রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫

স্বপ্নপূরণে অসহায় মানুষের সাথী ‘স্বপ্নপূরণ ফাউন্ডেশন’

শনিবার, এপ্রিল ৫, ২০২৫
স্বপ্নপূরণে অসহায় মানুষের সাথী ‘স্বপ্নপূরণ ফাউন্ডেশন’

মোঃ এমদাদ উল্যাহ, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা):

জয়নাল আবেদীন। একজন ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি। চাঁন্দকরা গ্রামের উত্তরপাড়ার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন কিডনী সমস্যায় ভুগছিলেন। নিজের জমানো টাকা চিকিৎসাকাজে ব্যয় করে নিঃস্ব হয়ে যান। পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য স্মরণাপন্ন হন স্বপ্নপূরণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মোশাররফ হোসেনের কাছে। তিনি স্বপ্নপূরণ ফাউন্ডেশনের সাথে জড়িত শিক্ষাবীদ, সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনের তরুণদের সাথে আলাপ করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে জয়নাল আবেদীন সুস্থ্য আছেন। চিকিৎসা শেষে আবদার করেন বাড়ির পাশে একটি দোকান ঘর দিয়ে তাঁর স্বপ্নপূরণ করতে। সকলের সাথে আলাপ করে জয়নাল আবেদীনকে তাঁর স্বপ্নের ‘দোকান ঘর’ স্বপ্ন ষ্টোর-১ ব্যবস্থা করে দেয় স্বপ্নপূরণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মোশাররফ হোসেন। তিনি দোকানদারি করে পরিবারের সদস্যদের ভরণ-পোষণ করে সংসার জীবন ভালোভাবেই অতিবাহিত করছেন। জয়নাল আবেদীনের মতো হাজার হাজার মানুষের স্বপ্নপূরণের সাথী হয়েছে স্বপ্নপূরণ ফাউন্ডেশন। এ ফাউন্ডেশন পহেলা এপ্রিল পর্যন্ত গত সাত বছরে ১২০টি ইভেন্ট সম্পন্ন করেছে। শতভাগ স্বচ্ছ হিসাব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় সকলের কাছেই গ্রহণযোগ্য ফাউন্ডেশনটি। এ ফাউন্ডেশনের অধিকাংশ অর্থই প্রবাসীরা দান করে। সমাজকল্যাণে ও স্বপ্নপূরণে অসহায় মানুষের সাথী হলেও স্বপ্নপূরণ ফাউন্ডেশনের মত অনেক প্রতিষ্ঠানই রয়েছে সরকারের উৎসাহের বাইরে। সরকারের উচিত, তৃণমূল পর্যায়ে সমাজকল্যাণ ও অসহায় মানুষের কল্যাণে যে সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন কাজ করে তাদেরকে উৎসাহ দেয়া এবং সম্মানিত করা। গত ১৭ বছরে সমাজকল্যাণে কাজ করে এমন সংগঠন ছিল সরকারের আক্রোশের শিকার।

বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে পুরস্কৃত করে আরও জনসম্পৃক্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী শেখ ফরিদ। তিনি বলেন, স্বপ্নপূরণ ফাউন্ডেশনের কয়েকটি ইভেন্টে সরাসরি অংশহণের সুযোগ হয়েছে। সমাজকল্যাণে কাজ করে এমন সংগঠন দেশে খুবই কম পাওয়া যায়। এখানে স্বচ্ছ হিসাবই সকলকে আকৃষ্ট করে। এছাড়া প্রকৃত ব্যক্তিদেরই স্বপ্নপূরণে অংশীদার হয় স্বপ্নপূরণ ফাউন্ডেশন।

স্বপ্নপূরণ ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, মানবতার কল্যাণে স্বপ্ন পূরণের দৃঢ় অঙ্গীকার-এ স্লোগানকে ধারন করে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বপ্নপূরণ ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের ২ এপ্রিল পর্যন্ত চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাসহ উপজেলার তের ইউনিয়ন ছাড়াও দেশের বিভিন্নস্থানে ১২০টি ইভেন্ট সম্পন্ন হয়েছে। ইভেন্টগুলো বাস্তবায়ন করতে রেমিটেন্সযোদ্ধাদের অবদান অপরীসিম। এছাড়া দেশে থাকা শিক্ষাবীদ, সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দায়িত্বরত তরুণদের সুন্দর পরামর্শে সকল কাজ করা হয়েছে। ইভেন্টগুলো হলো; ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল পর্যন্ত ৪টি ইভেন্ট; নব মুসলিম মহিলার জন্য জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের খরচ। আটগ্রামের বিধবা অসহায় মহিলার ঘর সংস্কার। পাটানন্দী গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার ছেলের আলিম পরীক্ষার ফরম পিলাপের খরচ ও খামারপুরস্করণী গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী জাহেরা বেগমকে নতুন ঘর উপহার প্রদান করে।

২০২৪ সালের ২১টি ইভেন্ট; চৌদ্দগ্রাম বালিকা বিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক ছাত্রীর ভর্তি, বই ও ড্রেস ক্রয়। মুন্সিরহাট ইউনিয়নের এক অসহায় মহিলার অপারেশনের জন্য অর্থ হস্তান্তর। বাতিসা ইউনিয়নের চাঁন্দকরা গ্রামের একটি অসহায় পরিবারের ঘর নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা। রমজানে ৭৫ অসহায় পরিবারের মাঝে ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ। করপাটি মসজিদের ইমামের ঘর নির্মাণের জন্য ৬ বান ঢেউটিন প্রদান। ১০ অসহায় সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পানির ব্যবস্থার জন্য পাকা করনসহ টিউবয়েল স্থাপন। গাইবান্ধার একজন অসহায়ের ঘর নির্মাণে ঢেউটিন ক্রয়ের জন্য আর্থিক অনুদান। চাঁন্দকরা গ্রামের একজন অসহায় মানুষের চিকিৎসার খরচ। শুভপুর ইউনিয়নের খামার পুস্করণী গ্রামের অসহায় আমিনের জন্য নতুন ঘর নির্মাণ। ঘোষতল গ্রামের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বিধবা নুরুন নাহার বেগমের জন্য নতুন ঘর নির্মাণ। কোমাল্লা গ্রামের পশ্চিমপাড়া বন্যায় ধষেপড়া আবদুল কাদেরের জন্য নতুন ঘর নির্মাণ। করপাটি গ্রামের লিটনের হার্ট ওপারেশনের জন্য আর্থিক সহযোগিতা। উত্তর শ্রীপুর গ্রামের মোঃ ওয়াসিমের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা। ভয়াবহ বন্যায় চৌদ্দগ্রামের বন্যার্ত ১ হাজার মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ। কিং শ্রীপুর গ্রামের মোঃ স্বপনের ঘর নির্মাণের জন্য টিন ক্রয়ে আর্থিক সহযোগিতা। চাঁন্দিশকরা গ্রামের এক মহিলার চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান ও নব মুসলিম মহিলার জন্য খরচ দেয়া হয়।

২০২৩ সালের ২০টি ইভেন্ট; নানকরা গ্রামের ২টি কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া আবদুল কাইউমের চিকিৎসার খরচ। একজন কামিল পড়ুয়া শিক্ষর্থীর জন্য ২ সেট কিতাব প্রদান। বাতিসা গ্রামের ২টি কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া নাদিম মেম্বারের ছেলে নক্ষত্রের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা। চাঁন্দকরা গ্রামের মনোয়ারা বেগম নামের একজন অসহায় মহিলার ঘর নির্মাণের জন্য ২ বান রঙ্গিন ঢেউটিন প্রদান। ৬৯ দরিদ্র পরিবারের জন্য পুরো রমজান মাসের ইফতার ও সেহেরীর খাদ্য প্রদান। পাঁচরা গ্রামের মোঃ সোহাগের ঘর নির্মাণের জন্য ঘরের চালার ২ বান ও ঘরের বেড়ার ২ বান ঢেউটিন প্রদান। এক অসহায় বোন ও উত্তর বঙ্গের ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত সুরাইয়া বেগমের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা। অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ। চাঁন্দকরা উত্তরপাড়া বেগম আক্তার নামের একজন অন্ধ অসহায় মহিলার জন্য একটি স্যানিটারী টয়লেট নির্মাণ। কালিকাপুর গ্রামের একজন প্রতিবন্ধির ঘর নির্মাণের জন্য ৪ বান ঢেউটিন প্রদান। নানকরা গ্রামের আব্দুল হকের ঘর নির্মাণের জন্য বেড়ার জন্য আড়াইবান টিন প্রদান। নানকরা গ্রামের অসহায় মহিলার ঘর নির্মাণের জন্য সকল মালমাল প্রদান। এইচএসসি পড়ুয়া চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের যাত্রাপুর গ্রামের একজন শিক্ষার্থীর এইচএসসি ফরম পূরনের জন্য আর্থিক সহায়তা। চাঁদপুর, ফরিদগঞ্জ এক-হতদারিদ্র পরিবারের ঘর নির্মাণের জন্য আর্থিক অনুদান। ডিমাতলী প্রকাশ সাহেব নগর গ্রামে জুলফিকায় হায়দার কারিমীয়া মাদরাসার ঘর নির্মাণের জন্য পুরো ঘরের ঢেউটিন প্রদান। দক্ষিণ ফালগুকরা গ্রামের সড়ক দূর্ঘটনায় পঙ্গুত্ববরণকারী আবদুর রাজ্জাকের ঘরে বসে নামাজ পড়ার জন্য একটি নামাজের চেয়ার প্রদান। শ্রীপুর গ্রামের একজন অসহায় মহিলার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা। বাতিসা গ্রামের একজন অসহায় মেয়ের বিয়ের খাবারের সম্পুর্ন মালামাল ক্রয়। উত্তর বঙ্গের একজন অসহায় মেয়ের বিয়ের বর যাত্রীদের খাবারের ব্যবস্থা ও ঘোলপাশা ইউনিয়নের একজন অসহায় ব্যক্তির চোখ অপারেশনের সম্পুর্ন খরচ প্রদান করে।  

২০২২ সালের ২৫টি ইভেন্ট; শ্রীপুর গ্রামের একজন অসহায় মেয়ের চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান। কিডনি রোগে আক্রান্ত জান্নাতুল মারওয়ার চিকিৎসার আর্থিক অনুদান। বিজয়করা সুফিয়া রহমানিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিম খানায় ৫টি হাফেজি কোরআন শরিফ প্রদান। ৬১টি পরিবারের মাঝে পুরো রমজান মাসের ইফতার ও সেহেরি সামগ্রী বিতরণ। কিডনি রোগে আক্রান্ত জান্নাতুল মারওয়ার চিকিৎসার জন্য ২য় ধাপে আর্থিক অনুদান। দৈয়ারা নূরানী হাফেজিয়া মাদরাসা ও এমিখানায় ২০টি কোরআন শরিফ বিতরণ। সেনেরখীল গ্রামের অসহায় মেয়ের বিয়ের খরচ। বসন্তপুর গ্রামের কালাম মিয়ার আগুনে পোড়া ঘর নির্মাণে সাড়ে ৭ বান রঙ্গিন ঢেউটিন প্রদান। ঈদ উপলক্ষে অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ। দৈয়ারা নূরানী হাফেজিয়া মাদরাসায় ৩১টি কোরআন শরিফ বিতরণ। বিজয়করা সুফিয়া রহমানিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিম খানায় ঈদ উপলক্ষে ৪ জন এতিমের জন্য ৪টি পায়জামা ও পাঞ্জাবী প্রদান। বাতিসা গ্রামের মাদরাসার দাখিলে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর জন্য একসেট গাইড প্রদান। খিল্লাপাড়া ইমদাদুল উলূম মাদরাসায় একটি বড় পাখা প্রদান। ধনুসাড়া তা’লিমুল কুরআন আদর্শ নূরানী মাদরাসার কোরআনে হাফেজগনের মাঝে ৬০পিচ কুরআন শরীফ বিতরণ। বসন্তপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিনের স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান। পাটানন্দী গ্রামের সৌদি আরবে মৃত্যুবরণকারী ওমর ফারুকের পিতাকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে গরু ও গরুর খাদ্যের জন্য নগদ অনুদান। জঙ্গলপুর গ্রামের আবদুল লতিফ ভূঁইয়ার মেয়ের বিয়ের খরচের জন্য আর্থিক অনুদান। দূর্গাপুর গ্রামের এক অসহায় নারীকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে একটি সেলাই মেশিন প্রদান। আমজাদের বাজারস্থ দূর্গাপুর গ্রামের আইডো’র ঘর সংস্কারের জন্য ২ বান ঘরের চালার ঢেউটিন। হাড়িসর্দার বাজারের পাশে দিঘীর পাড়ের একটি অসহায় পরিবারের ঘর নির্মাণের জন্য ৩ বান ঢেউটিন প্রদান। বশকরা গ্রামের এক মেয়ের বিয়ের খরচের জন্য আর্থিক অনুদান। সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হওয়া বৈদ্দেরখীল গ্রামের আব্দুল্লাহ আল ফারুক পিয়াসের চিকিৎসার জন্য অর্থ হস্তান্তর। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সিলেট বিভাগের জগন্নাথপুর ও ভারতের সিমান্তবর্তী মেঘালয়ের পাশে লক্ষীপুর ইউনিয়নের ৯০০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ। খাসপাড়ার একজন অসহায় মহিলার ঘর সংস্কারের জন্য ২বান ঢেউটিন প্রদান ও চাঁন্দকরা একজন নিঃস্বন্তান মহিলার ঘর সংস্কারের জন্য ২ বান ঢেউটিন প্রদান করে।  

২০২১ সালে ১৩টি ইভেন্ট: উত্তর বাবুর্চি মাদরাসায় ইসলামিয়া দারুল উলুম ও এমিখানায় ৩৪টি কোরআন শরিফ বিতরণ। ৩টি পরিবারকে স্বাবলম্বী করার লক্ষে ৩টি সেলাই মেশিন বিতরণ। রমজান উপলক্ষে ৯৫টি পরিবারের পুরো এক মাসের ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ। চাঁন্দকরা গ্রামের জয়নাল আবেদীনের পিত্তথলী ও কিডনি অপারেশনের জন্য অর্থ হস্তান্তর। পাটানন্দী গ্রামের অসহায় এক মেয়ের বিয়ের জন্য আর্থিক অনুদান। চাঁন্দকরা গ্রামের একজন অসহায় মহিলার ঘর নির্মাণের জন্য দেড় বান ঢেউটিন ও ৫পিচ রেজিং প্রদান। বাতিসা উত্তর পাড়ার অসহায় সোনিয়ার ঘর সংস্কারের জন্য মেস্ত্রী খরচ প্রদান। চাঁন্দকরা গ্রামের জয়নাল আবেদীনকে স্বাবলম্বী করার জন্য স্বপ্ন ষ্টোর-১ প্রদান। দক্ষিণ ফালগুনকরা গ্রামের সড়ক দূর্ঘটনায় পাঁ হারানো আবদুর রাজ্জাককে একটি হুইল চেয়ার প্রদান। লুদিয়ারা গ্রামের এক অসহায় সিএনজি চালকের মেয়ের বিয়ের জন্য আর্থিক অনুদান। পূর্ব চাঁন্দিশকরা গ্রামের একজন অসহায় ক্যান্সারে আক্রান্ত মহিলার চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান ও করপাটি গ্রামের একজন অসহায় মহিলার চিকিৎসায় খরচ প্রদান করে।

২০২০ সালে ২২টি ইভেন্ট: জন্মান্ধ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান। শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে পাটানন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা সামগ্রী বিতরন। করোনা মহামারীতে মসজিদের মুসল্লিদের হাত দোয়ার জন্য ৩২টি মসজিদে হ্যান্ড ওয়াশ লিকুইট বক্স স্থাপন ও লিকুইট প্রদান। ১ম ধাপে করোনা মহামারীতে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় ও হতদরিদ্র ৫৭টি পরিবারের মাঝে খাদ্য ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ। ২য় ধাপে করোনা মহামারীতে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় ও হতদরিদ্র ১৫০টি পরিবারের মাঝে খাদ্য ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ। চৌদ্দগ্রাম উপজেলাব্যাপী করোনা রোগীদের ১৪টি অক্সিজেন সিলিন্ডারের ম্যাধ্যমে অক্সিজেন সেবা প্রদান। বশকরা গ্রামের অসহায় পেয়ার আহাম্মেদের এপেন্ডিসাইটিস অপারেশন ও ওষুধের খরচ বহন। ৩২টি মসজিদে পূর্বে দেয়া হ্যান্ড ওয়াশ লিকুইড বক্সে লিকুইড রিফিল। সড়ক দূর্ঘটনায় আহত নাঈমের চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান। পূর্ব আটগ্রামে প্রতিবন্ধী আরিফ হোসেনকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে একটি বাছুরসহ গাভী প্রদান। ছাতিয়ানি গ্রামের একজন অসহায় মহিলার ঘরের বেড়ার জন্য ২ বান রঙ্গিন ঢেউটিন প্রদান। লক্ষীপুর গ্রামের ক্যান্সারে আক্রান্ত রজ্জবের নেছার চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা। বৈদ্দেরখীল গ্রামের সুমি আক্তার নামের এক মেয়েকে সেলাই মেশিনসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদী প্রদান। চাঁন্দকরা গ্রামের অটো চালক মোঃ ইউছুফের ঘর নির্মাণের জন্য ঢেউটিন প্রদান। বসন্তপুর গ্রামের মমতাজ উদ্দিন ভূঁইয়ার স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত রফিজা বেগমের চিকিৎসার জন্য দুই ধাপে আর্থিক অনুদান। নাটাপাড়া গ্রামের হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যাক্তির অপারেশনের জন্য আর্থিক অনুদান। ছাতিয়ানি গ্রামের এক অসহায় এইচএসসি ১ম বর্ষের ছাত্রীকে এক সেট বই প্রদান। কালিকসার গ্রামের অসহায় মহিলার ঘর নির্মাণের জন্য ঢেউটিন ও মস্কাসহ প্রদান। দেড়কোটা গ্রামের এতিম মেয়ের বিয়ের জন্য আর্থিক অনুদান। একজন অসহায় মায়ের শিশু বাচ্চার খাবার ক্রয়ের জন্য আর্থিক অনুদান ও চৌদ্দগ্রাম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের একজন অসহায় ছাত্রীর ভর্তির জন্য খরচ প্রদান করে।

২০১৯ সালে ১৫টি ইভেন্ট: সোনাপুর গ্রামের মরনব্যাধি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত কাজী মোঃ শাহ আলমের জন্য অর্থ হস্তান্তর। ৫৭টি অসহায় পরিবারের মাঝে পুরো রমজান মাসের ইফতার বিতরন। খিরণশাল গ্রামের মরনব্যাধি ক্যান্সারে আলিশা আদনিন তানহার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা। চন্ডিপুরের নব মুসলিম পূর্বের নাম শ্রী জনারধন চন্দ্রপাল বর্তমান নাম মোঃ জয়নাল আবদীনের ঘর নির্মাণের জন্য ২ বান টিন প্রদান। পূর্ব চান্দিশকরা গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার পরিবারের ঘর সংস্কারের জন্য ২ বান টিন প্রদান। কালকোট গ্রামের এক এতিম মেয়ের বিয়ের সম্পুর্ন খরচ। করপাটি গ্রামে সাহিদা বেগমের ঘর সংস্কারের জন্য ২বান টিন ও ৫পিচ মস্কা প্রদান। চান্দিশকরা গ্রামের গোবিন্দ মজুমদারের ছেলের ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রতীক মজুমদারের চিকিৎসার জন্য অর্থ প্রদান। ফেলনা গ্রামে আবদুল হালিমের ঘর নির্মাণের জন্য ২বান রঙ্গিন ঢেউটিন প্রদান। দৌলতপুর গ্রামে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত রুমিনা বেগম চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান। কোমাল্লা গ্রামের মেধাবী ছাত্র মোঃ আবদুল হালিমের মেডিকেল ভর্তির জন্য সহযোগিতা। পাটানন্দী গ্রামের মরনব্যাধি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত নজরুল ইসলাম মানিকের জন্য অর্থ সহায়তা। একই গ্রামের পশ্চিমপাড়া সড়কের ২ পাশে ৫০০টি বৃক্ষপোন। পূর্ব আটগ্রামের প্রতিবন্ধী আরিফ হোসেনের ডাক্তার পরামর্শ অনুযায়ী মেট্রেস ক্রয় ও চিওড়া সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী জামাল উদ্দিনের ফরম ফিলাপের খরচ প্রদান।

এদিকে ২ এপ্রিল বুধবার স্বপ্নপূরণ ফাউন্ডেশনের নতুন ঘর পেয়ে খুশি খামার পুস্করণী গ্রামের বাক প্রতিবন্ধী জাহেরা বেগম। তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে এ ফাউন্ডেশনের সাথে জড়িত সকলের জন্য দু’হাত তুলে দোয়া করেন।

 স্বপ্নপূরণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মোশাররফ হোসেন বলেন, সর্বপ্রথম আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। প্রবাসী ও দেশে থাকা মানবিক মানুষদের অনুদানে পরিচালিত হচ্ছে স্বপ্নপূরণ ফাউন্ডেশন। সব মানবিক মানুষই এ সংগঠনের অভিভাবক। আমরা প্রতিটি ইভেন্টে প্রকৃত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি এবং শতভাগ স্বচ্ছ হিসাবের মাধ্যমে সংগঠন পরিচালনা করছি। মানবিক কাজে সারাদেশের এরকম সংগঠনগুলোকে সরকারের উৎসাহ দেয়াসহ সার্বিক সহযোগিতা করার দাবি জানাচ্ছি।

এমআই


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৫ সময় জার্নাল