ইসাহাক আলী, নাটোর প্রতিনিধি:
শোকে মুহ্যমান পরিবারে যখন লাশের দাফনের প্রস্তুতি চলছিল, শেষ বিদায়ের জন্য আত্মীয়স্বজন জড়ো হচ্ছিলেন; ঠিক তখনই এমন এক দৃশ্যের মুখোমুখি হয় পরিবার, যা তাদের শোককে আরও গভীর ও বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয়। নিহত সেন্টুর লাশের সঙ্গে দুটি পায়ের পরিবর্তে ছিল তিনটি পা। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সালাইনগর গ্রামে। ওই দিন সকালে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া এলাকায় বালুবাহী ট্রাকচাপায় নিহত চারজনের একজন ছিলেন সেন্টু (৪৫)।
নিহত সেন্টুর স্বজনরা জানান, সকালে কলা কেনা-বেচার জন্য বেরিয়ে যান সেন্টু। এরপর পার্শ্ববর্তী পুঠিয়ার ঝলমলিয়ায় দূর্ঘটনার শিকার হয়ে তিনিসহ ৪ জন ঘটনাস্থলে মারা যান। দুর্ঘটনার পর পুঠিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ লাশ হস্তান্তর করে পরিবারের কাছে। লাশ বাড়িতে আনার পর গোসলের প্রস্তুতির সময়ই ধরা পড়ে অস্বাভাবিক এই বিষয়টি। প্যাকেট খুলে তারা তিনটি বিচ্ছিন্ন পা দেখতে পান। বিষয়টি তাদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।
স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন ঝন্টু আলী বলেন, লাশের প্যাকেট খুলেই তিনি দুইটি পায়ের জায়গায় তিনটি পা দেখে পরিবারকে জানান। পরে তারা জানতে পারেন, একই দুর্ঘটনায় রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার আহত রায়হান হোসেন নামের এক ব্যক্তির দুইটি পা-ই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিনি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রায়হানের পরিবারের সদস্যরা বিচ্ছিন্ন পা দুটির সন্ধান করছিলেন।
নিহত সেন্টুর চাচাতো ভাই কামরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ মাধ্যমে জানতে পারি আহত একজনের পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তখন বুঝতে পারি অতিরিক্ত পা সেই ব্যক্তির। পরে পুলিশ দুই পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমন্বয় করে অতিরিক্ত পা-টি নিয়ে যান।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর পুঠিয়ার ঝলমলিয়া এলাকায় বালুবাহী ট্রাকচাপায় ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। দ্রুত লাশ উদ্ধার করে সরিয়ে নেওয়ার সময় হয়তো এমন ভুল হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এমআই