রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

তারুণ্যের হৈমন্তী উৎসবে শীতের পিঠা আর গ্রামীণ সাজে সাজলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

রোববার, নভেম্বর ৩০, ২০২৫
তারুণ্যের হৈমন্তী উৎসবে শীতের পিঠা আর গ্রামীণ সাজে সাজলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

তালুকদার হাম্মাদ, ইবি প্রতিনিধি:

ঘড়ির কাটা সকাল ১১টা ছুই ছুই। কুয়াশা কেটে মৃদু রোদের দেখা মিলেছে। এরমধ্যেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় কিছু শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে তৈরি করেছে উৎসবমুখর পরিবেশ। কেউ নিজ হাতে তৈরি পিঠার স্টল সাজাচ্ছেন, কেউবা প্রাঙ্গণের বিভিন্ন কোণে ছবি তুলছেন, আবার কেউ ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে ব্যস্ত আর কেউ কেউ বসে বই পড়ছেন। 

বলছি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক সংগঠন তারুণ্য কর্তৃক আয়োজিত হৈমন্তী উৎসবের কথা। শীতের পিঠা ও গ্রামীণ সাজসজ্জায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো এ উৎসবের আয়োজন করেছে সংগঠনটি। রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তারা এ আয়োজন করে।

উৎসবস্থলে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের পিঠার জন্য একটি এবং খিচুড়ির জন্য আরেকটি স্টল দেয় সংগঠনটি। স্টলে পুলি, দুধ, চিতই, নকশি পিঠা, জামাই পিঠা, বাহারি এসব শীতের পিঠার সঙ্গে খিচুড়ি, আলুর চপ, মরিচ ভর্তা ও ডিমের দো-পেঁয়াজ দিয়ে খিচুড়ির আয়োজন করেন তারা।

এদিকে এক কোণে সাজানো রিভিউ বোর্ডে শিক্ষার্থীরা লিখেছেন নিজেদের অনুভূতি। তারা লিখেছেন, “এরকম আনন্দমুখর আয়োজন আরও চাই”। “শীতের রিক্ততার মাঝে তারুণ্যের উৎসব বসন্তের আভাস দেয়”, “সাজ সজ্জা খুবই সুন্দর, বিশেষ করে বইয়ের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি।” কেউ কেউ রসিকতার ছলে লিখেছেন, “জামাই পিঠা আমার জামাই থেকেও মিঠা” এবং “সুন্দরী আপুদের রান্না খারাপ হতেই পারে না।”


আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হেমন্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আনন্দঘন ও নিরাপদ মিলনমেলার পরিবেশ তৈরি করতেই তাদের এ উদ্যোগ। আয়োজনে খাবারের সাজসজ্জা থেকে শুরু করে পুরো পরিবেশেই গ্রামীণ ছোঁয়া নিয়ে আসেন তারা। এছাড়া শিক্ষার্থীরা স্মৃতি ধরে রাখতে পারে এজন্য বিশেষ ফটোফ্রেম ও ফটো কর্নারেরও ব্যবস্থা করা হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা করেন, তারুণ্যের এই হৈমন্তী উৎসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে একটি সুন্দর ও স্থায়ী রং যোগ করবে।


উৎসবে এসে আল ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের শিক্ষার্থী সানজামুল আহমেদ অপু বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'তারুণ্য' আজ এক সুন্দর হৈমন্তী উৎসবের আয়োজন করেছে। এই উৎসবে দুপুরের খাবার ও শীতকালীন পিঠাপুলি পরিবেশনের পাশাপাশি তারা ক্যাম্পাসে বই পড়ার অভ্যাস বাড়াতে যে দৃষ্টিনন্দন 'উন্মুক্ত লাইব্রেরি' তৈরি করেছে সেটি আমার কাছে বেশি ভালো লেগেছে। এই ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য, সজীবতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা সবার মাঝে আনন্দ ও সমন্বয় সৃষ্টিতে সহায়ক।


তারুণ্যের সাধারণ সম্পাদক ইসতিয়াক আহম্মেদ হিমেল বলেন, “সৃজনশীলতা, বন্ধুত্ব এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে তারুণ্যের পক্ষ থেকে এই হৈমন্তী উৎসব ১৪৩২-এর আয়োজন করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ, আনন্দঘন এবং উন্মুক্ত পরিবেশে উৎসবটা যাতে পালন করতে পারে। আমরা এখানে বিভিন্ন খাবারের আয়োজন করেছি। পাশাপাশি আমরা ফটোফ্রেমের ব্যবস্থা করেছি, এগুলির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এই উৎসবটাকে দীর্ঘদিন ধারণ করতে পারে। সার্বিকভাবে আমরা আশাবাদী যে, তারুণ্যের এই হৈমন্তী উৎসব ১৪৩২ একটি সাংস্কৃতিক চর্চায় একটি রঙিন অধ্যায় হিসেবে আবির্ভূত হবে।”

এমআই


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৫ সময় জার্নাল