মো. আবদুল্যাহ চৌধুরী, নোয়াখালী প্রতিনিধি:
ভাগ্যের চাকা পরিবর্তনের লক্ষ্যে এবং পরিবার পরিজন সহ সকলকে ভালো রাখার জন্য দেশ ছেড়ে ২০২১ সালে ওমানে পাড়ি জমান তোফাজ্জল হোসেন রাকিব নামে ২৫ বছর বয়সী এক যুবক। ইতিমধ্যে তার পরিবার ও তার দাবি, বাড়িতে রেখে যাওয়া গৃহবধূ পরকীয়া প্রেমিকের সাথে স্বর্ণালংকার সহ টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, ২০১৯ সালে পারিবারিক ভাবে নোয়াখালী কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চিরিঙ্গা গ্রামের বেলালের বাড়ির বেলাল হোসেনের ছেলের সাথে সুবর্ণচর উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের কাজী মুখলেস গ্রামের শেরু সওদাগ বাড়ির ফজর আলী মিলনের মেয়ে রেহানা আক্তারের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের ছয় বছরে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের বাবা মা হন তারা।
রাকিবের মা বাবা জানান, বিভিন্ন অজুহাতে বউ বাড়ী থেকে বাহির হয়ে চলে গিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন, তবে হটাৎ করে গত ২৭ আগস্ট বুধবার সকালে টিকটকে পরিচয় হওয়া ছেলের সাথে পালিয়ে যায়। ছেলেটি বিয়ে করার পর থেকে তাদের সংসার খুব ভালোই চলছিলো, জীবিকার তাগিদে সবাইকে রেখে ওমানে যান রাকিব, তারপর থেকে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করেন রাকিবের বউ, পরে তারা আলাদা হয়ে শ্বশুর বাড়িতে থাকেন, বউয়ের নামে যায়গা কেনার সময় নিষেধ করেন এলাকার মানুষ ও রাকিবের বন্ধুজন। কিন্তু শান্তির কথা চিন্তা করে রাকিব কারো কথা না শুনে সেখানে সব করার পরে এখন শুনা যাচ্ছে তার বউ পরক্রিয়া প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়েছে।
মেয়ের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে রাকিবের শ্বাশুড়ি বলছেন উল্টো কথা, বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন ভাবে মেয়েকে নির্যাতন করে থাকেন প্রবাসী রাকিব ও তার বাবা মা, অন্যদিকে সে ভাগিয়ে যাওয়ার কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলেও জানান তারা, প্রথমে যদিও রাকিবের শ্বাশুড়ি ক্ষেপে গিয়ে বেয়াইকে গালমন্দ করেন, পরে সে এই সমস্ত কথা গুলো বলেন, তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম ভাইয়ের বাসায় চলে গেছেন বাচ্চাদের রেখে, ভিডিও কলে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলিয়ে দিবেন বলেও চ্যালেন্স ছুড়ে দেন।
পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসীর স্ত্রী রেহানা উল্টো অভিযোগ করে বলেন, স্বামীর বিভিন্ন অত্যাচার ও মানসিক চাপে পড়ে চট্টগ্রাম ভাইয়ের বাসায় গিয়েছেন, অন্যদিকে স্বামী তাকে মোবাইলে কলের মাধ্যমে কয়েকবার তালাক দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন ঐ প্রবাসীর বউ, তাই তিনি অবৈধ ভাবে সংসার করতে চান না। আর কখনো স্বামীর বাড়িতে যাবেন না বলে ভিড়িও কলে এই প্রতিবেদককে জানিয়ে দেন প্রবাসীর স্ত্রী রেহানা।
কল করে প্রবাসী রাকিবের কাছে তার বউ পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিয়ের পর থেকে বউ কর্তৃক শান্তিতো দূরের কথা কখনো একটু ভালো কথাও পায়নি, সব সময় টাকা পয়সা সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র চেয়ে বসতেন, না দিলে ঝগড়া লেগে থাকতো তাদের সংসারে, শ্বাশুড়ি কল করে জানিয়েছে তার মেয়ে কোন এক লোকের সাথে চলে গেছে, স্ত্রী এই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা নষ্ট করার অভিযোগও করেন প্রবাসী রাকিব, যাওয়ার সময় নগদে ৫ লক্ষ টাকা সহ স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এখনো নিজের ভুল সংশোধন করে বাড়িতে ফিরে আসলে বাচ্চাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বউকে মেনে নিবেন বলেও জানান প্রবাসী রাকিব।
এমতাবস্তায়, এলাকাবাসী ও রাকিবের পরিবার এবং রাকিবের দাবী, সকল সমস্যার সমাধান করে যেনো দুই পরিবার, মাসুম বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে রেহানা যেনো বাড়িতে ফিরে আসেন। আর কোন প্রবাসী যেনো এমন হয়রানির শিকার না হন এমনটাই আশা সবার।
এমআই