম্পানিগুলো পেট্রোবাংলার নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রস্তাব জমা দেয়। বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি এখন এসব প্রস্তাব মূল্যায়ন করছে।
এমআই