বিনোদন ডেস্ক:
টানটান উত্তেজনা আর আবেগঘন মুহূর্তের মধ্য দিয়ে শেষ হলো জনপ্রিয় মার্কিন সায়েন্স ফিকশন হরর সিরিজ 'স্ট্রেঞ্জার থিংস'। দীর্ঘ ১০ বছরের রোমাঞ্চকর যাত্রার ইতি টেনে মুক্তি পায় এর দুই ঘণ্টার সমাপনী পর্ব।
সিরিজটি দেখার জন্য বিশ্বজুড়ে ভক্তদের এতটাই চাপ ছিল যে মুক্তির পরপরই সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের সার্ভার।
গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টায় শেষ পর্বটি নেটফ্লিক্সে আসার সঙ্গে সঙ্গেই হুমড়ি খেয়ে পড়েন দর্শকরা। অতিরিক্ত ট্রাফিকের কারণে অনেক দর্শক 'এরর' মেসেজ দেখতে পান, যা বড় কোনো সিরিজ মুক্তির সময় নেটফ্লিক্সে প্রায়ই ঘটে থাকে। তবে দ্রুতই সমস্যাটি সমাধান করা হয়।
ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের কাল্পনিক শহর হকিন্সের গল্প নিয়ে ২০১৬ সালে শুরু হয়েছিল সিরিজটি। এর মাধ্যমেই রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠেন মিলি ববি ব্রাউন। সিরিজের অন্যান্য প্রধান চরিত্রে ছিলেন উইনোনা রাইডার ও ডেভিড হারবার।
সিরিজের এই শেষ পর্বটির শিরোনাম ছিল 'চ্যাপ্টার এইট: দ্য রাইটসাইড আপ'। শেষ পর্বটি দেখার সময় দর্শকরা যেমন উত্তেজনায় কুঁকড়ে ছিলেন, তেমনি প্রিয় চরিত্রগুলোর পরিণতি দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অনেকে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন শহরের সিনেমা হলে এই সমাপনী পর্বের বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে সিরিজের অভিনয়শিল্পীরাও উপস্থিত হয়ে ভক্তদের সঙ্গে শেষ মুহূর্তগুলো উদযাপন করেন।
ভক্তদের চুলচেরা বিশ্লেষণ আর 'ভুলের' ভিড়ে সমাপ্তি
আশির দশকের আবহে তৈরি অতিপ্রাকৃত এই সিরিজটি নিয়ে নেটফ্লিক্স এবং এর নির্মাতা 'ডাফার ব্রাদার্স'-এর ওপর প্রত্যাশার চাপ ছিল আকাশচুম্বী। যেকোনো জনপ্রিয় সিরিজের ইতি টানা সব সময়ই এক কঠিন চ্যালেঞ্জ; কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অগণিত ভক্তের দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর সমালোচকদের কড়া নজর।
শেষ সিজনটি চলাকালে ভক্তরা সিরিজের প্রতিটি দৃশ্য এবং এর আগের সিজনগুলো নতুন করে বিশ্লেষণ করেছেন। 'আপসাইড ডাউন'-এর রহস্য কীভাবে শেষ হবে, তা নিয়ে চলেছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এমনকি চিত্রনাট্যের ছোটখাটো ভুলগুলোও এড়াতে পারেননি সচেতন দর্শকরা।
যেমন, আশির দশকের প্রেক্ষাপটে দেখানো একটি দৃশ্যে হলি হুইলারের জ্যাকেটে 'আন্ডার আর্মার' ব্র্যান্ডের লোগো দেখা গেছে, অথচ এই ব্র্যান্ডটির জন্মই হয়েছে ১৯৯৬ সালে! এ ছাড়া উইল বায়ার্সের একটি বিশেষ দৃশ্য নিয়েও দর্শকরা তাদের খুঁতখুঁতে স্বভাবের পরিচয় দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিরিজটির শেষ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার কোনো কমতি ছিল না। সিরিজে বেশ কয়েকবার ঘড়ির কাঁটার শব্দ বা দৃশ্য থাকায় অনেকেই ধারণা করেছিলেন, এতে 'টাইম ট্রাভেল' থাকবে। আবার কোন জনপ্রিয় চরিত্রের মৃত্যু হবে, তা নিয়ে চলেছে বাজির লড়াই। কেউ কেউ আবার গল্পের অসংগতিগুলো ঢাকতে ভিলেন 'ভেকনা'র 'মাইন্ড কন্ট্রোল' নিয়ে নানা অদ্ভুত তত্ত্ব দাঁড় করিয়েছিলেন।
শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, ভক্তদের করা অনেক অনুমান হুবহু মিলে গেছে, আবার অনেকগুলো থেকে গেছে পুরোপুরি ধরাছোঁয়ার বাইরে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সিরিজের এই মহাকাব্যিক সমাপনী পর্বটি বড় পর্দায় দেখার সুযোগ করে দিয়েছিল নেটফ্লিক্স। লস অ্যাঞ্জেলেসে বৃষ্টি উপেক্ষা করে হলিউড বুলেভার্ডের 'দ্য ইজিপশিয়ান থিয়েটার'-এর সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন শত শত ভক্ত। এটি নেটফ্লিক্সের নিজস্ব প্রেক্ষাগৃহগুলোর একটি।
ওটিটি জায়ান্ট নেটফ্লিক্স বর্তমানে 'ওয়ার্নার ব্রোস' কেনার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এরই মধ্যে তারা ১৯২২ সালের ঐতিহাসিক এই প্রেক্ষাগৃহটি সংস্কার করে নতুন রূপ দিয়েছে, যা এখন বড় বড় প্রিমিয়ার ও বিশেষ প্রদর্শনীর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রদর্শনী শুরুর অপেক্ষায় যখন সবাই প্রেক্ষাগৃহে বসে ছিলেন, তখনো ভক্তদের মধ্যে চলছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। সবার মুখে একটিই প্রশ্ন—কে মরবে আর কে বাঁচবে? সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছিল ভক্তদের প্রিয় চরিত্র 'স্টিভ হ্যারিংটন'কে নিয়ে। স্টিভ শেষ লড়াইয়ে বেঁচে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে ভক্তদের উৎকণ্ঠা ছিল দেখার মতো।
হাতে ডেমোগরগনের পুতুল নিয়ে লবিতে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন ডায়ানা এসপিনোজা। তিনি পরে এসেছিলেন বিশাল এক 'মাইন্ড-ফ্লেয়ার' থিমের পোশাক। ডায়ানা বলেন, 'আমি নিজের চোখের পানি আটকে রাখতে পারিনি!'
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নানা জল্পনা-কল্পনা ও আগাম খবর থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন তিনি, যাতে শেষ পর্বটি দেখে চমকে যেতে পারেন। প্রেক্ষাগৃহে বসে অন্য ভক্তদের সঙ্গে মিলে চিৎকার করা আর কান্না করার অভিজ্ঞতাকে তিনি 'বাড়তি পাওনা' বলে বর্ণনা করেন।
ডায়ানার মতে, 'আমি এই সমাপ্তিতে মুগ্ধ। এর চেয়ে ভালো কোনো শেষ হতে পারত না। সবাই যেমনটা চেয়েছিলেন, এটি তেমনি এক আবেগপূর্ণ ও সুখকর সমাপ্তি।'
এমআই